কে পাচ্ছেন সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার

গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে নানা আলোচনা। কে পেতে যাচ্ছেন এ বছরের নোবেল সাহিত্য পুরস্কার? সব আলোচনার পরিসমাপ্তি ঘটবে আজ। জানা যাবে কোন লেখকের ঝুলিতে যাবে এই পুরস্কার।
২০১৪ সালের জন্য ফরাসী সাহিত্যিক প্যাট্রিক মোদিয়ানো এই পুরস্কার পেয়েছিলেন।
এই পুরস্কার নিয়ে প্রতি বছরই বিশ্ব সাহিত্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো জরিপ রিপোর্ট প্রকা্শ করে। এবারও এসব রিপোর্টে পাঁচ জনের নাম উঠে এসেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর সুইডিশ একাডেমি বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা, সাহিত্য সংগঠন ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২৫৯টি প্রস্তাব পেয়েছে। নোবেল কমিটি সূত্রে জানা গেছে, এ বছরই সেই দীর্ঘ তালিকা ছাঁটকাট করে পাঁচজনে নামিয়ে আনা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের বুকমেকার লাডব্রোকসের প্রকাশ করা তালিকা অনুযায়ী এবারের সম্ভাব্য নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিকের তালিকায় প্রথমেই আছেন বেলারুশের সাহিত্যিক ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক সভেতলানা আলেক্সেভিচ। অনুমান করা হচ্ছে ৬৭ বছর বয়সী এই লেখক তাঁর লেখা ‘ওয়ার অনওমেনলি ফেস’ ও জিংক বয়’ নামে দুটি বইয়ের জন্য পুরস্কার পেতে পারেন। দুটি বইতে সোভিয়েত জমানা এবং পরবর্তী সময়ে যিুদ্ধ ও মানবজীবনের নানা সঙ্কট উঠে এসেছে। গত বছরও নোবেল কমিটির সংক্ষিপ্ত তালিকায় সভেতলানার নাম স্থান পেয়েছিল।
সোভেতলানার পরের নামটি জাপানি সাহিত্যিক হারুকি মুরাকামি-এর। বলা হচ্ছে, এই তালিকায় সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ নাম এটি। মরিকামি ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার ও অনুবাদক। তার উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে-আ উইল্ড শিপ চেইজ (১৯৮২), নরওয়েজিয়ান উড (১৯৮৭), দ্য উইন্ড আপ বার্ড ক্রোনিকাল (১৯৯৫)।
নওগি ওয়া থিয়াঙ্গো কেনিয়ার লেখক। সমাজকর্মী এই ঔপন্যাসিক গত শতাব্দীর সত্তরের দশকে ‘উইপ নট চাইল্ড’ নামে একটি উপন্যাস লিখে সারা বিশ্বে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। এই উপন্যাসটি লেখার জন্য তাকে এক বছর জেলও খাটতে হয়।
সমালোচকরা মার্কিন সাহিত্যিক ফিলিপ রথকে ‘ইহুদী কন্ঠস্বর’ বলে অভিহিত করলেও ১৯৫৯ সালে ‘গুডবাই’ ও ‘কলম্বাস’ নামে দুটি উপন্যাস লিখে রথ ব্যপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার সফল উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে— ‘অপারেশন শায়লক’ (১৯৯৩), ‘আমেরিকান প্যাস্টোরাল’ (১৯৯৭), ‘আই ম্যারিড এ কমিউনিস্ট’ (১৯৯৮), ‘দ্য হিউম্যান স্টেইন’ (২০০০)।
আমেরিকান সাহিত্যিকদের মধ্যে জয়েসি কারোল ওয়াতেও সম্ভাব্য পুরস্কার বিজয়ীর তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম। তিনি প্রায় ৪০টি উপন্যাস ও নাটক রচনা করেছেন।
সিরিয়ার কবি অ্যাডোনিস সাহিত্য সমালোচকরা আরব বিশ্বের সেরা কবি বলে অভিহিত করে থাকেন। ষাটের দশক থেকে তিনি প্যারিসে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। তাঁর কবিতায় মধ্যপ্রাচ্যের পূরাণ, ভাববাদী দর্শন মিলেমিশে আছে। অনেকের ধারণা এবার সিরিয় সংকটের প্রেক্ষাপটে আদোনিসের পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
তবে এই লেখকদের সংক্ষিপ্ত তালিকার পাশাপাশি লেখক মিলান কুন্ডেরার নামও প্রবলভাবেই শোনা যাচ্ছে।

 নোবেল পুরস্কার

প্রাণের বাংলা প্রতিবেদক
তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট