শুভ জন্মদিন সুকুমার রায়

রামগরুড়ের ছানা অথবা পাগলা দাশু, আবোল তাবোল অথবা ট্যাশ গরু…অসাধারণ সব ছড়া, অসাধারণ সব চরিত্র। নিশ্চই বলে দিতে হয় না এসব ছড়া আর চরিত্র কার অসাধারণ কলমে বাংলা শিশু সাহিত্যকে ঋদ্ধ করেছে? তিনি সুকুমার রায়। এই বাঙালি শিশু সাহিত্যিক ও ভারতীয় সাহিত্যে “ননসেন্স রাইমের” প্রবর্তক। তিনি একাধারে লেখক, ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক, রম্যরচনাকার, প্রাবন্ধিক ও নাট্যকার। তিনি ছিলেন জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর সন্তান এবং তাঁর পুত্র খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়। images-1
আজ এই অনন্য শিশু সাহিত্যিক সুকুমার রায়ের জন্মদিন। প্রাণের বাংলার পক্ষ থেকে তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে গভীর শ্রদ্ধা জানাই।
এখনকার ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা সুকুমার রায় ও তার লেখার সঙ্গে কতটা পরিচিত বলা শক্ত। কিন্তু ত্রিশ চল্লিশ বছর আগেও সুকুমারের কবিতার অন্তত দু’এক লাইন অথবা তার ‘হযবরল’-র সঙ্গে পরিচয় ছিল না এরকম লোকের সংখ্যা খুব কমই ছিল।
শরীরকে কর্মক্ষম রাখতে সুষম খাদ্যের মতই মনকে সুন্দর সজীব রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বাঁধাধরা ছকের মধ্যে কল্পনা-জগতের স্বপ্নময়তা ও অনাবিল হাস্যরস আমাদের সে প্রয়োজন কিছুটা হলেও মেটায়। উদ্ভট খেয়াল রসের অফুরন্ত ভাণ্ডার সুকুমার রায় তাই চিরকালই প্রাসঙ্গিক।
সুকুমার রায়ের জন্ম ১৮৮৭ সালের ৩০শে অক্টোবর, কলকাতার এক ব্রাহ্ম পরিবারে। সুকুমার ছিলেন বাংলা শিশুসাহিত্যের উজ্জ্বল রত্ন উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরীর ছেলে। সুকুমারের মা বিধুমুখী দেবী ছিলেন ব্রাহ্মসমাজের দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের মেয়ে। সুকুমার রায় জন্মেছিলেন বাঙ্গালী নবজাগরণের স্বর্ণযুগে। তাঁর পারিবারিক পরিবেশ ছিল সাহিত্যনুরাগী, যা তাঁর মধ্যকার সাহিত্যিক প্রতিভা বিকাশে সহায়ক হয়। পিতা উপেন্দ্রকিশোর ছিলেন শিশুতোষ গল্প ও জনপ্রিয়-বিজ্ঞান লেখক, চিত্রশিল্পী, সুরকার ও শৌখিন জ্যোতির্বিদ।
pb1111কলকাতার সিটি স্কুল থেকে এন্ট্রাস পাশ করেন। কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ১৯০৬ সালে রসায়ন ও পদার্থবিদ্যায় বি.এস.সি.(অনার্স) করার পর সুকুমার মুদ্রণবিদ্যায় উচ্চতর শিক্ষার জন্য ১৯১১ সালে বিলেতে যান। [১]সেখানে তিনি আলোকচিত্র ও মুদ্রণ প্রযুক্তির ওপর পড়াশোনা করেন এবং কালক্রমে তিনি ভারতের অগ্রগামী আলোকচিত্রী ও লিথোগ্রাফার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯১৩ সালে সুকুমার কলকাতাতে ফিরে আসেন। সুকুমার ইংল্যান্ডে পড়াকালীন, উপেন্দ্রকিশোর জমি ক্রয় করে, উন্নত-মানের রঙিন হাফটোন ব্লক তৈরি ও মুদ্রণক্ষম একটি ছাপাখানা স্থাপন করেছিলেন। তিনি ছোটদের একটি মাসিক পত্রিকা, ‘সন্দেশ’, এই সময় প্রকাশনা শুরু করেন। সুকুমারের বিলেত থেকে ফেরার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই উপেন্দ্রকিশোরের মৃত্যু হয়। উপেন্দ্রকিশোর জীবিত থাকতে সুকুমার লেখার সংখ্যা কম থাকলেও উপেন্দ্রকিশোরের মৃত্যুর পর সন্দেশ পত্রিকা সম্পাদনার দায়িত্ব সুকুমার নিজের কাঁধে তুলে নেন। শুরু হয় বাংলা শিশুসাহিত্যের এক নতুন অধ্যায়। পিতার মৃত্যুর পর আট বছর ধরে তিনি সন্দেশ ও পারিবারিক ছাপাখানা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন।

নান্দনিক প্রতিবেদক
তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া