হাত বাড়ালেই মজার খাবার

nazia-farhana

মিস্টি পছন্দ করেন না এমন লোক খুব কমই আছেন। তা যদি আবার রকমারি রসগোল্লা , কেক বা  পুডিং হয় তাহলে তো কথাই নেই। আমাদের এবারের হেঁশেলে এমনি সব খাবারের নিজের তৈরি রেসিপি নিয়ে হাজির হযেছেন নাজিয়া ফারহানা।চাইলে আপনিও ঘরে বসে তৈরি করে নিতে পারেন ।

 

কাচা কলার লাড্ডু

কাচা কলার লাড্ডু

কাচা কলার লাড্ডু

উপকরন: কাচা কলা সিদ্ধ -২ কাপ , ঘন দুধ -১ কাপ , চিনি – ১ কাপ , মাওয়া -১/২ কাপ , বাদাম , কিসমিস -১/৪ কাপ , গোলাপ জল -১ টেবিল চামচ , ঘি -১/২ কাপ

প্রনালী:  প্রথমে কাচা কলা হাত দিয়ে ভালো করে মাখতে হবে । এইবার করাইতে ঘি গরম করে তাতে কলা মাখা দিয়ে একটু নেড়েচেড়ে ভেজে নিতে হবে। তারপর এতে চিনি আর দুধ দিয়ে নাড়তে হবে। পানি শুকিয়ে মাখা মাখা হলে বাকী উপকরন দিয়ে নামিয়ে ফেলতে হবে। এই বার হাত দিয়ে গোল গোল করে লাড্ডুর আকার করে প্লেটে সাজিয়ে পরিবেশন করতে হবে।


আম দুধে রসে ভরা রসগোল্লা

উপকরন :  দুধ ১ লিটার,  লেবুর রস বা ভিনিগার ২ টেবিল চামচ,  সুজি ১ চা চামচ,  ১ টা এলাচ, চিনি ১ চা চামচ।

 চিনির সিরার জন্য : চিনি- ১ কাপ, পানি- ৩ কাপ।

 আম দুধের রস:  ১ লিটার দুধ,  পাকা মিষ্টি ২ টা আম কেটে ব্লান্ড করে নেয়া,  ১ কাপ চিনি।

 প্রনালী : প্রথমে চুলাতে দুধ জ্বাল দিন। দুধে বলক উঠলে

আম দুধে রসে ভরা রসগোল্লা

আম দুধে রসে ভরা রসগোল্লা

লেবুর রস বা ভিনিগার ঢেলে নাড়তে থাকুন। ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মাঝে ছানার পানি কেটে যাবে। সবুজ পানি ছাড়লে, মানে হালকা সবুজ রঙ এর পানি হলেই ছানা ঠিক হবে।

পাতলা সুতি কাপড়ে এই মিশ্রণ ঢেলে ঠান্ডা পানি তে ভালো করে ধুয়ে পুটলি করে ঝুলিয়ে অথবা চালুনিতে ঢেলে রাখুন। কিছুক্ষণ রেখে,পরে বাতাসে ছাড়িয়ে শুকিয়ে নিন।

এবার ছানা কয়েকবার পিষে নিন মসৃন করে।তারপর চিনি, সুজি দিয়ে ভালো করে মেখে নিন। এমন ভাবে মেখে তুলুন যেন হাতে ছানা না আটকে থাকে এবং তেল ছেড়ে দেয়। এবারে ছানাকে কয়েক ভাগে ভাগ করে নিন।এবং মিষ্টির মতো সমান গোল গোল করুন যেন কোন ফাটা না থাকে। হাতে একটু ঘি মাখিয়ে গোল তৈরি করে নিতে পারেন।

এবার চুলাতে ১ কাপ চিনি ও ৩ কাপ পানি দিয়ে এবং একটা এলাচ দিয়ে ফুটতে দিন। ফুটে উঠলে সিরার উপরের ভেসে থাকা ময়লা চামচ দিয়ে তুলে ফেলুন। চুলার জ্বাল মাঝারী করে নিবেন মিষ্টি ছাড়ার আগে ।

