শীতের হাওয়া লাগলো ত্বকে…

kantha ahmed

হাল্কা হাল্কা শীতল বাতাস মনে করিয়ে দিচ্ছে শীত এলো বলে। বনে বনে পাতা ঝরার উৎসবে মুখরিত হওয়ার দিন। পাতা ঝড়া  গাছগুলো যেমন নিষ্প্রাণ হয়ে যাবে তেমনি ত্বকের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায়। শীতের শুষ্ক আবহাওয়া এবং এই সময় ধুলোবালি বেশী হওয়ায় বাইরে বের হলে ত্বক হয়ে যায় খসখসে ও মলিন।তাই এবারে শীতের ত্বক পরিচর্যা সম্পর্কে বলছেন কান্তা আহমেদ।

rini-2এই সময়ে ক্রিম, সাবান যাই ব্যবহার করবেন লক্ষ্য রাখতে হবে তা যেন ময়েশ্চারাইজারযুক্ত হয়। গোসলের আগে শরীরে অলিভ অয়েল লাগাতে পারেন অথবা গোসলের শেষে অল্প পানিতে কিছুটা অলিভ অয়েল দিয়ে গা ধুয়ে নিন। তারপর আলতো করে গা মুছবেন।
শীতে বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকে বিধায় ত্বকের এপিডার্মাল লেয়ার থেকে আর্দ্র ভাব কমে যায়। এর ফলে ত্বকে বলিরেখা দেখা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে ময়শ্চারাইজারযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। তা ছাড়া গোলাপজল ও গ্লিসারিন ৩:১ অনুপাতে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। শীতের আরেক সমস্যা হচ্ছে ঠোঁট ফাটা ও কালো হয়ে যাওয়া। এর সমাধানও গ্লিসারিন। বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজাবেন না। আর ঘুমাতে যাওয়ার আগে গ্লিসারিন লাগাবেন। হাত-পায়ের ত্বক ফেটে গেলে তারপর গ্লিসারিন বা ভেসলিন না মেখে বরং ফেটে যাওয়ার আগেই গ্লিসারিন মেখে নেওয়া ভালো। শীতে ত্বকের যত্নে আপনাকে অবশ্যই কিছু সময় দিতে হবে। মহিলারা যারা নিয়মিত ফেসিয়াল, স্ক্র্যাব ম্যাসাজ করান তারা শীতকালেও নিয়মিত চালিয়ে যান। শীতকালের জন্য ফেসিয়াল ও স্ক্র্যাব ম্যাসাজ বেশ ভালো। কারণ এতে ত্বকের মরা কোষ উঠে যেতে সাহায্য করে আপনার ত্বক যদি শুষ্ক ও তৈলাক্ত দুই ধরনের হয়ে থাকে, তাহলে ত্বকের প্রতি আরও বেশি যত্নবান হতে হবে। কারণ শুষ্কতা রোধ করতে গেলে ত্বকের আর্দ্রতা বেড়ে যেতে পারে। ঠিক একইভাবে আর্দ্রতা কমাতে গেলে শুষ্কতা বৃদ্ধি পেতে পারে। এ ক্ষেত্রে আপনার যেসব বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে, সেগুলো হলো—
দিনে তিনবার মুখ, গলা, কান ক্লিনজার দিয়ে পরিষ্কার করবেন। শীতে ধুলো বেশি হওয়ায় ত্বকে ময়লা জমে বেশি।
গোসলের সময় সাবান বেশি ব্যবহার না করে একটা নরম ওয়াশ ক্লথ দিয়ে শরীর ঘষে ময়লা তুলে নেবেন।
এরপর সারা শরীরে উইন্টার কেয়ার লোশন ব্যবহার করুন, যা শরীরের আর্দ্রতা ফিরিয়ে দিতে সাহায্য করবে।
এ ছাড়া যাদের পা ফাটার সমস্যা আছে, তারা নরম পা ঢাকার জুতা পরলে আরাম পাবেন।
বাইরে বা রোদে বেরুলে শরীরের অনাবৃত অংশের ত্বক রক্ষার জন্য অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার বা সান প্রোটেক্ট ক্রিম ব্যবহার করবেন।
যারা শুষ্ক ত্বকের ময়লা তুলতে আগ্রহী, তারা সপ্তাহে ২-৩ বার উপটান ব্যবহার করতে পারেন।
এ ছাড়া যাদের ত্বক খুব শুষ্ক, তারা ত্বকে পুষ্টি জোগাতে ডিম ও মধুর মাস্ক কিংবা বাদাম বাটার মাস্কও লাগাতে পারেন।
শীতকালে চুলে ধুলো-ময়লা জমে চুল হয় শুষ্ক ও রুক্ষ। এ ছাড়া শীতকালে চুলের প্রধান সমস্যা চুল পড়া ও খুশকির উপদ্রব। চুল পরিপাটি সুন্দর রাখা যায় দুটি উপায়ে—চিরুনি দিয়ে আঁচড়ে এবং ব্রাশ করে। তোয়ালে দিয়ে আলতোভাবে শুকানোর পর চুল সামান্য ভেজা থাকা অবস্থাতেই চিরুনি দিয়ে আঁচড়ান, যাতে সহজেই জট ছাড়ানো যায়।