মিরপুর স্টেডিয়ামে নিরাপত্তার মহড়া

আহসান শামীমঃ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে মিরপুরে হঠাৎ করেই বোমার বিস্ফোরণের আওয়াজ । কিছুক্ষণের মধ্যে খেলোয়াড়রা জিম্মি । জরুরি ভিত্তিতে মাঠে নামে সেনাবাহিনী। জিম্মি হওয়া খেলোয়াড়দের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন সেনা সদস্যরা। কয়েক মিনিট ধরে চলে গোলাগুলি। কমান্ডো স্টাইলে ‘জিম্মিকারীদের’ ওপর আক্রমণ করে সেনাবাহিনী।‘জিম্মিদশা’ থেকে মুক্ত করে খেলোয়াড়দের। এরপর একাডেমিতে অবস্থিত খেলোয়াড়দের হেলিকপ্টারে করে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয়। মিরপুর স্টেডিয়ামে এটাই ছিল সেনাবাহিনীর আধঘণ্টা ধরে চলা কমান্ডো মহড়ার অংশ। সেনাবাহিনীর আধঘণ্টার এ মহড়া একদিকে যেমন ছিল শ্বাসরুদ্ধকর, আরেক দিকে হয়ে ওঠে মনোমুগ্ধকর। মহড়ায় দুটি হেলিকপ্টারের সাহায্যে প্রায় ৫০ জন প্যারা কমান্ডো সদস্য দুই ধাপে বিসিবি একাডেমিতে প্রবেশ করেন। এরপর তারা তাদের কমান্ডো অভিযান চালান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শুক্রবার বাংলাদেশের সিরিজ শুরু করার আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এই মহড়া ।যা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম কোন খেলা নিয়ে এমন মহড়া চালানো হয় । ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফরের পুর্ব শর্ত পূরণ করতে কোন ত্রুটি রাখতে রাজি না বিসিবি । অবশ্য নিরাপত্তা ইস্যুতে ইতিমধ্যেই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জশ বাটলার । এছাড়াও ইংল্যান্ডের গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে ফলাও করে এই সন্তুষ্টির বিষয়টা গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে । তারপরও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোরতা কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে পড়েছেন ইংল্যান্ডের খেলোয়াড় । তাদের গণমাধ্যমের সাংবাদিক ধারাভাষ্যকার সবাই এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বেষ্টনীতে আবদ্ধ । অবশ্য ইংলিশ গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা এখন মনে করেন বাংলাদেশ খুবই নিরাপদ রাষ্ট্র । ইংল্যান্ড থাকে পাওয়া তাদের বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্যের সঠিক প্রতিফলন যে তাদের কাছে ছিল না এই সত্যটা অকপটে স্বীকারও করছেন তাঁরা । এদেশের আতিথেয়তায় মুগ্ধতা নিয়ে ইংলিশ গণমাধ্যমে খবরও প্রকাশ করতে ভুল করেছেন না তাঁরা ।