সব অভিজ্ঞতাই কাজে লাগে: নিরব

নিরব বলিউডের ছবিতে ডাক পেলেন,গেলেন,অভিনয় করলেন আবার চলেও এলেন।ক্যরিয়ারে সঞ্চয় হলো নতুন নতুন অভিজ্ঞতা।বলেন, মালোয়েশিয়ার ছবিতে কাজ করতে যাওয়াই ছিলো আমার ঘর ছেড়ে প্রথম বাইরে পা রাখা। আসলে সব অভিজ্ঞতাই কাজে লাগে।nirob-3-copy

মালোয়েশিয়ান ছবির সঙ্গে বাঙালীদের খুব বেশি পরিচয় নেই, তবে হিন্দী ছবির সঙ্গে আমরা খুবই পরিচিত তাই এ ক্ষেত্রে নিরবের খুব বেশি ভাবনার তেমন কিছু ছিলো না। নিরব বলেন, আমি সবকিছু বেশ সহজেই নিয়েছি।।আর পরিচালক থেকে ইউনিটের সবাই খুব হেল্পফুল ছিলেন।

শুটিং করতে গিয়ে তাদের সঙ্গে আমাদের কোন পার্থক্য চোখে পরেছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, এক্ষেত্রে তেমন কোন পার্থক্য নেই তবে ওদের সময়জ্ঞান সাংঘাতিক।সকাল আটটায় শুটিং শুরু হলো তো রাত আটটায় প্যাকআপ।আর বিকেল তিনটায় শুটিং শুরু হলো তো রাত তিনটায় প্যাকআপ। এক মিনিটও এদিক-সেদিক হয়না।তবে প্রি-প্রোডাকশন এতো ভালো যে, যে কেউ সহজেই নিজেকে চরিত্রর মতো করে তৈরি করতে পারে।শুটিং শুরু হওয়ার আগে একদিন পরিচালক অভিনেতা অভিনেত্রি থেকে স্পটবয় মানে পুরো ইউনিট নিয়ে বসেন এবং সেখানে পুরো ছবির স্ক্রিপ্টটা পড়ে শোনানো হয়।এবং কারো কোন বক্তব্য বা অবজারভেশন থাকলে তা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সবকিছু ঠিক করা হয়।ইন্টারভেলের সময় ব্রেক দেয়া হয়, সবাই চা-কফি খায় আবার বসা হয় এবং পুরো স্টোরিটা শেষ হয়।বিষয়টা আমাকে মুগ্ধ করেছে।

nirob1111-2‘বালা’ ছবির ইউনিটের একেকজন ভারতের এক এক অঞ্চলের হওয়াতে ভাষার বিষযটা নিয়ে নিরব বেশ এনজয় করেছেন।বলেন, কেউ মুম্বাই,কেউ তামিল, কেউ পান্জাব, কেউ চেন্নাই, কেই ব্যাঙ্গালোর। এক এক এলাকার ভাষা এক এক রকম।সে এক দেখার মতো বিষয়। কেউ হিন্দি জানেন কিন্তু তামিল জানেন না আবার তামিলরা ইংরেজি জানে কিন্তু হিন্দি জানে না।ফলে কথাবার্তা নিয়ে অনেক মজার মজার কাহিনী হয়েছে।আমার তো তামিল ভাষা শুনলে মনে হতো ওরা এক কথাই বারবার বলছে।তবে এক্সপ্রেশন থেকেই বুঝতে পারতাম কে রাগ করে আছে আর কে স্বাভাবিক আছে।

‘বালা’ ছবির নৃত্য পরিচালক ছিলেন প্রভুদেবার সহকারী।তবে এটা একটা হরর ছবি বলে  নাচটা তেমন গুরুত্ব পায়নি। নিরব বলেন,ছবিতে দুইটা গান আছে।তবে কখনই পুরো গান একবারে দেখানো হবে না।ভেঙ্গে ভেঙ্গে দেখানো হবে।

