‘যত চুলকানি, তত মজা’

istiak

ইশতিয়াক নাসির, স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান

সেদিন একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে একটা মেয়েকে দেখেই চুলকানি উঠল। মানে আমি যখন মেয়েটিকে দেখছিলাম, তখনই পিঠের দিকটায় হালকা চুলকানোর প্রয়োজন অনুভব করলাম।কিন্তু না, পাবলিক প্লেসে আর যাই হোক অনেক ইচ্ছা থাকলেও শার্ট খুলে তো আর চুলকানো যায় না। এদিকে আবার চুলকানিও যায় না, কারন বাঙালীর চুলকানি এক জায়গায় না, সব জায়গায়। সব কিছুতেই চুলকানি। দরকার শুধু একটা ইস্যু! ইস্যু থাকলে বাঙালী পাবলিক প্লেসেও নিজের পশ্চাৎদেশ চুলকাতে পারে, নিজের না চুলকালে সামনে যে আছে তার পশ্চাৎদেশও চুলকে দিতে পারে। কিন্তু চুলকানি চাই, বরং বলা ভালো ইস্যু চাই। যত ইস্যু ততো চুলকানি, যত চুলকানি তত আরাম। এই চুলকানি আবার যত লোকের সামনে করা যায় ততই ভালো। যেমন ধরেন ফেসবুক! গুরুতর থেকে সামান্য যে কোন ঘটনায় কেউ যদি একটা কথাও বলে, তবে সেই কথার উপর ভিত্তি করে কারো না কারো চুলকানি উঠবেই। সেই চুলকানি সংক্রামক রোগের মত ছড়িয়ে পড়বে মুহূর্তে। তারপর একই প্রসঙ্গে নিয়ে জেনে না জেনে, বুঝে না বুঝে ত্যানা প্যাচানো চলবেই। ফেসবুক ছাড়াও বাস্তব জীবনেও চুলকানির হাত থেকে আমাদের রেহাই নেই। কারো সুন্দরী মেয়ে দেখলে চুলকায়, কারো অবৈধ টাকা দেখলে চুলকায়, কারো গরীব লোকের জায়গাজমি দেখলে চুলকায়, কারো অন্যের ভালো কাজ দেখলে চুলকায়, কারো অন্য দেশের কথা শুনলে চুলকায়, কারো অন্য ধর্ম পালন করতে দেখলে চুলকায়, কারো আবার ভিন্ন মতাবলম্বী কাউকে দেখলে চুলকায়। কেউ মাথা চুলকায়, কেউ হাত চুলকায়, কেউ গাল চুলকায়, কেউ পিঠ চুলকায় আবার কেউ পশ্চাৎদেশ চুলকায়। এই চুলকানি কমানোর জন্য আবার রাস্তাঘাটে, বাসে ট্রেনে মলমও বিক্রি করে কিছু লোক। তাও চুলকানি কমেনা আমাদের। এ এইটা করল কেন, ও ঐটা করল কেন, অমুকের এটা করা উচিৎ হয় নাই, তমুকের ঐটা করা উচিৎ হয় নাই এই সব নিয়ে আমাদের যত চুলকানি। যদি জিজ্ঞেস করা হয়, ভাই আপনি কি করসেন এই ব্যাপারে? “ইয়ে….মানে আমি তো…. মানে…আমি….দাঁড়ান, আগে একটু চুলকাইয়া নেই”! যে কোন ভালোর মধ্যে খারাপটা আমাদের দেখতেই হবে, যে মানুষটা কষ্ট করে উপরে উঠছে তাকে টেনেহিচঁড়ে নামাতেই হবে, যে কোন সুন্দরের মধ্যে খুঁতটা খুঁজে বের করতেই হবে, যে সম্মানী তাকে অসম্মান করতেই হবে, তা নাহলে আরাম কিসের? এই আরাম চুলকানোর আরাম। এই আরামের মাহাত্ব্য একমাত্র বাঙালী বোঝে। ছোটবেলায় ঝোপেঝাড়ে বিছুটি পাতা শরীরে লাগলে সাংঘাতিক চুলকাতো আক্রান্ত জায়গাটা। অনেক সময় দুষ্টামি করে আমরা অন্য বন্ধুদের শায়েস্তা করার জন্যও তাদের গায়ে লাগিয়ে দিতাম। কিন্তু এখন সময় চেঞ্জ হয়ে গেছে, এখন ফেসবুকের জামানা। আমরা চুলকানির রোগ রক্তের ভেতর নিয়েই জন্মাই। গ্রামদেশে একটা কথা আছে, “গা চুলকে ঘা করা”! গ্রামের মানুষ মুখের কথা মুখেই রাখে কিন্তু শহরের ফেসবুক প্রজন্ম এই কথা বুকে রাখে। আর তাই তো নিত্য নতুন ইস্যু নিয়ে আমাদের গা চুলকানি এত বাড়ে যে শেষমেশ ঘা হয়ে যায়। যাই হোক, শুরু করে ছিলাম বিয়ে বাড়িতে মেয়ে দেখা নিয়ে। আমি অনেক মেয়েকেই জিজ্ঞেস করে জানতে চেষ্টা করেছি, :এই যে বিয়ে বাড়িতে এত সুন্দর সুন্দর মেয়ে দেখে আমাদের মানে ছেলেদের চুলকানি ওঠে, তোমাদের কিছু হয় না? :”হয় তো, আমাদেরও চুলকানি ওঠে”! : হ্যা!!?? তাই নাকি? তা কেমন ছেলে দেখলে তোমাদের এমন হয়? : ছেলে দেখলে হতে যাবে কেন, আমাদেরও মেয়ে দেখলেই হয় : মানে?? : মানে, এত কষ্ট করে মেকআপ করে, সেজেগুজে যেয়ে যদি দেখি অন্য কোন মেয়ে আমার চেয়েও ভালো ড্রেস পরে এসেছে তখনই ভেতরটা জ্বলতে থাকে। তবে জ্বলুনি পুড়ানি,খাওজানি চুলকানির একমাত্র ওষুধ হচ্ছে ‘বিচ্ছু’ মলম। রাস্তায় একটা লোককে একবার বিক্রি করতে দেখেছিলাম। আপনাদের কারো দরকার পড়লে ফেসবুক থেকে বেরিয়ে এসে লোকটার খবর নিয়ে দেখতে পারেন।