আজ কবি শামসুর রাহমানের জন্মদিন

আধুনিক বাংলা কবিতার এক অনন্য পুরুষ কবি শামসুর রাহমান। কেখনো জনময়তা, আবার কখনো নৈঃসঙ্গ, কখনো দেশ আর রাজনীতির উত্থান পতনে, প্রেমে, অপ্রেমে, শামসুর রাহমান কবিতায় তৈরী করেছেন নিজস্ব ভূগোল। সেখানে ভিন্ন শব্দ পুঞ্জ তৈরী করেছে এক পৃথক ছায়াপথ। নতুন মৃত্তিকায় প্রষ্ফুটিত হয়েছে পুষ্প, বয়ে গেছে নির্জন ঝর্ণা।

আজ ২৩ অক্টোবর বাংলা ভাষার এই অন্যতম কবির ৭৭তম জন্মদিন। প্রাণের বাংলার পক্ষ থেকে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাই। ১৯২৯ সালে তিনি পুরান ঢাকার মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।

জন্ম ও মৃত্যুর মাঝের ৭৭ বছরের বর্ণময় জীবনের বড় অংশজুড়েই নিমগ্ন থেকেছেন সাহিত্য কর্মে। ষাটের দশকের গোড়ার দিকে তাঁর কবি প্রতিভার বিচ্ছুরণে আলোকিত হয়ে ওঠে আমাদের সাহিত্যের ভুবন। সূচনাটা অস্তিত্ববাদী ইউরোপীয় আধুনিকতার দিকে ধাবিত হলেও একটা সময়ে দেশজ সুর ও ঐতিহ্য কবিতায় ধারণ করেছেন নিবিড় মমতায়। সমকালীন ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে চিরকালীনতার অনুভূতির প্রকাশ ঘটিয়েছেন কবিতায়। সাম্প্রদায়িকতা ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যেমন কবিতার ভাষায় প্রতিবাদ করেছেন, তেমনি মুক্তিযুদ্ধকালে স্বাধীনতার আকাক্সক্ষায় উজ্জীবিত মানুষকে প্রেরণা দিয়েছেন কবিতার সৃষ্টিশীলতায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ওপর লিখিত তাঁর দুটি কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’ একই সঙ্গে অনুপ্রেরণাদায়ী ও ব্যাপকভাবে সমাদৃত।পুরান ঢাকায় বেড়ে ওঠায় নগর জীবনের নানা অনুষঙ্গ ও প্রকরণ উদ্ভাসিত হয়েছে এ নাগরিক কবির কবিতায়। জীবনানন্দপরবর্তী বাংলা কবিতাকে আধুনিকতার পথে ধাবিত করায় তাঁর ভূমিকা একেবারেই স্বতন্ত্র।

তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’।এছাড়াও ষাটের দশকে প্রকাশিত কবির উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো রৌদ্র করোটিতে, বিধ্বস্ত নীলিমা, নিরালোকে দিব্যরথ ও আমি অনাহারী।

জন্মদিনে আজ শ্রদ্ধা-ভালবাসায় স্মরণ করা হবে কবি শামসুর রাহমানকে। বিকেল চারটায় বাংলা একাডেমির রবীন্দ্র চত্বরে কবির জন্মদিন উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করা হয়েছে। যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলা একাডেমি, জাতীয় কবিতা পরিষদ ও শামসুর রাহমান স্মৃতি পরিষদ।

পঞ্চাশের দশকের শেষদিকে মর্নিং নিউজে সাংবাদিকতার মাধ্যমে পেশাগত জীবনে প্রবেশ ঘটে তাঁর। এরপর ১৯৫৭ থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত রেডিও পাকিস্তানের অনুষ্ঠান প্রযোজক ছিলেন। এর মাঝে আবার ফিরে আসেন পুরনো কর্মস্থল দৈনিক মর্নিং নিউজে। সেখানে ১৯৬০ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত সহযোগী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৪ সালের নবেম্বর থেকে শুরু করেন সরকারী দৈনিক পাকিস্তানের সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালন করেন ১৯৭৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত। ১৯৭৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি দৈনিক বাংলা ও সাপ্তাহিক বিচিত্রার সম্পাদক নিযুক্ত হন। ১৯৮৭ সালে সামরিক সরকারের শাসনামলে তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। এ সময় তিনি মাসিক সাহিত্য পত্রিকা অধুনা সম্পাদকের দায়িত্ব¡ পালন করেন।

স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার, জীবনানন্দ পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন শামসুর রাহমান। রবীন্দ্রভারতী ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁকে সম্মানসূচক ডিলিট উপাধি দেয়া হয়।

প্রাণের বাংলা প্রতিবেদক