হরর ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে কোন হরর অভিজ্ঞতা কি হয়েছে জানতে চাইলে হেসে নিরব বলেন,সে-ও এক মজার ঘটনা। শুটিংয়ের জন্য ডুপ্লেক্স যে বাংলোটি নেয়া হয় আমরা থাকতামও সেই বাংলোতে।উপরের ফ্লোরে পরিচালক আর নায়িকারা থাকতেন। আমি একা থাকতাম নিচের ফ্লোরে ওখানেই ভৌতিক দৃশ্যগুলো ধারণ করা হতো। তাই আমি সব কাজ শেষ করে ফোন-টোন যা আছে সব কমপ্লিট করে যখন চোখে ঘুম ভর করতো তখন এসে শুয়েই ঘুমিয়ে পড়তাম।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছর ফেব্রুয়ারীতে ছবিটা রিলিজ হবে জানালেন নিরব।তবে ডাবিংয়ের কাজ বাকী আছে।সেক্ষেত্রে নিরবও মুম্বাই যেতে পারেন আবার পরিচালক ঢাকা থেকেও নিরবের ডাবিং সেরে নিতে পারেন।প্রিমিয়ার শো তে নিবর উপস্থিত থাকবেন।

ইদানিং আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক নতুন ছেলে মেয়ে আসছে এতে কি আমাদের ইন্ডাস্ট্রির কোন পরিবর্তন হবে জানতে চাইলে নিরব বলেন,দেখুন আজ থেকে দশ বছর আগে বলিউডে সালমান খান, শাহরুখ খান এবং আমীর খান ছিলেন এবং আছেনও। তাই বলে কি তারা এখনও দশ বছর আগের জায়গায়ই রয়ে গেছে? তা কিন্তু নয়। কারণ ওখানে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কাহিনী থেকে শুরু করে সব বদলে গেছে।আমাদের এখানে কিন্তু তা হচ্ছে না। তো নতুনরা আসলেই তো হবে না।আমাদের আসলে সব ক্ষেত্রেই মেধা খাটাতে হবে আবার কোন কিছু কারো একার পক্ষেও করা সম্ভব না। সবার সম্মিলিত একটা প্রচেষ্ঠার প্রযোজন।

nirob1111-1‘বালা, ছবিতে অভিনয় করে কতটুটু আত্মতৃপ্তি পেলেন? ওখানকার সবাই আমার প্রশংসা করেছেন। তবে আমি ততোটা সন্তুষ্ট নই।কারণটা হলো ভাষা।হিন্দিটা ভালো জানা থাকলে চরিত্র অনুয়াযী বডি ল্যাংগুইজ বা এক্সপ্রেশনটা আরো ভালো হতো। হিন্দি শুনলে মনে হয়, এ আর তেমন কি কিন্তু অভিনয়ের সময় প্রমটারকে ফলো করে কথা বলে এক্সপ্রেশন দেয়াটা খুব টাফ।কথাটা ঠিক বলছি না অভিনয়টা ঠিক হচ্ছে সে চিন্তাই তখন বড় হয়ে দেখা দেয়।তবে অনেকদিন থাকা এবং ওদের সঙেগ কথা বলে এখন হিন্দিটা অনেক ঠিক ঠাক হয়েছে।আসার দিন পরিচালকের সঙ্গে যখন ফোনে কথা হচ্ছিলো তখন উনি হেসে বলেন, কি নিরব এখন তো বেশ ভালোই বলছো, ছবির সময় এমন হলে তো আর কথাই ছিলো না।।

সবশেষে ওখানে নতুন কোন ছবির কথা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে নিরব বলেন, আমার পরিচালক আমাকে অনেক গল্প শুনিয়েছেন। আশা করছি ভবিষ্যতে উনার সঙ্গে আরো কাজ করবো।

স্বাগতা জাহ্নবী