এক্কেবারে বর্ম্মিজ পতন…

ফেইসবুক এর গরম  আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতীকক্রিয়া।

 শ্রীচিত্রকবর্ম্মা

শ্রীচিত্রকবর্ম্মা

দিনটা শুরু হল পতন দিয়ে, যে সে পতন নয়… এক্কেবারে বর্ম্মিজ পতন। দোষ আমার না নতুন ডিএসএলআর-এর সে নিয়ে বাবা-মার সাথে অবশ্য এখনোও বাক বিতন্ডা চলছে।
হয়েছে কি!!?? ভোর পাঁচটায় বাবা তাড়া হুড়ো দিয়ে দিলে কাঁচা ঘুমটা চটকে। তাতে অবশ্য রাগটাগ করিনি তেমন। যতই হোক ঘুরতে এসচি… ঘুমের কথা ভাবলে কি আর চলে?
বেশ ঠান্ডা, কলের জলও তথৈবচ, এদিকে হোটেলের রুমের গিজারটা আদৌ কাজ করে কিনা সেটা দুদিনেও ঠিক বুঝে পারিনি। যাইহোক স্নান করার বাসনা মন থেকে বিসর্জন দিলুম। চা না খেলে আমার আবার হাআআ…. মানে ইয়ে হয়না আরকি। ☺ ☺
এদিকে ড্রাইভার বাবাকে ফোন করে তাড়া দিচ্ছে আর বাবা আমায়। সে এক বিতিকিচ্ছিরি ব্যাপার।
শেষমেশ বেরোলুম। প্রথম গেলুম শিলং এর ক্যাথিড্রাল চার্চ লেইত-উম-খ্রাহ। মন্নিং ওয়াক করতে করতে লোকজন ঢিপ ঢাপ পেন্নাম ঠুকছে, তার মধ্যে বাঙ্গালী কলোনীর এক বুড়ি দিদাকেও দেখলুম শনি মন্দিরের পেন্নামের মত একটা পেন্নাম করে হনহন করে হাঁটা দিলেন। যা হোক আমিও একটা টুক করে পেন্নাম ঠুকে ছবি টবি তোলায় মন দিলাম। এপর্যন্ত সব ঠিক-ঠাক।




হল সেই যাচ্ছেতাই ঘটনা।
গল্ফকোর্স মাঠ… হাতে ক্যামেরা… ড্রাইভারের দেখিয়ে দেওয়া ঝোপের ফোঁকর দিয়ে এগিয়ে চলেছি। ক্যামেরা হাতে থাকায় আমি বড় হনু, মাটিতে চোখ পরেনা। সবার আগে বেশ হুব্বা হুব্বা হাবভাব করে হাটছি। হঠাৎ শিশির ভেজা ঘাসে বা গাছের শিকড়ে……বাঁ পাটা হড়কে গেল…. সামলানোর জন্য ডান পা বাড়ালুম। নাহ পায়ের তলায় কোন মাটি নেই…..
পতন পতন আর পতন…………..
গর্তটি প্রায় ছ’ফুট
কিছু ধরার সুযোগ পাইনি…. কারন!!???india-1
আরকি … কারন ওই নতুন ক্যামেরা বাবাজী। দুই পায়ে যখন মাটি পেলুম তখন আমি গর্তে সিধা দাঁড়িয়ে আছি আর তখনো ক্যামেরা বাবাজী আমার উর্ধবাহু দশায় একদম সুরক্ষিত।
উপর থেকে বাবা চেঁচালেন…. “কই রে?”
গর্ত থেকে আমি: “আগে ক্যামেরাটা ধরো।”
ধীরে ধীরে নিজে নিজেই ধরে পরে উপরে উঠে এলুম….
আশ্চর্যজনক ব্যাপার যে আমার বাঁ পায়ের থাই এর কাছে একটু মাটি লেপ্টে যাওয়া ছাড়া আর কিছু হয়নি… মাংস পেশিতে একটু লেগেছিল, সে ধর্তব্যের মধ্যে নয়। আর আমার সাদা নামাবলী কুর্তার কোথাও একছিট মাটিও লাগেনি… তাজ্জব। অপেক্ষা করলুম কখন মাটিটা একটু শুকোবে তারপর ঝেড়ে নেবো।
একটুও যে মেজাজ খিচড়ে যায়নি তা বলবো না। তবে সব খারাপ নিমেষে উড়িয়ে দিল খাসি পাহাড়ের মেঘেদের দল।
আবার দোস্তি করলুম….আমি আমার ক্যামেরা আর মেঘ…