বড়রাও ভুল করে

বিশিষ্ট শিল্পী কনকচাঁপা এবার গানের পাশাপাশি প্রাণের বাংলার পাতায় নিয়মিত লিখবেন তার জীবনের কথা।কাটাঘুড়িরমতোকিছুটাআনমনা সেসব কথা, হয়তো কিছুটা অভিমানিও। কিছুটা রৌদ্রের মতো, খানিকটা উজ্জ্বল হাসির মতো। পড়ুনকাটাঘুড়িবিভাগে।

কনকচাঁপা

শান্তিবাগ থাকতে একদিন সেঝোখালাম্মার সঙ্গে তার শশুড় বাড়ির এক আত্মিয়ার বাসায় গেলাম।মানে খালাম্মা গেছেন,যাওয়ার সময় আম্মার কাছ থেকে আমাকে চেয়ে নিয়ে গেলেন, ওনাদের বাসা মগবাজার।সেই আত্মিয়া আমার মার বন্ধু।আমাকে তিনি খুব আদর করেন।খুব আনন্দেই কাটাচ্ছিলাম সময়।বিকেলের দিকে আমার খালাম্মা আমাদের বাসায় চলে আসলেন। খালাম্মা ঢাকা এসে আমাদের বাসাতেই উঠেছেন।যাইহোক, খালাম্মা যখন বিদায় নিচ্ছেন, ওই আত্মিয়া বললেন আমরা আমার বড় ভাইয়ের বাসায় যাচ্ছি,কনাকে দাও, নিয়ে যাই।খালাম্মাও আমাকে দিয়ে দিলেন,আমিও ওনার সঙ্গে দিব্বি তার বড় ভাইয়ের বাসায় গেলাম,আর আমার খালাম্মাও দিব্বি আমাদের বাসায় চলে গেলেন।konokchapa_nov1

পাঠক,বলেন এখানে ছয় সাত বছরের শিশুর কি দোষ! সে তো সবার হাতের পুতুল।যেমন খালাম্মার আদর, তেমন খালাম্মার আত্মিয়ার স্নেহ,তেমনি তার বড় ভাইয়ের আদর।কিন্তু কি হল জানেন? রাতে যখন বাড়ি ফিরলাম তখন শুনলাম আমি নাকি হারিয়ে গেছি।আসলে কোথাও একটা ভুল হয়েছিল।এবং সে ভুল অবশ্যই বড়দের ভুল ছিল সেটা।যোগাযোগ এর কমতি ছিল,না ফোন,না কিছু,আম্মা অনেকক্ষন তার কন্যাটিকে না পেয়ে ভেবেছিলেন হারিয়ে গেছি,কারন আমাকে হস্থান্তর করে খালাম্মা খালুজি সিনেমা শো দেখতে চলে গিয়েছিলেন! এখানে অনেকজন বড় রা জড়িত আমার এই কথিত হারিয়ে যাওয়ায়।কিন্তু সারা ছোটবেলা আমি এই হারানো গল্পের অযাচিত সুবাস গায়ে জড়িয়ে বেড়িয়েছি এবং মুখ চুন করে থেকেছি।কারন এর পর মাস ছয়েক যে-ই আসতেন আমাদের বাসায়, এসেই জিজ্ঞেস করতেন,কিরে? তুই নাকি হারিয়ে গেছিলি? তুমি নাকি হারায়া গেছো! কিরে? হারায়া গেছোস কেমনে? এতো থুইয়া তুই হারাইলি? আমার ব্যখা বা ভাবনা অন্য কোথাও।আমি কখনওই অভিভাবক দের ওপর রাগ করিনা।আসলে তখনকার সমাজ, সামাজিক ব্যবস্থা এতো অসংরক্ষিত ছিলনা।আত্মিয়রা তো আপনই।পাড়াতো চাচা মামা খালা ফুপু তারাও কম আপন ছিলেন না।তাদের সঙ্গে সময় ব্যয় করতে কোন বাঁধা একদমই ছিলনা।সেজন্যই একজনের সঙ্গে গিয়ে আরেক বাসায় হস্থান্তরিত হওয়া কোন ব্যপার ছিল না।কিন্তু দোষ টা এতো টুকু শিশুর ঘাড়ে চাপিয়ে দিব্বি দুপুরের অলস বেলার আড্ডা জমিয়ে তুলে শিশুটিকে বিব্রত করা অভিভাবকদের জন্য মোটেও ভালো কাজ নয়। পৃথিবীর সব শিশুই সুরক্ষা পাক আর এই রকম ভুল দোষারোপ কাঁধে নেয়া থেকে চাপমুক্ত থাক।কারন শিশুর কাঁধ আর কতই চওড়া। কনা? তুই নাকি হারালি? কই? তোকে তো এ জীবনেও হারাতে দেখলাম না! কিরে? কি ভেবেছিস? হারানো এতো সোজা? হাহাহা,এ কথাগুলো কনা এখন কনাকেই অবিরাম বলে যায়।কারন কনা যে হারাবে,হারিয়ে যাবার মত আনন্দময় রাস্তা কনা চেনেই না? আর কবে চিনবে?কনা?