শুভ জন্মদিন হেলাল হাফিজ

কবি হেলাল হাফিজ। নামটা উচ্চারণ করতেই একজন সৌম্য, শান্ত মানুষের মুখচ্ছবি ভেসে ওঠে। তিনি হেঁটে যাচ্ছেন তোপখানা রোডের ফুটপাত ধরে। কাঁধে ঝুলছে পরিচিত কাপড়ের ঝোলা। দাড়িপূর্ণ মুখ। মাথাটা কিছুটা ঝুঁকে আছে। আনমনা, সন্ত এক মানুষ। কখনো আবার তাকে দেখা যায় বসে আছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের ক্যান্টিনে। সাধারণত একাই। সামনে হয়তো চায়ের পেয়ালা অথবা খাবার। দেখা হলে সামান্য দু একটা কথা, কুশল বিনিময়। তারপর আড্ডার বাদাম ভাঙ্গা। চিরকুমার হেলাল হাফিজ এক গভীর ঔদাস্য থেকেই যেন আর কিছুর সঙ্গেই জড়ালেন না নিজের জীবনকে। এই কবির আজ জন্মদিন। প্রাণের বাংলার পক্ষ থেকে তাকে জানাই শুভেচ্ছা, ভালোবাসা।

দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে এভাবেই দেখছি। রাতে ঘুমাতে যান তোপখানা রোডের একটি আবাসিক হোটেলে। দিনের বাকী অংশ প্রেসক্লাবে। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর একমাত্র কাব্যগ্রন্থ ‘যে জলে আগুন জলে’ কাব্যগ্রন্থটি। ভালোবাসা আর দ্রোহের কবিতা যে এতোটা নির্মোহ ভঙ্গীতে পাঠকের হৃদয়ে ছুরির মতো গেঁথে দেয়া যায় তা হেলাল হাফিজের কবিতা পাঠ না করলে অনুধাবন করা সম্ভব না।
একটি কবিতার দুটো মাত্র পংক্তি ‘এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়, এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’ এই কবিকে গোটা বাংলাদেশে অসম্ভব জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে। কবিতার নিয়মিত পাঠক নন এমন মানুষও এই দুটি লাইন পড়ে আলোড়িত হয়েছেন। মিছিলে, মানুষের মুখে মুখে, এই নগরীর দেয়ালে দেয়ালেও উৎকীর্ণ হয়েছে এই দুটি লাইন।
হেলাল হাফিজ ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। নেত্রকোনা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যিালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি লুপ্ত দৈনিক পত্রিকা পূর্বদেশে যোগ দেন। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭৬ সালে তিনি লৈুপ্ত দৈনিক দেশ পত্রিকায় সাহিত্য সম্পাদক পদে যোগ দেন। সর্বশেষ তিনি দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায়ও তিনি সহকারী সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন।
কবি হেলাল হাফিজ ২০১৪ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ করেন।