সাদা পোষাক, মুখ লাল কাপড়ে বাঁধা

লিনা ফেরদৌস

লিনা ফেরদৌস

সাদা পোষাক, মুখ লাল কাপড়ে বাঁধা, হাতে মোমবাতি জ্বালানোর মধ্য দিয়ে রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবরে বেলা ৩.৩০ টায় পালিত হল শিশু ধর্ষনের প্রতিবাদে প্রতীকি মৌন সমাবেশ এবং চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে বেলা ৩:০০ টায় ।Safe Women এর প্রথম কার্যক্রম ।nirbachito4
সারা পৃথিবীতে শিশু অধিকারের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে অনুসরণ করা হয়। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের কর্ণধর। তাই শিশু নির্যাতনের বিষয়গুলোকে উন্নত দেশে স্পর্শকাতর হিসেবে জিরো টলারেন্স হিসেবে মানা হয়। কিন্তু আমরা কি এগোচ্ছি সেই পথে?
পত্রিকায় প্রকাশিত খবর বলছে চারদিকে আজ ধর্ষণের মহোৎসব চলছে। বছরের শুরু থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত ৯ মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৩২৫ শিশু। গত চার বছরে ১৩০১ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এরমধ্যে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৬৯ জন শিশু। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৯৩ জনকে এবং ৩২ জন শিশু আত্মহত্যা করেছে। বাস্তবে এ সংখ্যা হয়তো আরও অনেক বেশি। কেননা লোকলজ্জা আর সামজিক দৃষ্টিভঙ্গির ভয়ে অনেক শিশু ও তার পরিবারের কষ্টের চাপা কান্নার খবরগুলো উঠে আসেনি পত্রিকার পাতায়।
শিশু ধর্ষক আসলে কারা? আপনার আমার সম্পর্কের মুখোশ পড়া কোন পুরুষ। কখনও সে ভাই, কখনও কাকা, কখনও নানা-দাদা কিংবা ওত পেতে থাকা কোন হায়নারূপি মানুষ। এদের দ্বারা যেকেনো সময় আক্রান্ত হতে পারে আপনার, আমার শিশুটি।
শিশু ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা অতি দ্রুত নিশ্চিত করে তা কার্যকরের কোনো দৃষ্টান্ত এদেশে আজও আমরা দেখি নি। বরং বিচারের দীর্ঘসূত্রতা ও আইনের নানা ফাঁকফোঁকর দিয়ে নিশ্চিত জীবনে ফিরে এসেছে অনেক ধর্ষক।
nirbachito-2বিচারহীনতার এই সংস্কৃতির কারণে সমাজে ক্রমাগত বাড়ছে ধর্ষণের অপরাধটি। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের ফলে মেয়ে শিশুটি ও তার পরিবার নিদারুণ কষ্ট আর অপমানের মধ্য দিয়ে দিন কাটায় এদেশে। এমনটা তো আমরা প্রত্যাশা করি না। আমরা চাই রাস্ট্র শিশু ধর্ষণের বিষয়ে জিরো টলারেন্স দেখাক। শিশু ধর্ষণের কঠিন শাস্তি দ্রুত নিশ্চিত করা হোক এবং দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দেওয়া হোক যাতে কেউ আর শিশু ধর্ষণের কথা কল্পনাও করতে না পারে।
যদি এভাবেই শিশু ধর্ষণ চলতে থাকে, যদি আমরা নিজেরা সচেতন না হই, যদি এর প্রতিবাদ না জানাই, রাস্ট্র যদি শিশু ধর্ষণের বিচার নিশ্চিত করতে না পারে -তাহলে কাল আপনার শিশুটিও ধর্ষিত হতে পারে। কেননা ভুলে গেলে চলবে না-আগুন বাতাসে ছড়ায়। সমাজে শিশু ধর্ষণের যে আগুন লেগেছে যদি সেটা নেভাতে আজ আপনি এগিয়ে না আসেন, তাহলে বাতাসে এক সময় সেটি আপনার ঘরেও প্রবেশ করবে।
আমরা এদেশের কয়েকজন মা, অতি সাধারণ নারী, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়। শিশু ধর্ষণের বিরুদ্ধে পথে নেমে আজ মৌন প্রতিবাদ করছি। কারণ আমরা মনে করি সর্বপ্রথম রাস্ট্রকেই শিশু ধর্ষণের বিষয়ে কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। শিশু নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু প্রতিবাদই নয়, এ বিষয়ে নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করবো আমরা। এটাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই- ধর্ষণের কালো থাবা থেকে মুক্ত থাকুক আমাদের শিশুরা।