নিবিড় ছায়ার অরুনিমা কান্ট্রিসাইড রিসোর্ট

পানির গভীর স্পর্শ আর সবুজের নিবিড় ছায়ায় আচ্ছাদিত এই অরুনিমা রিসোর্ট। পাখির কলকাকলিতে মূখরিত। পানির মাঝ দিয়ে মেঠো পথ চলে গেছে। পথের দুধারে গাছের সারি। গাছে গাছে ছোট ছোট ফল। একদিকে বেশ কিছু অংশ জুড়ে খোলা প্রান্তর। অপরদিকে টেনিস খেলার জন্য আলাদা জায়গাও আছে। সন্ধ্যায় আকাশে উড়ে বেড়ায় বিপুল সংখ্যক সাদা পাখির ঝাঁক। একে পাখিদের অভয়ারণ্য বলা চলে।তবে পর্যটকদের জন্য এখানে পাখি শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

%e0%a6%85%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a6%be-%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9f-4রিসোর্টের ভেতরে গলফ কোর্স, সুইমিংপুল, প্রাকৃতিক দৃশ্য, টেনিস, ক্রিকেট, কাবাডি, মাছধরা, ঘোড়ায় চড়ার ব্যবস্থা, জিম, হেলথ ক্লাব, বেকারি, সুভ্যেনির শপ, ফরেন মানি এক্সচেঞ্জ, বার, ডিসকো এবং ইনডোর আউটডোর গেমসের ব্যবস্থাও রয়েছে।

অরুনিমা রিসোর্ট ব্যক্তি মালিকানায় ২০০৭ সালে যাত্রা শুরু করে। নড়াইল জেলার পানিপাড়া এলাকা দিয়ে বহমান মধুমতি নদীর কোল ঘেঁষে দক্ষিণ পাশেই এই অরুনিমা কান্ট্রিসাইড রিসোর্টটি।

এখানকার প্রাইম গার্ডেন অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। এছাড়া গোলাপ বাগানের সৌন্দর্যে মোহিত হবেন। আছে পাহাড়বেষ্টিত বাংলো দীঘি। বাংলোর পশ্চিমে একটি দ্বীপ তৈরি করা হয়েছে পরীস্থান নামে এই দ্বীপ যেন সত্যিই স্বপ্নপুরী। দ্বীপটির পশ্চিমে চারদিক বেষ্টিত লেক ও লেকের পাড়ে রয়েছে আম্রপালি বাগান। লেকে বেড়ানোর জন্য রয়েছে ছোট বড় ডিঙ্গি। এখান থেকে বেশ দূরে রয়েছে বরেণ্য চিত্রশিল্পি এস এম সুলতানের শিশুস্বর্গ ও চিত্রশালা।

কী নেই অরুণিমা কান্ট্রিসাইডে? মধুমতি নদীর তীরে গড়ে তোলা এই রিসোর্টে আছে এসি, নন-এসি ৩৬ কক্ষের বিভিন্ন ধরনের কটেজ। আছে ৪০ বেডের তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি ডরমিটরি, ডাইনিং হল, কনফারেন্স হল, ট্রেনিং সেন্টার। রিসোর্টের ভেতরে আছে ১৯টি পুকুর, নাইন হোল গলফ কোর্স, ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল খেলার মাঠ, ছোটদের বিনোদনের জন্য খেলাধুলার পার্ক, পাখির অভয়ারণ্য, ঝাউবন, গোলাপ ফুলের বাগান, ফলের বাগান, পুকুরের মাঝখানে নদী কিংবা পুকুরে লঞ্চ বা নৌকায় বেড়ানো, আরও অনেক কিছু। খাবারের ব্যবস্থা, বার-ইব-কিউ, তাজা ফলের রস, গাড়ী পাকিং, শিশুদের খেলার জায়গা ইত্যাদি আপনাকে মুগ্ধ করবে। রয়েছে কনফারেন্স হল, ট্রেনিং হল, নৗকা ভ্রমন ব্যবস্থা। নানান গাছপালার মাঝে এখানে বনভোজন করতে ভালো লাগবে সবার।  রিসোর্টের ভেতরে পুকুর ও লেকের পানিতে বিভিন্ন প্রজাতির প্রচুর মাছ আছে। সর্বোচ্চ ৫/৬ কেজি ওজনের মাছ এখানে পাওয়া যায়। ১০০ টাকার টিকিট কেটে এখানে অতিথিরা বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে পারেন। বাচ্চাদের জন্যেও রয়েছে এ আনন্দের ব্যবস্থা। অল্প পানিতে নেমে মাছ ধরতে পারবে তারা। এর জন্য ৩০ টাকা মূল্যের টিঅরুনিমা-রিসোর্ট-3কিট কাটতে হয়। লেকের চারপাশে শত শত বিভিন্ন প্রকার ফলের গাছ রয়েছে। ফুল ও ঔষধী গাছের সংখ্যাও রয়েছে প্রচুর সংখ্যক। আছে ঝাউবন ও পাহাড়। শীতকালে এখানে দেশী বিদেশী নানা প্রজাতির অতিথি পাখি বেড়াতে আসে। তাদের কলকাকলিতে সর্বদা মুখরিত হয়ে থাকে রিসোর্টটি। রিসোর্টে প্রবেশ করতে হলে ১০০ টাকা মূল্যের টিকিট প্রয়োজন হয়। পিকনিক পার্টির জন্য মাথাপিছু ৫০% ছাড় রয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খারাপ নয়। এর জন্য রয়েছে ৮ জন অস্ত্রধারী নিরাপত্তারক্ষী। ২০১০ সালে দেশের সেরা রিসোর্ট গুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়।

