সোনামনির পড়ার ঘর

জীবনের ফেলে আসা সময়ের দিকে ঘুরে তাকালে আমাদের শৈশব- কৈশোর আর তারুণ্যের দিনগুলোকেই শ্রেষ্ঠ সময় বলে মনে হয়। সেই জীবনে একমাত্র দুঃখ হয়ে ফিরে আসতো পরীক্ষার আগাম বার্তা। আর এই পড়াশোbaby_rmনাকে ঘিরেই থাকতো মায়ের যত বকুনি আর আমাদের চোখের পানি, নাকানি-চুবানি, দুঃখ-বেদনার ঘনঘটা। তারপরেও মনে হয় সেই তো ভালো ছিল। আমাদের উজ্জ্বলতম দিনগুলি। সোনালি সময়। এ শুধু আমার নয়, আমি জানি, আমার সঙ্গে একমত হবেন আরো অনেকে। সেই শৈশব-কৈশোরে আমাদের অন্যতম সময় কাটতো পড়ার ঘরে, পড়ার টেবিলে বসে।তাই না?  অনেক সময় খাবারটাও চলে আসতো পড়ার টেবিল অব্দি পরীক্ষার আগে সময় বাঁচাতে। এখন যারা তাদের কৈশোরে-শৈশবে তাদের ক্ষেত্রও এর বেশি ব্যতিক্রম নয়। যেই ঘরে কেটে যায় জীবনের এত মূল্যবান সময়গুলো, সেই ঘরের সজ্জাটাও তো হওয়া চাই ছিমছাম, পরিপাটি আর মনকাড়া। সঙ্গে আরো নিশ্চিত করতে হয় আলো, বাতাস, খোলামেলা পরিবেশ। কিন্তু এই যুগে কোথায় পাবেন এত পরিসর আর আলো? তাই আমাদের ভাবতে হয় একটু বেশি। কম পরিসরে কী করে সাজাবেন ঘর, কোন রঙ ব্যবহারে ঘরকে দেখাবে উজ্জ্বল।

পড়ার ঘর থেকে বড় বড় আলমিরা, বইয়ের তাক কে বরং না বলুন। জায়গা নিয়ে নেবে এরা অনেকটা। তারচেয়ে ঘরের দেয়ালগুলোতে নজর দিন। দেয়ালে আকর্ষনীয় নকশা করে বসিয়ে ফেলুন তাক। সোনামনিদের গল্পের, স্কুলের বইগুলো এখানেই রাখুন।সোনামনির পড়ার ফাঁকে ফাঁকে তার সঙ্গে একটু গল্প করতে চান? একটু বসার জায়গা…। বসার জন্য ছোট্ট ডিভানকেই বেছে নিন। ডিভানের নিচের দিকটায় ড্রয়ার দিয়ে দিন। পুরাতন ম্যগাজিন, কম ব্যবহারিত বইগুলো রাখতে পারবেন । পড়ার টেবিলটাও হোক ছোট। প্রয়োজনের বাইরে বাড়তি পরিসরটুকু ঝেড়ে ফেলুন।  সন্তান যদি দুজন হয়, ডাবল বেড না দিয়ে বরং উপরের দিকে বাড়িয়ে দিন-দোতলা খাট আনুন।

ঘরের রঙের জন্য নানা বর্ণের এবং উজ্জ্বল রঙের দিকে হাত না বাড়িয়ে বরং সাদার দিকে দৃষ্টি দিন।ঘরকে উজ্জ্বল ও প্রসারিত মনে হবে। বরং ঘরের পর্দায় উজ্জ্বল রঙ বা বাচ্চাদের পছন্দ অনুযায়ী নকশা, কার্টুন চরিত্রের ছাপা সম্বলিত কাপর বেছে নিন। এইটুকু রং-চঙই যথেষ্ট। ডিভানের উপর উজ্জ্বল রঙের কুশন ব্যবহার করুন। দেখবেন ঘরকে ছিমছাম, স্নিগ্ধ কিন্তু উজ্জ্বল দেখাচ্ছে। পরিপাটি করে সাজানোর জন্য ঘরে এক প্রকারের শান্তি শান্তি ভাব চলে এসেছে। বেশিক্ষণ পড়ার ঘরে সময় কাটালেও আপনার সন্তানের তেমন একঘেয়ে লাগছে না। ফুরফুরে মেজাজেই পড়াতে সময় দিচ্ছে বেশি। চায়ের ধোয়া ওঠা কাপটি হাতে নিয়ে আপনিও কাটিয়ে আসতে পারবেন কিছুটা সময়। সন্তানের খোঁজ-খবরটাও নেয়া যাবে এরই ফাঁকে।

ইভা আফরোজ