ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ এর চারটি কবিতা

রায়হান শরীফ

রায়হান শরীফ

কবি ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ ১৯১১ সালের ১৩ ফ্রেব্রুয়ারী আবিভক্ত  ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। আপাদমস্তক প্রগতিশীল রাজনীতিতে বিশ্বাসী এই কবি মূলত: উর্দূ ভাষায় কবিতা রচনা করেন। চারবার তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কারের জন্য নির্বাচিত হন। মার্কসবাদী রাজনীতিতে অবদানের জন্য তিনি ১৯৬২ সালে লেনিন শান্তি পুরষ্কারে ভূষিত হন। পেশায় তিনি ছিলেন সাংবাদিক।

এই বিশিষ্ট কবির চারটি কবিতার অনুবাদ প্রকাশিত হলো। কবিতাগুলো অনুবাদ করেছেন রায়হান শরীফ। ইংরেজী সাহিত্য ও কালচারাল স্টাডিজ এর অধ্যাপনা করেছেন টানা সাত বছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরপর ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে গবেষণারত। সেখানে Critical Culture, Gender, and Race studies (CCGRS) বিভাগে পাঠদান করেন। নব্যপুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থায় রাষ্ট্রিক, কর্পোরেট ও সাম্রাজ্যবাদী, শক্তিসমূহ ক্ষমতার বিকাশ ও রূপান্তর ঘটাতে জাতি, বর্ণ, গোত্র, ধর্ম, শ্রেণি, লিঙ্গ নির্বিশেষে কিভাবে নিত্যনতুন কৌশল প্রয়োগ করে আর কিভাবেই বা পালটা প্রতিরোধের পথ সন্ধান করতে হবে—এটাই তাঁর গবেষণার মূল প্রতিপাদ্য। তবে তার প্রকাশিত গবেষণাপত্রে স্থান, কাল,সাহিত্য, ডায়াস্পোরা, সামাজিক আন্দোলন, ইসলামভীতি সহ নানা বিষয় ওঠে আসে। কবিতা ও গান লিখেন। অন্য ভাষার কবিতা ভালবেসে ফেললে সেগুলো মাতৃভাষায় অনুবাদ করে ফেলেন।

নিঃসঙ্গতাdarkness-drawing-indie-insane-favim-com-2724442

নিঃসঙ্গতা পুরনো বন্ধুর টানে
সন্ধ্যায় বাড়ি এসে মদ ঢেলে খায়।
আর আমরা পাশাপাশি বসে চাঁদের জন্য অপেক্ষা করি।
অপেক্ষা করি কখন তোমার মুখ
প্রতিটি ছায়ার দ্যুতি ছড়াবে!

নিঃসঙ্গতা

কেউ কি এসে কড়া নাড়লো আজ আমার দরজায়?
ব্যথাতুর মন আমার, না কেউ তো আসেনি।
কোন পথিক হবে হয় তো, যাবে অন্য ঠিকানায়।
রাত ফুরিয়ে এলো, তারারাও নিভে গেলো,
দূরের প্রসাদে মিটিমিটি জ্বলে ঘুমকাতুরে মোম-শিখা।
সব পথই দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঘুমিয়ে পড়ে।
অচিন ধুলো মুছে দেয় পদচিহ্ন যত।

মোমবাতি নিভিয়ে দাও, সুরা ও পানপাত্র সরাও
বন্ধ করো আছে যত নিদ্রাহীন দ্বার
আসবে না, আসবে না কেউ এখানে আর।

একা নই

একা নই ।nath
আটক আছি ঠিক,
তবু একা তো নই!
প্রতিদিন আসে স্বদেশের মৃদু হাওয়া
স্মৃতির ঘ্রাণে রাঙা।
আর ফিরে যায় কান্নার মুক্তো জড়িয়ে!

কথা বল, জোরসে-জোরে!

কথা বল, তুমি বোবা নও।
কথা বল, তোমার মুখ খুলতে পারো তুমি!
কথা বল, তুমি পরাধীন নও।
কথা বল, জেগে ওঠো।
কথা বল, তোমার ঠোঁট মুক্ত।
কথা বল, তোমার নিজের জিব।
কথা বল, নিজেরই তো দেহ।
কথা বল, নিজেরই তো জান।

দ্যাখো কামারশালে ঐ
জ্বলে, দাউ দাউ বহ্নি
লালচোখো অগ্নি।
খুলছে তালা, বন্ধ মুখ
ফাটছে শেকল-বন্ধনী!

কথা বল, সময় আছে
দেহক্ষয়ের পূর্বে
জিব পঁচার আগে ।
কথা বল, সত্য মরেনি
কথা বল, যা’-ই বলার বল।