ফুলের মধ্যে রয়েছে ডেফোডিল, পদ্ম, মিনি রঙ্গন, মুচান্ডা, নীলপদ্ম, কাঞ্চন, ক্যামেলিয়া, চেরি, লিলি, নাগলিঙ্গম, কুমারী পান্থ, নাগেশ্বর, মার্বেল টাস্ক, ২০০ রকম গোলাপ, গ্লাডিউলাস, টগর, রজনীগন্ধা ছাড়াও নানা রকম দেশি-বিদেশি অর্কিড ও ফুলের গাছ। জানা যায়, কান্ট্রি সাইডে প্রায় ১ হাজার ৪০০ প্রজাতির বৃক্ষ রয়েছে। ফলের মধ্যে নানা প্রজাতির আমসহ আম্রপালি, আম মলি্লকা, ছফেদা, আপেলকুল, কয়েক প্রজাতির লেবু, পেয়ারা, জলপাই, কামরাঙা, নারকেল, পেপে, কলা, চেরি, মিষ্টি করমচা, স্টার আপেল, জামরুলসহ নানা প্রজাতির মৌসুমি ফলের গাছ রয়েছে।

%e0%a6%85%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a6%be-%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9f-5এক নজরে অরুণিমা কান্ট্রি সাইড

গ্রাম : পানিপাড়া, উপজেলা : কালিয়া, জেলা : নড়াইল।

আয়তন : ১৫০ বিঘা।

জলকর : ৬৬ বিঘা, ১৯টি পুকুর।

বৃক্ষ : ১ হাজার ৪০০ প্রজাতির ফলজ, বনজ, ঔষধি।

অরণ্য : ৩ একর সবুজ মেহগনি বাগান, ১ একরের ঝাউবন, ৬৪৭টি আম্রপালি গাছের বাগান। ৫ কাঠার গোলাপ বাগান।

প্রাণী : ঘোড়া তিনটি, হরিণ তিনটি, গরু ছয়টি, রাজহাস আটটি, হাউন্ট কুকুর তিনটি, মুরগি ২০টি, পাখি অগণিত, বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী কিছু কিছু।

লাইব্রেরি : ৬০০ দেশি-বিদেশি বই সমৃদ্ধ লাইব্রেরি।

আবাসন ব্যবস্থা : তিন রুমের এসি/নন এসি কটেজ, ভাসমান ২ রুমের কটেজ, গ্রামীণ কটেজ গোল ঘর, ছনের ছাউনির বিশ্রামাগার তিনটি।

বিনোদন : স্পিড বোট, প্যাডেল বোট, ২০ সিটের ভ্রমণ বোট, সুইমিং পন্ড, ঘোড়ার গাড়ি, শিশুদের গেম কর্নার।

আহার : দ্বীপ রেস্টুরেন্টের দেশি-বিদেশি খাবার, ফলের জুস, নিজস্ব খামারের উৎপাদিত সবজি ও মাছের ফ্রাই, ব্যঞ্জন। আরো আছে অস্ট্রেলিয়ান মেশিনের সাহায্যে বারবিকিউ।

