মায়ের সঙ্গে কথা…

ফেইসবুক এর গরম  আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতীকক্রিয়া।

 সুলতানা শিরীন সাজি

সুলতানা শিরীন সাজি

কালকে মাকে দেখলাম।
মায়ের সঙ্গে প্রতিদিন কথা বলা হয়না আগের মত।
বাসার ফোনটা নষ্ট থাকে বেশির ভাগ সময়। শিউলীকে ফোন করে খবর নেই ।দু’দিন ওর ফোনেও লাইন পাইনা।
ভাইজান ব্যস্ত মানুষ। সময় মিলিয়ে ফোন করা হয়না। ভাবীও ঢাকায়।
কাল ফেইসটাইমে ভাইজানের সঙ্গে কথা হলো।ভাইজান বলো,আগে মায়ের সঙ্গে কথা বল।
মাকে দেখলাম অনেকদিন পর।আপা হজ্বে যাওয়ার পর স্কাইপে আর দেখা,কথা হয়না মায়ের সঙ্গে। ঘুমাতে গেছিল মা। বেশিক্ষন কথা হলোনা। আর মা আজকাল টুকটাক কুশলাদি ছাড়া তেমন কোন কথাই বলেন না। মায়ের মুখেরদিকে তাকিয়ে বুকের ভিতর কেমন করে উঠলো।এগার মাস আগে মাকে দেখে এসেছি। ছুঁয়ে এসেছি।
ভাইজানের সঙ্গে অনেকদিন পর অনেক কথা হলো। খুব ভালো লাগলো। ভাইজানের কবিতার বই ছাপানোর কথা।গাইবান্ধার কবি সরোজ দেবের কথা। ভাইজান বললো ,লেখা পাঠিয়ে দে।তোর বই ও বের হোক।
চোখে লেগে থাকলো মায়ের সেই মুখ। মায়ের মাথার উশকো খুশকো চুল। মনেহলো কতদিন ভালো করে তেল দেয়নি মা।হঠাৎ মনেহলো কেন এতদুরে আছি। কেন চাইলেই সবাই একসঙ্গে থাকতে পারিনা।
কেনো সব আপন মানুষ গুলো এত দুরের হয়ে আছি!
কেনো চাইলেই পন্ডস ক্রীম দু’হাতে নিয়ে মায়ের মুখে মাখিয়ে দিতে পারিনা,মায়ের চুলে তেল দিতে পারিনা!…ছোটবেলায় মা চুলে তেল লাগিয়ে দিয়েছেন কত!
সকালবেলা শিউলীকে ফোনে পেলাম।
“শিউলী ,মায়ের চুলে একটু তেল দিয়ে দিস তো।” ও বলে,”দেই তো খালা। চুল গুলো কেমন ছোট হয়ে গেছে।বেঁধে রাখলেও থাকেনা।”
ও আমাকে কত গল্প করে।মা অনেকবছর কোন শক্ত খাবার খেতে পারেননা। ব্লেন্ডার এ কি কি খাবার ব্লেন্ড করে দেয় সেই কথা বলে। ভাইজানকে কি মাছ রান্না করে দেয় ওর নিজের সংসার।ওর বাচ্চাদের গল্প ক

shazi-2

আমার মা

রে। আরো ব্যক্তিগত অনেক কথা ।শেষে বলে ,”চিন্তা করেন না খালা। নানী ভালো আছে।”
আমি বলি ,চিন্তা করিনারে শিউলী।তোরা আছিস ।মাকে দেখিস।
অপরাধ বোধে ভুগি।কিচ্ছু করতে না পারার কষ্টে ভুগি।
দেশে গেলে মায়ের কাছে বসে থাকি। কথা বললে উত্তর দেন। কখনো দেননা। প্রতিদিনের পেপার পড়েন নিয়মিত।
নিজের সবকাজ একা একা করেন। এই স্বনির্ভরতাটুকু খুব দরকার, সুস্থ থাকার জন্য।
আমাদের আশির্ধ মা, আমাদের শিক্ষক,যার লেখা অক্ষরের উপর পেন্সিল ঘষে লিখতে শেখা। কথা বলতে শেখা।
যার কাছে বই পড়তে শেখা। আবৃত্তি করতে শেখা।যার কাছে ভালোবাসতে শেখা।
আমার মায়ের আলমারী ভর্তি শাড়ি থাকেনি কোনদিন। একটা শাড়ি নতুন পেলে দুইটা দান করেছেন। ভাইজান বলে, মা হলো একটা মিশন। একটা এনজিও।যিনি দু’হাত দিয়ে শুধু দিতে জানেন।
ছোটবেলায় মা বলতেন, ভালোবাসা হলো সবচেয়ে সুন্দর অনুভব।
মানুষকে ভালোবাসতে পারার মত আনন্দের কিছু নেই।
মানুষকে দিতে পারার মত আনন্দের কিছু নেই।
আমার ভাবতে ভীষন ভালো লাগে মা ,আমি তোমার মেয়ে। তোমার হাতের তালুর সমান সেই ছোট্ট মেয়ে,যার বাঁচার কোন সম্ভাবনা ছিলনা,তবু তোমাদের সবার আদরে ,ভালোবাসায় আজকের আমি মা। রাশীক, রাইয়ানের মা।
ভালো থাকো মা। আমি ফোন করলে ,” কে মা সাজি?” বলার জন্য।ফোন রাখার আগে,”ভালো থাক মা” বলার জন্য। আমাদেরকে ভালবাসার,আমাদেরকে আশীর্বাদের জন্য ভালো থাকো মা। সুস্থ থাকো।
সেপ্টেম্বর ২২/২০১৬