হেসেছে বাংলাদেশ

আহসান শামীমঃ  গতকালও কি বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতিটা এরকম ছিল? অথবা আজ সকালের কথাই ধরা যাক। তখনও কী কেই ভেবেছিল এরকম অমলিন হাসিতে উদ্ভাসিত হবে সারা দেশ? বাঘ আর সিংহের এই কঠিন যুদ্ধে শেষ হাসিটা যে শেষ পর্যন্ত টাইগাররাই হাসবে তা কে ভেবেছিল! কিন্তু এই হাসির জন্য আয়োজনটা তো টাইগার বাহিনীই করেছে। তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে শক্তিতে, নিজস্ব সৌন্দর্যে। আর তোদের সঙ্গে ঘুরে দাঁড়িয়েছে গোটা দেশ, বেলা শেষে হেসেছে প্রাণ খুলে। ধন্যবাদ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এই অসামান্য জয়ের জন্য। টেস্ট সিরিজ সমতায় এসেছে। কিন্তু জিতেছে বাংলাদেশ।

bangladesh-vs-england_winb-1শনিবার মাহমুদউল্লাহর আউটটা স্বস্তিদায়ক  ছিল না। রাত কেটেছে দুঃস্বপ্ন আর হতাশায়। ইংলিশ বোলার ওকসের কথাটাও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল।শনিবার খেলা শেষে ইংলিশ বোলার ওকস গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা কথাটা বলেছিলেন। “২৫০ রানের মধ্যে বাংলাদেশকে অলআউট করতে না পারলে ইংলিশদের ঢাকা টেস্টে জয়ের সম্ভাবনা কম।” ওকসের এমন মন্তব্যের পরেও খুব স্বস্তিতে  রাত  কাটেনি। কারণ একটাই, টেস্ট শুরুর  আগে  কোচ হাতুরুসিংহের আস্থার জায়গায় টাইগারদের ব্যাটিং লাইনের ক্রমাগত ব্যর্থতা। সকাল দশটায় ঢাকা টেস্টের শুরু  ইমরুলের আউটটা স্বস্তিদায়ক ছিল না । সকালে ইমরুল আউট হবার পর স্কোরবোর্ডে ৩৮ রান তুলতেই ফিরে যান সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। দলীয় ২৩৮ রানে প্রথমে আউট হন সাকিব। আদিল রশীদের বলে বোল্ড হন সাকিব। স্কোরে আর একরানও যোগ না হতে স্টোকসের বলে স্লিপে কুকের তালুবন্দী হন মুশফিকুর রহিম।
মধ্যাহৃ বিরতির আগের ওভারে আউট হয়ে ফিরে আসেন সাব্বির রহমান। আদিল রশীদের বলে লেগ বিফোর হবার আগে ১৭ বলে ১৫ রান করেন সাব্বির। লাঞ্চের পর আরো দুটো উইকেট হারায় বাংলাদেশ। মধ্যাহৃভোজের বিরতির পরের ওভারেই স্টোকসের বলে উইকেটরক্ষককে ক্যাচ দেন তাইজুল ইসলাম।
এর পরের ওভারে রশীদের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে স্লিপে রুটের তালুবন্দী হন মিরাজ। শেষ উইকেট জুটিতে ২০ রান যোগ করেন কামরুল ইসলাম রাব্বি ও শুভাগত হোম। ২৫ রান করে নট আউট থাকেন শুভাগত।
ইংলিশদের  সামনে ২৭৩ রানের  চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল বাংলাদেশ। উপমহাদেশের উইকেটে ২৭৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয় অনেক কঠিন কাজ। কঠিনট সহজ করে তুলেছিলেন ইংলিশ অধিনায়ক  কুক ও ডাকেট।  বিনা উইকেটেই ১০০ রানের অপরাজিত জুটি । সুইপ আর রিভার্স সুইপে বাংলাদেশের স্পিনারদের অসহায় করে ফেলেছেন ৫৬ তুলে ফেলা বেন ডাকেট। অন্যদিকে স্বচ্ছন্দ ছিলেন ৩৯ রানে অপরাজিত অ্যালিস্টার কুকও। হতবিহ্বল গ্যালারির নিস্তব্ধতাকে ছাপিয়ে চা বিরতির পর
বদলে গেল টাইগারদের বোলিং ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত ।বিনা উইকেটে ১০০ রান নিয়ে চা বিরতিতে যাওয়া ইংল্যান্ড বিরতির পর ৬৪ রানেই হারায়  ১০ উইকেট। তৈরি হলো নতুন ইতিহাস ।ইংলিশদের বিপক্ষে টাইগারদের প্রথম টেস্ট জয়। চট্টগ্রামের ইংলিশদের বিপক্ষে অল্পের জন্য হাতছাড়া হয়ে যাওয়া জয়ের আক্ষেপটা ঢাকা টেস্টে মুছে গেল । ঢাকা টেস্টের জয়ের মধ্য দিয়ে ইংলিশদের বিপক্ষে টাইগারদের টেস্ট সিরিজ ১- ১ সমতা ।এরকম জয়ের  অনুভূতি প্রকাশ করার ভাষা আমার জানা নাই। চৌদ্দ মাস পর টেস্ট খেলতে নামা বদলে যাওয়া বাংলাদেশের উচ্ছ্বাসটা দেখলো  ক্রিকেট বিশ্ব ।