মাঠে গড়াচ্ছে বিপিএল আজ

আহসান শামীমঃ আজ শুক্রবার ৪ নভেম্বর মাঠে গড়াবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশের প্রিমিয়ার লীগের চতুর্থ আসর। সংক্ষেপে বিপিএল নামে পরিচিত।এবারের আসরে মোট ৭ টা দল অংশ নেবে। দলগুলো হল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স, ঢাকা ডায়নামাইটস, চিটাগাং ভাইকিংস, বরিশাল বুলস, রংপুর রাইডার্স, রাজশাহী কিংস ও খুলনা টাইটান্স।
বিপিএলে অংশ নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই শ্রীলঙ্কা,পাকিস্তান, আফগানিস্তান ,ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়রা এখন বাংলাদেশে।নিরাপত্তা কোন ইস্যু না। বাংলাদেশকে ক্রিকেট বিশ্ব নিরাপদ দেশ হিসেবেই মনে করেন । এবারই প্রথম সব দলই শক্তিমত্তায় প্রায় কাছাকাছি। প্লেয়ার ড্রাফট পদ্ধতিতে সব দলই সমান সুযোগ পাওয়ায় দল গুছিয়ে নিতে পেরেছে মোটামুটি সবাই। তারপরও দলগুলোর খেলোয়াড় তালিকা দেখে
মনে হয় ‘চিটাগং ভাইকিংস’ গোছানো দল নিয়ে প্রথমবারের মতো বিপিএলের শিরোপা জেতার স্বপ্ন দেখতেই পারে। অন্তত কাগজে-কলমে সবচেয়ে এগিয়ে চিটাগং ভাইকিংসই।তামিম ইকবাল, ক্রিস গেইল, ডোয়াইন স্মিথ—এই টপ অর্ডার দেখে যেকোনো দলের বোলিং লাইনআপই ভয় পাবে। এনামুল হক ও জহুরুল ইসলাম আছেন দলে। আর চমক হয়ে উঠতে পারেন উইকেটকিপার জাকির হাসান। সে সাথে অলরাউন্ডার হিসেবে আছেন শোয়েব মালিক, গ্র্যান্ট এলিয়ট, মোহাম্মদ নবী কিংবা জীবন মেন্ডিস। তাসকিন আহমেদ, শুভাশিস রায় ও ইংল্যান্ডের টাইমল মিলসের হাতে থাকছে পেস বোলিংয়ের দায়িত্ব। তবে দলের স্পিন বোলিংটাও দুর্দান্ত শ্রীলঙ্কার চতুরঙ্গ ডি সিলভা, বাংলাদেশের আবদুর রাজ্জাক, সাকলায়েন সজীব ও লেগ স্পিনার জুবায়ের হোসেন আছেন দলে।
‘কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস’ দলের নেতৃত্ব মাশরাফি বিন মুর্তজার কাঁধে। অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল নিয়েও গেল বছর মাশরাফির দারুণ অধিনায়কত্বই শিরোপা জয়ী দলটা। এবার শক্তিশালী দলই গড়েছে কুমিল্লা। মূল শক্তির জায়গা তাঁদের ছয় পাকিস্তানি। গেল বারের টুর্নামেন্ট সেরা আসহার জাইদিকে ধরে রেখেছে কুমিল্লা। এবার তাঁদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হয়ে উঠতে পারেন আফগানিস্তানের লেগ স্পিনার রশিদ খান। ব্যাটিংয়ে অবশ্য স্থানীয় ইমরুল কায়েস, লিটন দাস, আল আমিন ও নাজমুল হোসেনের ওপরই ভরসা রাখছে তারা। আর পেস বোলিংয়ে মাশরাফির সাথে সোহেল তানভীর ও নুয়ান কুলাসেকারা।
‘বরিশাল বুলস’ এবারের পেস আক্রমণ যথেষ্ট শক্তিশালী অন্য যে কোন দল থেকে । আল আমিন হোসেন, আবু হায়দার, কামরুল ইসলাম, থিসারা পেরেরা, কার্লোস ব্রাফেট, রায়াদ এমরিত। স্পিনে একটু ঘাটতি আছে দলে। শুধু তাইজুল ইসলাম, দিলশান মুনাবীরা ও মোহাম্মদ নওয়াজই আছেন স্পেশালিস্ট স্পিনার হিসেবে। ব্যাটিংয়ে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম, শাহরিয়ার নাফীস, শামসুর রহমান ও জশুয়া ভরসা। খেলোয়াড়দের সঠিকভাবে ব্যবহার করতেbpl_all পারলে বরিশাল ফেবারিটদের মধ্যেই থাকবে।
‘ঢাকা ডায়নামাইটস’ সমস্যাটা দলের ফায়ার পাওয়ার হিসেবে থাকা এভিন লুইস, আন্দ্রে রাসেল, ডোয়াইন ব্রাভো সবাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের। জিম্বাবুয়েতে ত্রিদেশীয় সিরিজ নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন এঁরা সবাই। ২৫ নভেম্বরের আগে তাঁদের পাওয়ার সুযোগ খুব কম ঢাকা ডায়নামাইটসের। যদিও কাগজে-কলমে ডাকা ডায়নামাইটসই সবচেয়ে এগিয়ে থাকার কথা ছিল। সাকিব আল হাসান, কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধনে খেলছেন এক দলে । সেই সাথে দেশের অন্যতম সেরা দুই অলরাউন্ডার নাসির হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন। মোহাম্মদ শহীদ, ওয়েইন পারনেল ও রবি বোপারাতেই আপাতত ভরসা রাখতে হচ্ছে তাদের। আর লেগ স্পিনার তানভীর হায়দারও চমক দেখাতে পারেন।
