বৃষ্টি ও সাধারণ মানুষ

সাবরিনা শারমীন বাঁধন

সাবরিনা শারমীন বাঁধন

গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপদাহে মানুষের জীবন দুর্বিষহ। দরজার বাইরে যাওয়া মানেই মাথার উপর রোদ আচরে পরে।চার দেয়ালের মাঝেই মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত।সেখানে বাইরে যাওয়া মানে তো মানুষের কোলজে নিংড়ে পানি নিয়ে যায় তাপ। তীব্র এই গরমে মানুষ একটু ঠান্ডা পানিতেই অনেক খুশি আর সেখানে একটু হিমেল হাওয়া বা বৃষ্টি তো মানুষের ধড়ে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে।
অথচ অঝর ধারায় বৃষ্টি হলেও মানুষের জীবন স্বস্তি পায় না।কেননা এতে ফসলের একটা বিপর্যয় দেখা যায় এবং যারা সমাজের খেটে খাওয়া মানুষ, গরীব যাদের মাথার উপরে rain7777চাল নেই সামান্য পলিথিন মাথায়, দিন যায় তাদের জীবন দুর্বিষহ।
কিন্তু এই বৃষ্টিই অনেকের আনন্দের বিষয়। ঘরে বসে অনেকেই বৃষ্টি দেখতে ভালোবাসে।কেউ হালকা আওয়াজে গান শোনে,কবিতা কিংবা বই পড়ে বারান্দায় বসে বৃষ্টি দেখে,সাথে চা বা কফি হলে তো লা জবাব!
কালজয়ী লেখকেরা এই ঋতুকে ঘিরে লিখে গেছেন কালজয়ী গান,গল্প,কবিতা,উপন্যাস।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রিয় ঋতু বর্ষা। তাঁর গান, কবিতায় কখনও বলেছেন,বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল বা বহু যুগের ওপার হতে আষাঢ় এল…
আবার বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখে গেছেন,শাওন রাতে যদি…
কারও জীবনে প্রেম শুরু হয় বর্ষায়,প্রেম পূর্ণতা পায় বর্ষায়।আবার কারও জীবনের হয়তোবা সব হারিয়েও যায় বর্ষায়..
বৃষ্টি আনন্দ দেয় সেই সকল মানুষের জীবনে, যাদের জীবনে কোন ঋতুই প্রভাব ফেলে না। যাদের গরমে ঠান্ডা, শীতে গরম এবং বৃষ্টিতে গায় পানি লাগার ব্যবস্থা রয়েছে। যারা সব ঋতুকেই আনন্দের সাথে গ্রহণ করে।
কিন্তু কিছু মানুষ এই পৃথিবীতেই রয়েছে, যাদের জীবনে মাত্রাতিরিক্ত কোন কিছুই আনন্দ দেয় না।তারা অল্পেও অসহায়,বেশিতেও অসহায়।
মানুষের জীবন বড়ই বিচিত্র, তারা যত কষ্টে অনেক কিছু পায়, ঠিক তত সহজেই জীবনের সব রং মলিন ( সাদা) হয়ে যায়,সে বুঝে ওঠার আগেই….
কখন যে তার সর্বস্ব শেষ হয়ে যায় তা সে বুঝতেও পারে না…!!