শীত এলো বলে…

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

সাগুফতা শারমীন তানিয়া/sagupta

সাগুফতা শারমীন তানিয়া

শীতকাল আসছে বলে এখন দ্রুত বেলা পড়ে আসে। রান্নাঘরের জানালার বাইরে শুরু হয় শেয়ালের আনাগোনা। পাতা ঝরার, কি শিশির ঝরার হিম হিম শব্দ। কাশ্মীর আরেকটু লোমশ হয়ে ওঠে। সাটিন একটু ঘরকুনো হয়ে যায়, পার্ট-টাইম পাড়া বেড়ানি থাকে না আর। সন্ধ্যার রান্না রাঁধতে গিয়ে যখন গরম তেলে জিরে ফোঁড়ন দিই, হ্যাঁচ্চো করে হাঁচি আমি, আরেকটা হাঁচি দেয় কুশান অন্য ঘরে, কাশ্মীরও ফিঁচ করে হাঁচে। ফোঁড়নের ভারী অ্যাটমসফেয়ারিক গন্ধটা জমজমাট করে তোলে আমাদের মামুলি ঘরদোর। খুব অদ্ভূত করে আমার ভিতর থেকে ব্যবচ্ছেদ করে বের করে আনে ছোটবেলার আমাকে- যেন আমিই পাশের ঘরে পড়তে বসেছি সন্ধ্যাবেলার ‘ফেয়ারিটেইল থিয়েটার’এর মায়া কাটিয়ে। আম্মা রাতের রান্না চড়িয়েছে। খাবার টেবিলটা ছিল আমাদের সভাস্থল। সবাই একসাথে খেতে বসতাম আমরা, হাতে বই বা অন্য কিছুতে মনোযোগ দেবার উপায় ছিল না। আমি বসতাম আব্বা আর ছোটফুপুর মাঝখানে। আমার উল্টোদিকে ভাই, ভাইয়ের পাশে মা। বারান্দার দিকের দরজা বন্ধ না করলে আশ্বিন শেষের হিম ঢুকে যেত ঘরে। কার্তিকে ঢুকতো এন্তার দেয়ালি পোকা। খেয়েদেয়ে আমি যেতাম বইয়ের আড়ালে ‘আউটবই’ পড়তে নয় ছবি আঁকতে।

fb_nov_1

ছোটবেলার আঁকা সেই ছবির ক্যালেন্ডার

আজ কাগজ গোছাতে গিয়ে হাতে পড়লো তেমনি একটি নমুনা, আট বছর বয়েসে আমি একটা ছবি আঁকা প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছিলাম বাংলাদেশ থেকে, ৫০ ডলার পেয়েছিলাম পুরস্কার, সে ছবি স্থান পেয়েছিল ১৯৮৭ এর ক্যালেন্ডারে। এই ছবি যে আমিই এঁকেছি সেটা প্রমাণ দিতে আমাকে বিচারকদের সামনে আরেকবার এঁকে দেখাতে হয়েছিল, কী অদ্ভূত! (কে এঁকে দিয়েছে, কে লিখে দিয়েছে, কে বানিয়ে দিয়েছে এইসব প্রশ্ন আমি আজীবন শুনেছি।) ক্যালেন্ডারটা আমি নিয়ে এসেছিলাম বাড়ি থেকে। আজ কুশনকে দেখিয়ে বললাম, দেখেছিস তোর থেকে মোটে দুই বছরের বড় একটা মেয়ে কত ভাল আঁকতো! তুই দ্যাস খালি ঢেঁড়া আর ফুটকি।”
কুশান বানান করে দ্যাখে এটা তার মায়ের নাম (নামের বানান ভুল)। হিহি করতে করতে সে সেটা দেখলো- আরে, মা তার কাছাকাছি বয়সের ছিল, এটা কি করে সম্ভব। আমি তাকে মাংসের ঝোলভাত খাওয়াচ্ছি, সে উম্মম শব্দ করছে-
-মেমে, এই শব্দটার দুইটা মানে। একটা হচ্ছে রান্নাটা খুবই ভাল হয়েছে, আই অ্যাবসলুটলি লাভড ইট। এইটা কালকেও রাঁধবে। পরশুও। আরেকটা মানে হচ্ছে, এই যে তুমি আমাকে হাতে মেখে খাইয়ে দিচ্ছ এটা আমার ফেভরিট।

উম্মম এর ব্যাখ্যা শুনছি, আজ সকাল থেকে দু’বার সে বলেছে হাতে খাইয়ে দেয়া তার কত প্রিয়। আমার মনে পড়ছে, ভাত ফুটবার গন্ধে টগবগে একটা বাড়িতে আম্মা আব্বাকে হাসতে হাসতে দেখাচ্ছে- “দ্যাখো, তোমার মেয়ে মাইকের নামও এঁকেছে, শাহী মাইক!” আট বছরের সেই মেয়ের দিকে সস্নেহে আজ আমিও তাকিয়ে আছি, তুমি ছিলে বলেই না আমি এখনো আছি। দিব্যি আছি।