‘রাজশাহী কিংস’-এর এবার প্রথম বিপিএল । ২০১৫ সালে অনুপস্থিত ছিল রাজশাহী। নতুন নামে ভালো দল গড়েছে তারা। আইকন সাব্বির রহমান, ড্যারেন স্যামি, উপুল থারাঙ্গাদের নিয়ে ব্যাটিং লাইনআপটা ভালো। রনি তালুকদার, মুমিনুল হক, রকিবুল হাসান ও উমর আকমালরাও আছেন এই দলে। রাজশাহীর ম্যাচে নজর থাকবে মেহেদী হাসান মিরাজ ও ইবাদত হোসেনের দিকে । এই দুই তরুণ এবারের বিপিএল মাতাতে পারেন ব্যাটে-বলে। পেস বোলিংয়ের মূল দায়িত্ব অবশ্য ইবাদত নয়, থাকবে মোহাম্মদ সামি ও আবুল হাসানের হাতে।
‘খুলনা টাইটানস’ নেতৃত্বে এসেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ । রাজশাহীর মতো খুলনা টাইটানস বিপিএলে নতুন দল । কেভন কুপার, লেন্ডল সিমন্সদের নিয়ে গোছানো দলই গড়েছে খুলনা। কিন্তু ঢাকার মতো তাদেরও সমস্যা ফেলছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সূচি। দলের টপ অর্ডারে ক্যারিবীয় দলের আন্দ্রে ফ্লেচারও যে আছেন। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে নজরকাড়া নিকোলাস পুরানও আছে এ দলে। দেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে শুভাগত হোম ও অলক কাপালিতেই শুধু ভরসা রাখা যাচ্ছে। পেস বোলিংয়ে আছেন পাকিস্তানি জুনায়েদ খান ও অস্ট্রেলিয়ার বেন লাফলিন। তবে স্থানীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে বিগ হিটার হাসানুজ্জামান আলো কেড়ে নিতে পারেন।
‘রংপুর রাইডার্স’ বিপিএলের শুরুতেই মালিকানা বিবাদে জড়িয়ে আছে । অনুশীলনের মাঠ ছেড়ে খেলোয়াড়রা বৃহস্পতিবার ছুটে আসেন বিসিবির দফতরে।আসর শেষে খেলোয়াড়দের পেমেন্ট নিশ্চিত করতে । ফয়সাল ছাড়াই রংপুর রাইডার্স মাঠে নেমেছে । চোখ কপালে উঠতেই পারে মোহাম্মদ শেহজাদ, শারজিল খান, নাসির জামশেদ, শহীদ আফ্রিদি, সৌম্য সরকারের মতো অতি-আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং লাইনআপ দেখে। এবারের বিপিএলে আগেরবারের চেয়ে বেশি হবে প্রযুক্তির ব্যবহার।অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মধ্য দিয়ে এবারও খেলা দেখাবে চ্যানেল নাইন। বিশ্বের অনেকগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রচার মাধ্যমেও খেলা দেখা যাবে।সনি-ইএসপিএন, প্রিমিয়ার স্পোর্টস, ইএসপিএন, জিও টিভি আন্তর্জাতিকভাবে বিপিএল সম্প্রচার করবে।
সনিইএসপিএন এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে, ইএসপিএন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায়, প্রিমিয়ার স্পোর্টস যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপ অঞ্চলে, জিও টিভি পাকিস্তানে খেলা দেখাবে। এছাড়াও ক্যারিবিয়ান অঞ্চল ও মধ্যপ্রাচ্যের আরো দুটো চ্যানেলের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে।এবার খেলা সম্প্রচারে অনেকগুলো প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে। তার মধ্যে পিচ ক্যাম, আলট্রামোশন, জিং বেলস, আম্পায়ার ক্যাম, ভারচুয়াল গ্রাফিকস অন্যতম। ২৮টি ক্যামেরা থাকবে। প্রচার হবে ইউটিউবেও।
এবার সঞ্চালক হিসেবে কাজ করবেন শিনা চৌহান ও আমব্রিন। ধারাভাষ্যকার ড্যানি মরিসন, এডওয়ার্ড, সিকান্দার বখত, আতহার আলী ও শামীম আশরাফ চৌধুরী।
এতোটা জাকজমক পূর্ণ আয়োজনকে চোখ রাঙাচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপ । নিম্নচাপের প্রভাবে ঢাকাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির এ প্রবণতা আগামী ৭ বা ৮ নভেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।