হাসলেন মাশরাফি, হাসলো বাংলাদেশ

আহসান শামীমঃ হাসলেন মাশরাফি। হাসলো টাইগাররা, হাসলো গোটা দেশের মানুষ। উইকেট শিকার করে মাঠে পাখির ডানার মতো দুহাত ছড়িয়ে তাসকিনের নাচ, মাশরাফির হাত মুষ্টিবদ্ধ করে উল্লাস প্রকাশ আর অনেকদিন পর খেলায় ফেরা নাসিরের লাজুক হাসি মন ভরিয়ে দিলো মিরপুরের গ্যালারী ভর্তি মানুষের।
ব্যাট হাতে টাইগারদের পারফর্মেন্স ততটা স্বসিআত দিতে না পারলেও অসাধারণ বোলিং দুঃখ ভুলিয়ে দিল প্রথম হারের। ম্যাচ জিতে এবার সিরিজে সমতা আনলো বাংলাদেশ দল। এখন অপেক্ষা আগামী ১২ অক্টোবর চট্টগ্রামের সিরিজ জয়ের জন্য মহা লড়াইয়ের।bangladesh_cricket-2
টাইগাররা বদলা নিলো ২১ রানের পরাজয়ের ৩৪ রানে ইংল্যান্ড দলকে হারিয়ে দিয়ে। অবশ্য দিনের শুরুটা মোটেই এরকম ছিলো না। টস হেরে ইংলিশদের অধিনায়ক জশ বাটলার টাইগারদের ব্যাটিং করতে পাঠান। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, অধিনায়ক মাশরাফি, নাসির হোসেন ছাড়া উল্লেখ করার মতো রান কোন ব্যাটসম্যানই করতে পারেননি।দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস ভালো কিছু করার আগেই ব্যক্তিগত ১১ রান করে সাজঘরে। গত ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ইমরুল কায়েস এর পরপরই ১৪ করে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন তামিম। সাব্বির রহমান আজ ইংলিশদের বিপক্ষে ২১ বলে ৩ রান করেছেন ।
খেলার শুরুতেই তিন উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম পাওয়ার প্লেতে আশানুরূপ রান সংগ্রহ করতে পারেননি টাইগাররা ।৩০ রানের বিপরীতে ২টি উইকেট হারাতে হয় বাংলাদেশকে।
আজকের ম্যাচটি স্বাগতিকদের জন্য খুবই ছিল গুরুত্বপুর্ন। কারণ আজ হারলেই সিরিজ হাতছাড়া হয়ে যেত। তাই জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না টাইগারদের সামনে। মুশফিকের অফফর্ম দলের জন্য বোঝা হয়েই দাঁড়িয়েছে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্রিজে নেমে ২১ রানে ফিরে গেছেন তিনি। গত সাত ওয়ানডে ইনিংসে মুশফিকুর রহিমের সর্বোচ্চ রান ৩৮, যেটা তিনি করেন সদ্য শেষ হওয়া আফগানদের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে। অন্যদিকে সাকিব ২১ বল খেলে মাত্র ৩ রান করেন।উইকেটের পেছনেও মুশফিকের ব্যর্থতায় জয়টা হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছিল ।
এলবিডব্লিউ হয়ে মাহমুদউল্লাহর বিদায়ের ৮৮ বলে ৭৫ রান করে দলকে কিছুটা সম্মানজনক অবস্থানে এনে দেবার পরই আদিল রশিদের বলে সুইপ করতে গিয়ে ব্যাট ছোঁয়াতে পারেননি তিনি। আম্পায়ার আউট দেওয়ার পর রিভিউ নিয়েও সিদ্ধান্ত পাল্টানো যায়নি। এরপর আদিলের শর্ট বলে ক্যাচ দিয়ে ৪৭ বলে ২৯ রান করে বিদায় নেন মোসাদ্দেক।
bangladesh_cricket-3মাশরাফি ২৯ বলে ৪৪ রান করে আউট হন। নাসির ২৭ রান নিয়ে ছিলেন অপরাজিত। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৩৮ রান সংগ্রহ করে টাইগাররা। রান তাড়া করার জন্য ইংল্যান্ড দলের শুরুটা সতর্ক হলেও বাংলাদেশের বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে টালমাটাল হয়ে পড়ে তারা। ইংলিশদের টপ অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়েছেন মাশরাফি। ভিন্স ও জেসন রয়কে ফেরান টাইগার দলপতি। এরপর বেন ডাকেটকে ফেরান সাকিব।
মাশরাফির বলে মোসাদ্দেকের কাছে ক্যা চ দিয়ে বিদায় নেয়ার আগে ৫ রান করেন ভিন্স। অপরদিকে মাশরাফির বলে এলডব্লিউ হয়ে বিদায় নেয়ার আগে ১৩ রান করেন রয়। এদিকে সাকিবের বলে বোল্ড হয়ে শূন্য রানে বিদায় নেন অভিষেক ম্যাচে অর্ধশতক করা ডাকেট। ১৪ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পরে যায় ইংলিশরা । অধিনায়ক মাশরাফির চতুর্থ ওভার রয়ের উইকেট ২৪ রানে ৩ উইকেট আবার পঞ্চম ওভারে স্টক্সকে বোল্ড করার পর ২৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে খেলার নিয়ন্ত্রণ টাইগারদের হাতে চলে যায় । সিরিজ সমতার খেলায় তাসকিন ৩ উইকেট, মোসাদ্দেক ১ উইকেট , সাকিব ১ উইকেট, উপেক্ষিত নাসির ১ উইকেট ও ব্যাট হাতে ২৭ রানে অপরাজিত থেকে দারুণ ভাবে এতোদিনের উপক্ষার যথার্থই জবাব দিয়েছেন। এই খেলায় ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।