এবার ভারতে নিরাপত্তা প্রশ্নে ইংল্যান্ডের দুশ্চিন্তা

আহসান শামীমঃ ঢাকা থেকে বাংলাদেশের আতিথেয়তা আর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মুগ্ধ ইংলিশদের ক্রিকেট দল কুকের নেতৃত্বে ঢাকা ছেড়ে ভারতের মুম্বাই  পৌঁছেছে । পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ।শুরুতেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে শঙ্কায় কুকের দল । শঙ্কার কারণ কুক’দের দলের সঙ্গে  সফরে থাকা নিরাপত্তা প্রধান রেগ ডিকাসন। তিনি মুম্বইয়ের পৌঁছে হঠাৎই মন্তব্য করেছেন, দলের দুই মুসলিম সদস্য আছেন। মঈন আলি এবং আদিল রশিদ। নিরাপত্তা প্রধানের হুঁশিয়ারি, শিবসেনার ঘাঁটি মুম্বইয়ে এই দুই ক্রিকেটারের উপস্থিতি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। যে  কারণে মঈন এবং রশিদ দু’জনের সাথেই তিনি কথা বলেছেন এবং তাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন, কী করতে হবে। তার কথা  জানাজানি হয়ে যাওয়া  অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে ভারতে ।
ind-vs-eng-logoইংলিশদের  দলে মঈন ও আদিল রশিদ  ছাড়াও বোলিং পরামর্শদাতা হিসেবে রয়েছেন   সাকলায়েন মুস্তাক। পাকিস্তানের হয়ে ক্রিকেট খেলা অফস্পিনার সাকলায়েন মুস্তাক অতীতে ভারত সফর করে গিয়েছেন। এখন তিনি  ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী  এবং ইংল্যান্ডে বসবাস করেন । সাকলায়েনের ভারতে আসা নিয়ে কোনো সমস্যা থাকতে পারে কি না জিজ্ঞেস করায় ভারতীয় বোর্ডের এক কর্তার উত্তর, ‘‘আমাদের কাছে সেরকম কোনো বার্তা এখনও নেই।’’
ভারতীয় বোর্ডের কর্তারা ডিকাসনের এমন মন্তব্য শুনে বিস্মিত।অনেকটাই  বিরক্তও। স্পর্শকাতর বিষয় বলে সরকারিভাবে কেউ প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি। তবে ভিতরে-ভিতরে অনেকেই ক্ষুব্ধ। ভারতের  প্রভাবশালী বোর্ড কর্তা জানান , ‘‘এক মাস আগে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে চিঠি এসেছিল। ওরা জানতে চেয়েছিল, ভারতে খেলতে আসা নিয়ে দলের কোনো সদস্যের ঝুঁকি থাকতে পারে কি না। আমরা তখনই নিরাপত্তা নিয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছিলাম যে, গোটা দলই ভারতে সুরক্ষিত। কাউকে নিয়েই কোনো উদ্বেগের জায়গা নেই।’’
মঈন আলি বা আদিল রশিদকে মুম্বইয়ের মাঠে প্র্যাক্টিস করতে দেয়া হবে না, এমন কোনো বিবৃতি এখনো ভারতের উগ্র হিন্দুবাদী শিবসেনার পক্ষ থেকে কেউ দেয়নি। বোর্ড কর্তাটি বললেন, ‘‘হুমকিই নেই তাহলে কথাটা উঠছে কোথা থেকে?’’ ডিকাসন যদিও দাবি করেছেন, মঈন আলিকে নিয়ে শিবসেনার আপত্তি আছে। শিবসেনার কর্মীরা নাকি প্রতিবাদ দেখাতে বোর্ডের অফিসেও গিয়েছিল।
ইংল্যান্ডের নিরাপত্তা প্রধান আরো বলেছেন, পাকিস্তানি আম্পায়ার আলিম দার’কে এই সিরিজ থেকে আইসিসি প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়েছে শিবসেনার হুমকিতে। সেটা নিয়েও বলা হচ্ছে, আলিম দার পাকিস্তানের নাগরিক বলে সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। মঈন আলি বা আদিল রশিদ দু’জনের কেউ পাকিস্তানের নাগরিক নন। তারা ইংল্যান্ডের নাগরিক এবং সে দেশের ক্রিকেট দলের সদস্য।
‘‘দু’জনের ব্যাপারেই আগে থেকে সবুজ সংকেত দিয়ে রেখেছি আমরা,’’ বলছেন শীর্ষস্থানীয় বোর্ড কর্তা। অভিনেতা ফাওয়াদ খানের উদাহরণ টেনে তিনি আরো বলেছেন,  ‘‘পাকিস্তানের নাগরিক বলেই ফাওয়াদ খানকে নিয়ে আপত্তি উঠেছে। আলিম দারের ক্ষেত্রেও তাই। ইংল্যান্ডের ক্রিকেট দলের সদস্যকে নিয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকলে তো সরকার আগে থেকে আমাদের অ্যালার্ট করত।’’
ভারত–ইংল্যান্ড প্রথম টেস্ট ম্যাচ শুরু   রাজকোটে ৯ থেকে ১৩ নভেম্বর।এরপর  দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ হবে বিশাখাপত্তনমে ১৭ থেকে ২১ নভেম্বর। মোহালিতে ২৬ থেকে ৩০ নভেম্বর হবে তৃতীয়  টেস্ট। ডিসেম্বরের ৭ থেকে ১২  মুম্বইয়ে হবে চতুর্থ টেস্ট, চেন্নাইয়ে ১৬-২০ ডিসেম্বরের  পঞ্চম টেস্টে পরস্পরের মুখোমুখি হবে। টেস্ট সিরিজের আগে ইংল্যান্ড  কোনও প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছে না। ক্রিকেট ক্লাব ইন্ডিয়ায় ৫ নভেম্বর অনুশীলন করবেন কুকরা। তারপর প্রথম টেস্ট খেলতে তাঁরা রাজকোট উড়ে যাবেন।