ইনসমোনিয়াঃ ঘুম না হওয়া রোগ।

ফেইসবুক এর গরম  আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতীকক্রিয়া।

তামান্না সেতু

তামান্না সেতু

প্রেগনেন্সির ৫ মাস পড়তেই এই সমস্যা শুরু হয়েছে। ঘর ভর্তি সব মানুষ শব্দ করে নিশ্বাস ফেলে ঘুমুচ্ছে, আর আমি রোদে পোড়া কড়কড়ে চোখ নিয়ে ঠায় তাকিয়ে থাকি। ফেসবুক আমায় খুব বেশি টানে না বলে মিনিট ১০ এর বেশি এর সাথে সময় কাটেনা।
তবুও, এই রাত দুপুরে একমাত্র এই ফেসবুক্টাই সরব বলে কিছুক্ষন পরপর এর কাছে আসি। ফেসবুক আমার কাছে শহরের প্রান্তের বাসস্টান্ড বা বেশ্যা বাড়ি মনে হয়। এখানে রাত-দিন বলে কোন কথা নেই। সব সময় কিছু মানুষের আনাগোনা এখানে থাকেই।
আমি দেখেছি, দিনের বেলায় যে সকল পুরুষেরা আমায় কখনোই নক করেনি, তারাও রাতে আমার চ্যাট বক্সে সবুজ বাতি দেখলে ‘হাই’ লিখে।
আমি পরবর্তী তিন ক্লিকে তাদের ব্লক করে দেই অবশ্য। তবুও এ ধারনা আমার এখান থেকে পাকাপোক্ত হয়েছে যে, রাতজাগা মেয়েদের তারা সহজলভ্য ভেবে নেয়। রাতজাগা মেয়েরা তাদের সাহস দেখাবার যোগ্য স্থান!
আমার একা থাকার জীবনে অর্থাৎ স্বামী ছাড়া থাকার সময়টাতে একবার আমার বড় পুত্রের ভিশন জ্বর এলো। ঘরে আমি ছাড়া কেউ নেই। রাত তিনটায় সাপোসিটোরি খুজতে আমি ঘরের বাইরে গিয়েছিলাম, একা। মোড় পরজন্ত জেতেই দুটো কুকুর আর চারজন যুবক আমার পিছু নিল। আমার খুব ভয় করছিল। একসময় কি যেন ভেবে আমি উলটো ঘুরে ছেলেগুলোর কাছে এগিয়ে গেলাম, বললাম – আমার ছেলেটার খুব জ্বর বাবা। অসুধ কিনতে হবে। আমাকে একটু সাহায্য করবে?facebook_setu-1
ছেলেগুলো আমাকে বাসায় পাঠিয়ে দিয়ে ওরা নিজেই অসুধ কিনে নিয়ে এসেছিল। পরদিন সকালে এসেও খোজ নিয়েছিল কি অবস্থা আমাদের। আর বলেছিল “অত রাইতে বাইর হবেন না। আমরা পাড়ার ছেলে, কিছু লাগ্লে খবর দিবেন”। তবে আমার বাড়িওয়ালা খুব ঝামেলা করেছিল এই নিয়ে, কেন আমার কাছে রাতে চারটা ছেলে এলো!
বাড়িওয়ালাকেও অনেক বুঝিয়ে শান্ত করতে হয়েছিল সেদিন। সেও বলেছিল – “তুমি মেয়ে মানুষ, বের হলে কেন? আমারে বলতা”
আমাদের সমাজের সকল পুরুষ কিন্তু খারাপ না জানেন! তবে সকল পুরুষই একা চলা নারীদের কাছ থেকে জবাবদিহি আশা করে। আপনি যদি খুব বিনয়ের সাথে তাদের বুঝিয়ে বলেন সমস্যাটা তবে তারা আপনাকে ক্ষমা করবে, সাহায্য করবে, সুযোগ দেবে। কিন্তু আপনার মানে নারীদের খুব নরম আর বিনয়ী হতে হবে। পাত্তা দেই না টাইপ হলে চলবে না।
মোট কথা শেষ পন্ত একটা মালিক-দাসি সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরী।
ইনসমোনিয়া আমাকে ঘুমাতে দিচ্ছে না। আমার চ্যাট বক্সে সবুজ বাতি জ্বলছে। রাত পনে চার। কত স্মৃতি!
টুং করে একটা শব্দ হয়ে নতুন মেসেজ ভেসে ওঠে মোবাইল স্ক্রিনে – “ম্যাডাম, এতো রাতে কি করেন? আসেন গল্প করি!”
আমি পরবর্তী তিন ক্লিকের জন্য তৈরী হতেই পেটের ভেতর আমার ৫ মাসের সন্তান নড়ে ওঠে।
এ পৃথিবীতে ধেয়ে আসছে আরেকজন প্রশ্নকর্তা বা উত্তরদাত্রি।
শেষ বারের মত মেসেজটার দিকে তাকাই, গা গুলিয়ে বমি পাচ্ছে। নাহ, এটা নতুন অতিথির আগমনে নয়। তার জন্য অপেক্ষায় থাকা পৃথিবীর রূপ গন্ধে।
তবুও চাই সে আসুক। নিয়ম বদলের ঘন্টা বাজাতে কাউকে তো লাগবেই। আসুক সে।