দুনিয়া মিখাইলের দু’টি কবিতা

এই বিশিষ্ট কবি দুনিয়া মিখাইলের  দু’টি কবিতা অনুবাদ করেছেন রায়হান শরীফ। ইংরেজী সাহিত্য ও কালচারাল স্টাডিজ এর অধ্যাপনা করেছেন টানা সাত বছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরপর ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে গবেষণারত।

 

 

faceসান্তা ক্লস

যুদ্ধের মত দীর্ঘ দাড়ি
ইতিহাসের মত লাল স্যুট পড়ে
সান্তা ক্লস এলো আমাদের ঘরে।
সে বললো কিছু চেয়ে নিতে।

“ওরে আমার লক্ষী মেয়ে
কী নিবি তুই, নে’ না চেয়ে”।
কবিতার মত কিছু একটা দিলো সে।

“দিব্বি দিলাম, ভয় পাস নে।
আমি সান্তা
আনন্দ বিলাই শিশুদের
দেখিস নি বুঝি আগে আমায়?”

– কিন্তু সান্তা বলে যাকে চিনি
তিনি তো আসেন মিলিটারি ইউনিফর্মে।
আর ফি বছর বিলিয়ে যান
কয়েকটা লাল তরবারি
এতিম শিশুদের জন্য খেলনা
নকল পা
আর যাদেরকে আর দেখা যায়না কোথাও
তাদের ছবি
দেয়ালে ঝুলাতে!

ক্রিসমাস

কেউ কি দরজায় কড়া নাড়লো?
কি দুঃখের কথা!
এটা ক্রিসমাস, তুমি নও!

দুনিয়া মিখাইলের জন্ম ইরাকে। বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই কবি স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি ছিলেন ‘বাগদাদ অবজারভার’ পত্রিকার সাংবাদিক এবং অনুবাদক। দুনিয়া তখন থেকেই কবি হিসেবেও পরিচিত। এই কাব্য চর্চার জন্য কবি দুনিয়া মিখাইল তৎকালীন সাদ্দাম সরকারের রোষানলে পড়েন। শুরু হয় তার ওপর বিভিন্ন ধরণের নির্যাতন। এক পর্যায়ে ১৯৯৬ সালে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। প্রথমে কিছুদিন জর্ডানে কাটিয়ে তিনি চলে যান আমেরিকায়। তিনি সেখানকার নাগরিকত্ব লাভ করেন।
২০০১ সালে দুনিয়া জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস পুরস্কার পান ‘ফ্রিডম অফ রাইটিংস’-এর ওপর। তার কাব্যগ্রন্থ ‘দি ওয়ার ওয়ার্কস হার্ড’ পিইএন পুরস্কার লাভ করে। গ্রিফিন পোয়েট্রি পুরস্কারের জন্যই বইটি মনোনিত হয়।