গৌরব, হাসি আর লজ্জা

আহসান শামীমঃ টেস্ট ক্রিকেটের ১৩৯ তম বছর চলছে। অনেক ঐতিহ্য মিশে আছে এই টেস্ট ক্রিকেটের সঙ্গে। ১৩৯ বছরের এই দীর্ঘ সময়ে অনেক রেকর্ডের জন্ম হয়েছে। সেই রেকর্ড কেউ গড়েছে আবার কেউ ভেঙ্গেছে। বৃহস্পতিবার ৩ নভেম্বর,  যে রেকর্ডের জন্ম হলো তা টেস্ট ইতিহাসে প্রথম।

ক্রেইগ ব্রার্থওয়েট

ক্রেইগ ব্রার্থওয়েট

রেকর্ডের জন্ম দিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজর ওপেনার ক্রেইগ ব্রার্থওয়েট। পাকিস্তানের বিপক্ষে শারজাহ টেস্টে ওপেনার হিসেবে খেলে দুই ইনিংসেই শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ব্রার্থওয়েট। ফলে টেস্ট ক্রিকেটে নতুন রেকর্ডের জন্ম দিলেন তিনি।
ওপেনার হিসেবে খেলতে নেমে ম্যাচের এক ইনিংসে অপরাজিত থাকার রেকর্ড এখন পর্যন্ত ৫০ জন ব্যাটসম্যান গড়েছিলেন। সেই ৫০ জনের মধ্যে বাংলাদেশের ওপেনার জাভেদ ওমর বেলিমও আছেন।
শারজাহ-এ ম্যাচের প্রথম ইনিংসে অপরাজিত থেকে বিশ্বের ৫১তম খেলোয়াড় হিসেবে গেল মঙ্গলবার সেই তালিকায় নাম লিখিয়েছিলেন ব্রার্থওয়েট। তবে ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসেও অপরাজিত থেকে বিরল রেকর্ডের জন্ম দেন তিনি।প্রথম ইনিংসে ১১টা চারের সাহায্যে ৩১৮ বলে ৪৯৫ মিনিটে ১৪২ রানে অপরাজিত থাকেন ব্রার্থওয়েট। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬টা বাউন্ডারিতে ১০৯ বলে ২০১ মিনিটে ৬০ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তার এমন নয়া বিশ্ব রেকর্ড ও দুর্দান্ত ব্যাটিং নৈপুন্যে পাকিস্তানের বিপক্ষে শারজাহ টেস্ট ৫ উইকেটে জিতে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এরকম একটা বিরল রেকর্ডের মাত্র ৬ দিন আগে ঢাকা টেস্টে ইংলিশদের বিপক্ষে ১২৯ বছরের রেকর্ড স্পর্শ করেন বাংলাদেশের মিরাজ । এর আগে  এই রেকর্ডের দাবিদার  একাই ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান জন জেমস ফ্যারিসের। ১৮৮৭ সালে ইংলিশদের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ১১ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় টেস্টে নিয়েছিলেন ৭ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ান জন জেমস ফ্যারিসের বয়স তখন উনিশ পেরিয়ে। আর মিরাজ যখন এই রেকর্ড স্পর্শ করেন তখন তার বয়স উনিশের কম ।পরিসংখ্যানের সবকিছুই জানা হয়ে গেছে ক্রিকেট বিশ্বে । মিরাজ এখন নতুন বিশ্ব রেকর্ডের অধিকারী ।

 মিরাজ

মিরাজ

অন্যদিকে একই দিনে বিশ্বের সবচেয়ে ‘হাস্যকর রান আউটের মালিক’  হয়ে গেলেন আমির।
ক্রিকেটে অনেক হাস্যকর সময় আছে। তবে আমিরের এই রান আউটটা অন্য আট-দশটা হাস্যকর সময়ের থেকে একেবারে আলাদা। যেখানে সবাই ভেবে নিয়েছিলো বাউন্ডারি সেখানে কিনা আমিরকে রান আউট হতে হলো।ঘটনাটা পাকিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের। পাকিস্তানের স্কোর তখন ৭ উইকেটে ১৯২ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের লেগ স্পিনার দেবেন্দ্র বিশুর ডেলিভারিতে লং অনে উড়িয়ে মারেন পাকিস্তানের মোহাম্মদ আমির। অপরপ্রান্তে ছিলেন ওয়াহাব রিয়াজ।
তারা ধরেই নিয়েছিলেন বলটা ছক্কা হবে। অযথা দৌড় দিয়ে কষ্ট করে কি হবে। অবশ্য  ক্রিজ ছেড়ে একেবারে আমিরের প্রান্তে চলে গিয়েছিলেন রিয়াজ। কিন্তু নাটকীয়তার তৈরি হয় তখনই। অসাধারণ এক ফিল্ডিংয়ে বলটাকে ছক্কা হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেন রোস্টন চেজ। আমিরের তখন সেদিকে খেয়াল নেই। যখন বুঝতে পারলেন তখন কিছু করার ছিলো না আমিরের। তারপরও মাঝ মাঠ থেকে দৌড় দিলেন। ততক্ষণে স্ট্যাম্প ভেঙে দিয়েছেন হোল্ডার। ৮ রান করে রান আউট হয়ে বিদায় নিতে হয় আমিরকে।
এই দুই রেকর্ডে পাকিস্তানের টানা নয় টেস্ট জয়ের স্বপ্ন অধরা থেকে যায় । আর তাতে টেস্ট র‍্যাংকিংয়ে আটে ওঠার লড়াইয়ে বাংলাদেশকে অপেক্ষায় থাকতে হবে , ।
কোনো দেশ ক্রিকেট খেলতে অন্য দেশে গেলে সাধারণত হোস্টরাই তাদের সমস্ত ব্যয়ভার বহন করে।  বাংলাদেশের কাছে শেষ ম্যাচ হেরে ভারত সফরে গিয়ে নতুন বিপাকে পড়েছে ইংলিশ দলটা তাদের নিজেদের খরচ নিজেদেরকেই বহন করতে হবে ।
পাঁচ টেস্টের সিরিজ খেলতে দুদিন আগেই বাংলাদেশ থেকে ভারতে পৌঁছেছে ইংলিশদের ক্রিকেট দল। ইতোমধ্যে ভারত সফরে কুকদের খরচ মেটানোর জন্য ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডকে অনুরোধ জানিয়েছে বিসিসিআই। ভারতীয় ক্রিকেট কাউন্সিল “বিসিসিআই” ও লোধা সংঘাতের প্রভাবেই ক্রিকেট ইতিহাসের এই বিরল ঘটনা ঘটল।বিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে এজন্য ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে ।
বিশ্ব ক্রিকেট এরকম বাজে রেকর্ডের ঘটনা এটাই প্রথম । ভারতের ক্রিকেট কাউন্সিলের  আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখার জন্য একটা কমিটি গঠন করেছে ভারতের  সুপ্রিম কোর্ট।