নারকোস ও আয়নাবাজি

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতীকক্রিয়া।

istiak

ইশতিয়াক নাসির, স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান

গত বেশ কিছুদিন যাবৎ ব্যাস্ত ছিলাম ‘নারকোস’ দেখা নিয়ে। সীজন ১ আর ২ একবারে দেখলাম। কলম্বিয়ার দুর্ধর্ষ মাফিয়া সম্রাট পাবলো এসকোবারের জীবনী যত দেখছিলাম আর গুগল ঘেটে পড়াশোনা করছিলাম তার জীবন নিয়ে, ততই মাথার হ্যাং ওভার বাড়ছিল। রুপকথার গল্পকেও হার মানাবে পাবলো এসকোবার। এক কথায় মুগ্ধতা আর বিস্ময় নিয়ে দেখছিলাম ‘নারকোস’। এরই মধ্যে আবার নিউজ পেপারে দেখলাম কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন বিদ্রোহী গেরিলা গ্রুপ ‘ফার্ক’ এর সাথে শান্তিচুক্তির কারনে। যারা নারকোস দেখেছেন, তারাই বুঝতে পারবেন এই শান্তিচুক্তির গুরুত্ব কতখানি।
এরই ফাকে বেশকিছুদিন ধরে ফেসবুকে ‘আয়নাবাজি’ মুভিটা নিয়ে দেখলাম সবাই খুব বলাবলি করছে। আমি ইচ্ছে করেই দেখিনি। প্রথমত; এই ফেসবুক প্রজন্মের কোন আবেগকে আমি বিশ্বাস করিনা। দ্বিতীয়ত;আমার কাছে কোন সিনেমা তখনই হিট যখন সেটা মফস্বলের লোকেরা দল বেধে যেয়ে দেখে। তাই, অপেক্ষা করছিলাম ঢাকার সিনেপ্লেক্সের বাইরে কোথাও যদি সিনেমাটা দেখা যায়। এতে ‘আসল’ দর্শকের প্রতিক্রিয়া বোঝা যাবে। আজকে এমন একটা সুযোগ পেলাম আর দেখলাম ‘আয়নাবাজি’। ‘বিশ্বমানের থ্রিলার’, ‘যে কোন হলিউডি সিনেমাকে টক্কর দেবে’ এসব বিশেষণ ব্যবহার করে যারা ফেসবুকে লেখালেখি করেছেন তারা আদৌ বিশ্বের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে খোঁজ রাখেন না সেটা স্পষ্টই বলে দেয়া যায়। এমনকি শুরুতে আমি যে টিভি সিরিয়ালটার কথা বললাম, সেটার সাথে তুলনা করলেও আয়নাবাজি খুব নম্বর পাবে সেটা বলা যায়না। কিন্তু সিনেমাটা দেখে আমি খুব খুশি। খুশি সাধারন দর্শকদের ( যারা রেগুলার শাকিব খানের সিনেমা দেখে অভ্যস্ত) উচ্ছ্বাস দেখেও। মানুষ এত খুশি কেন কারনটা বলি। এতিমখানা বা অনাথ আশ্রম গুলোতে একটা খাবারের মেন্যু ঝোলানো থাকে। মেন্যু অনুযায়ী সপ্তাহে একদিন মাংসের তরকারী থাকার কথা। কিন্তু সপ্তাহের পর সপ্তাহ যায়, মাসেaynabajiর পর মাস যায় মাংসের তরকারী আর কপালে জোটেনা। এতিমখানার পরিচালক আজ হবে কাল হবে বলে বাচ্চাদের সান্তনা দিয়ে রাখেন। এইভাবে দিন পার করতে করতে বাচ্চারা যখন মেনেই নিয়েছে তাদের নিয়তি, বুঝেই গেছে যে মাথার উপরে মা-বাপ না থাকলে মাংসের তরকারী পাওয়া যায়না, তখন হঠাৎ এক সহৃদয়বান ব্যাক্তির কল্যানে তাদের জন্য দুপুরে মাংসের তরকারীর ব্যবস্থা হলো। রান্না কেমন হয়েছে সেই বিচার করার মত মন মানসিকতা সেই বাচ্চাদের আর থাকেনা। তাদের চোখমুখ জুড়ে থাকে শুধু ঐ একবেলার মাংসের তরকারীর আনন্দ আর উচ্ছ্বাস। ‘আয়নাবাজি’ সিনেমা দেখে এক মফস্বল শহরের সাধারন মানুষদের মধ্যে আমি সেই একই রকম আনন্দের ঝলক দেখলাম।
তিন জনের অভিনয় নিয়ে আলাদাভাবে বলার আছে। চঞ্চল ভাইকে নিয়ে একটাই কথা, হুমায়ুন ফরিদীর পর আমরা আরেকজনকে পেলাম যিনি ‘অভিনয়’ করতে জানেন। সিনেমা শুরুর পর প্রথমবার হলের লোকজন হাততালি আর সিটি বাজানো শুরু করল আমাদের জামিলকে দেখার পর। অথচ মীরাক্কেল সীজন সিক্স এর অভাবনীয় সাফল্যের পর আমরা ফাইনালিস্ট যে কয়েকজন দেশে ফিরেছিলাম তাদের কাউকেই এদেশের নির্মাতারা ঠিক মত কাজে লাগাননি। আমরা নাকি এক্টিং পারিনা। আমরা এক্টিং হয়ত জানিনা, কিন্তু যখন পারফর্ম করি, তখন দর্শকের হাততালি আর ভালোবাসা কিভাবে আদায় করতে হয় সেটা জানি। নাবিলা আমার ইউনিভার্সিটির জুনিয়র ছিল। ওকে আমি চিনতাম ট্যারা নাবিলা হিসেবে। কিন্তু আসলে ওর চোখ ট্যারা কিনা সেটা দূর থেকে বুঝতে পারিনি। দূরে থাকার কারন ওর হাইট বেশি। মেয়েরা একটু লম্বা হলেই অনেক লম্বা মনে হয় আর এদিকে আমার হাইট কম। সব মিলিয়ে নাবিলা কখনই আমার ‘হট লিস্ট’-এ ছিলনা। কিন্তু আজকে এই সিনেমায় ওকে দেখার পর দেখেই বুকের মধ্যে হালকা ব্যাথা অনুভব করছি। নাবিলা কি জানে আমি এখনো সিংগেল? ওর পরিচিত কেউ আমার ফ্রেন্ডলিস্টে থাকলে প্লীজ আমার এই কথাটা ওকে বলে দিও। আফসোস…. ইউনিভার্সিটি থাকার সময়ই যদি একটু পাত্তা দিতাম তাহলে আমিও ওর মত সেলিব্রেটির ফ্রেন্ডলিস্টে থাকতে পারতাম!