বনভোজন স্পট : ফুল-ফল বাগানের ৩০টি স্পট।

অন্যান্য সুবিধা : কান্ট্রি সাইডের পাশে মধুমতি নদীর বেলাভূমি ভ্রমণ, মধুমতি-নবগঙ্গার সঙ্গমস্থলে সাতারের ব্যবস্থা। নৌভ্রমণের সুবিধা। কান্ট্রি সাইডে সুশৃঙ্খল নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারা। অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় গ্রামীণ বাহন। জেনারেটরের সুবিধা। রবি শঙ্কর, উদয় শঙ্করের বাড়ি, সুলতান সংগ্রহশালা, সুচিত্রা সেনের নানার বাড়ি, এশিয়ার সবচেয়ে বড় পিতলের রথ দেখার ব্যবস্থা।

কটেজ ভাড়া

শাহী চালেট: ৫০০০ টাকা

উত্তরা ভিআইপি: ৫০০০ টাকা

মধুমতি: ৩০০০ টাকা

চালেট ৫: ৩০০০ টাকা

নবগঙ্গা : ৩০০০ টাকা

দ্বীপ সুপার ডিলাক্স: ৩০০০ টাকাঅরুনিমা-রিসোর্ট-11

রয়েল বাংলো : ১০০০০ টাকা

উত্তরা ডিলাক্স : ২৫০০ টাকা

ছেড়া দ্বীপ : ৩০০০ টাকা

ঠুমরী : ৩৫০০ টাকা

বোট হাউজ: ১৫০০ টাকা

দ্বীপ ডিলাক্স: ১৫০০ টাকা

চালেট এনটিক: ১৫০০ টাকা

দক্ষিনা : ১০০০ টাকা

গোল  ঘর: ১৫০০ টাকা

সাউথ ব্রিজ : ৮০০ টাকা

ইকোনমি রুম : ৫০০ টাকা

অরুনিমা-রিসোর্ট-1.

কিভাবে যাবেন

নড়াইল থেকে এই রিসোর্টটি ৫৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় আপনি নড়াইল পৌঁছে বাসে করেই এখানে আসতে পারবেন। নড়াইল থেকে অরুণিমা গলফ রিসোর্টে যাওয়ার নির্দেশনা পেতে।

কিভাবে পৌঁছাবেন:

রাস্তা যোগে

ঢাকা থেকে সরাসরি সড়কপথে নড়াইলে পৌছাতে পারবেন। তবে রাজধানী থেকে সরাসরি আকাশপথে এবং নদীপথে নড়াইলে যাওয়ার ব্যবস্থা নেই। তাই বাসে করে এই জেলায় পৌঁছানো সবচেয়ে সুবিধাজনক মধ্যম। ঢাকা থেকে নড়াইলে চলাচলকারী বাসগুলো সম্পর্কে কিছু তথ্য আপনার সুবিধার্থে নিম্নে প্রদান করা হলঃ

১। হানিফ এন্টারপ্রাইজ

গাবতলি কাউণ্টার, ফোনঃ ৮০১১৭৯

২। ঈগলপরিবহন

গাবতলি কাউণ্টার, ফোনঃ ০৪৪৯৪৪১৩৬৭৩

ভাড়াঃ প্রায় ৩৫০/- টাকা

৩। সাদ সুপার ডিলাক্স পরিবহন

গাবতলি কাউণ্টার, ফোনঃ ০১৭২৭৫২১৪১৪

ভাড়াঃ প্রায় ৩১০/-টাকা

new-folder6

কি করবেন

১। অরুণিমা গলফ রিসোর্টে গলফ খেলতে পারেন।

২। পর্যবেক্ষণের স্থান থেকে পাখি দেখতে পারেন।

৩। বিভিন্ন খেলাধুলা করতে পারেন যেমনঃ গলফ, লন টেনিস, ভলিবল ইত্যাদি।

৪। এস এম সুলতান লাউঞ্জে কিছু সময় কাটাতে পারেন।

৫। অরুনিমা লেকে নৌকা ভ্রমন করতে পারেন।

৬। ঘোড়ায় চড়তে পারেন।

অরুনিমা-রিসোর্ট-

খাবার সুবিধা

রিসোর্টে নাশতা, স্ন্যাক্স, স্যুপ, ছাড়াও ভাত, ডাল, মুরগির মাংস, খাসির মাংসসহ বিভিন্ন পদের খাবার খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এসব খাবারের দাম খাবারের ধরন অনুযায়ী রাখা হয়েছে।

সম্রাট