বাঙ্গালা পিওপল লাইক হালাল ফূড

মাসুদ রানা

মাসুদ রানা

পাকিস্তানী ‘হালাল ম্যাংগো’!
লণ্ডনের ওয়াইট চ্যাপেলের বিখ্যাত রয়্যাল লণ্ডন হস্পিট্যালের ঠিক উল্টোদিকের পেইভমেণ্টে ঐতিহ্যগতভাবে খোলা বাজার বসে। কাউন্সিলের পক্ষ থেকে স্পেইস ভাড়া দেওয়া হয় এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়।
ওয়াইট চ্যাপেল ষ্টেইশন থেকে নেমে যেদিকেই যান না কেনো, এই বাজার এড়াবার পথ নেই। ফলে, আপনাকে নানা দৃশ্য দেখতেই হবে, নানা কথা শুনতেই হবে। বলাই বাহুল্য, ক্রেতাদের অধিকাংশই স্থানীয় বাঙালী নারী-পুরুষ।
যদিও ওয়াইট চ্যাপেল হচ্ছে বাঙালীর রাজধানী, কিন্তু রাস্তার দোকানগুলোর দোকানীদের মধ্যে এক সময় বাঙালী ছিলো না বললেই চলে। কিন্তু ক্রেতা প্রধানতঃ বাঙালী হওয়ার কারণে ইংলিশ বা আইরিশ দোকানীকেও টুকটাক বাংলা বলতে দেখা যায় – অবশ্যই সিলেটী বাংলা।
একদিন আমি ওয়াইট চ্যাপেল ষ্টেইশন থেকে বেরিয়ে গ্রেইটোরেক্স ষ্ট্রীটে ইউকেবেঙ্গলির অফিসের দিকে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ এক অভিনব কথা কানে এলো।
কথা ও উচ্চারণের অভিনবত্বে না তাকিয়ে পারলাম না। দেখলাম, কাবুলি সেলোয়ার-কুর্তা-টুপি পরা এক দীর্ঘদেহী পাঠান (ধারণা করলাম)। গমগমে গলায় হেঁকে যাচ্ছেনঃ
“হালাল ম্যাংগো, হালাল ম্যাংগো। বালা [ভালো] ম্যাংগো, কুব বালা [খুব ভালো]”
দারুণ মার্কেটিং! আমি না থেমে পারলাম না। দোকানীকে জিজ্ঞেস করলাম, “এক্সকিউজ মি, ওয়াট ইজ হালাল ম্যাংগো?”
ভাঙ্গা-ভাঙ্গা ইংরেজি ও বাংলা মিশিয়ে পাঠান দোকানী জানালেন, “ফ্রম পাকিস্তান, হানি ম্যাংগো, হালাল ম্যাংগো। বালা ম্যাংগো, কুব বালা।”
আমি কোনোভাবেই আমার হাসি দমন করতে পারলাম না। আমার হাসি দেখে পাঠান দোকানীও হেসে ফেললেন। দোকানী বললেন, “বাঙ্গালা পিওপল লাইক হালাল ফূড”।