এবারে মিষ্টি গুলো ঐ ফুটন্ত সিরাতে ধীরে ধীরে দিয়ে দিন।এবং জ্বাল বাড়িয়ে দিন। একটু পর মিষ্টি গুলো সিরার উপর ভেসে উঠলে চামচ দিয়ে মিষ্টি গুলো সিরায় ডুবিয়ে ঢেকে দিন। ২৫/৩০ মিনিট পর চুলা থেকে নামিয়ে রাখুন।

এবার এক লিটার দুধ এক কাপ চিনি জ্বাল দিয়ে ঘনো আধা লিটার করুন, তারপর  ঠাণ্ডা করে তার মধ্যে ব্ল্যান্ড করা আম ভাল করে মিক্স করুন এবং মাঝারী গরম থাকা অবস্থায় রসগোল্লা গুলো সিরা থেকে তুলে দুধ আম রসে ছেড়ে দিন এবং ফ্রিজে রেখে দিন। ঠাণ্ডা হলে পরিবেশন করুন ।

কোকোনাট মিল্ক পুডিং

কোকোনাট মিল্ক পুডিং

কোকোনাট মিল্ক পুডিং

উপকরন: নারকেল দুধ -১ লিটার , ফ্রেশ ক্রিম -১ টিন , চিনি -১ কাপ ,চায়না গ্রাস -৪ গ্রাম , জেলোটিন প্যাকেট -৪ টা ৪ রং এর

প্রনালী :প্রথমে ১টা জেলোটিন প্যাকেট ছিড়ে ১ কাপ পানিতে গুলে চুলায় গরম করে সেটা বাটিতে ঢেলে ঠান্ডা হতে দিতে হবে। এই ভাবে সব গুলা জেলোটিন প্যাকেট আলাদা আলাদা ভাবে বানিয়ে ঠান্ডা হতে দিতে হবে। ঠান্ডা হয়ে জমে গেলে ছুরি দিয়ে ছোট ছোট টুকরা করে কাটতে হবে। এই বার চুলায় দুধ গরম করে ফুটতে দিকে হবে। দুধ ফুটে উঠলে তাতে চায়না গ্রাস আর চিনি দিয়ে নাড়তে হবে । চায়না গ্রাস দুধের সঙ্গে মিশে গেলে তাতে ক্রিমটা মিশিয়ে দিয়ে চুলা বন্ধ করে দিতে হবে। এইবার যে বাটি বা মোল্ডে পুডিংটা বাসাবেন , সেই বাটির নীচে আগে থেকে কেটে রাখা জেলো কিউব গুলো বিছিয়ে দিয়ে তার উপর দুধের মিশ্রনটা ঢেলে ঠান্ডা করে ফ্রিজে রাখতে হবে ২/৩ ঘন্টা। ঠান্ডা হয়ে জমে গেলে বাটিতে থেকে পুডিং এর মতো উল্টিয়ে ঢেলে পরিবেশন করতে হবে এই মজাদার কোকোনাট মিল্ক পুডিং ।

লেমন চিজ কেক

লেমন চিজ কেক

লেমন চিজ কেক

উপকরন : ক্রিম চিজ -২৫০ গ্রাম , ক্রিম-১ টিন ,সাদা জেলোটিন -১ প্যাকেট,.ঘন দুধ -১ কাপ ,চিনি -১ কাপ , লেমন জেলো -১ প্যাকেট , লেবুর রস-২ টেবিল চামচ , মাখন-১০০ গ্রাম ,. মারি বিস্কুট গুঁড়া -১ প্যাকেট , লেবু গোল করে কাটা -৮/১০ টা

প্রনালী : প্রথমে বিস্কুট গুঁড়া আর মাখন ভালো মাখে মাখিয়ে কেক মোল্ডের নীচে সমান ভাবে বিছিয়ে ১০মিনিট ফ্রীজে রাখতে হবে. এই বার লেবু কাটা আর লেমন জেলো বাদে বাকী সব উপকরন একসাথে বিট করে বিস্কুটের লেয়ারের উপর সমান করে ঢেলে দিয়ে ২০ মিনিট আবার ফ্রীজে রাখতে হবে. এই বার লেমন জেলো বানিয়ে এরউপর ঢেলে তার উপর লেবু কাটা সাজিয়ে ফ্রীজে রেখে ঠান্ডা করে পরিবেশন করতে হবে.