প্রশ্ন পত্র ফাঁস নাকি কিছু স্বপ্নের মৃত্যু…

উম্মে হাবিবা লাবনি

উম্মে হাবিবা লাবনি

নাম না জানা নানান ভিড়ে শত শত মানুষের মনুষত্বআজ বিরান জলাভুমি।জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষ তার জীবনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে পথ চলার চেষ্টা করে যায়। আর এই চেষ্টাকে তাদের কোমল মতি মনের প্রতিটি শাখায় পৌছে দেই আমরা অভিভাবকরা। আমরা তাদের ছোট বেলা থেকে তাদের লক্ষ্য ঠিক করে দিতে সাহায্য করি। বলি ,যে তুমি বড় হয়ে ডাক্তার বা ইন্জিনিয়র হবে তাও যদি না হতে পার এমন কিছু করবে যেন,করে সবাই বলে ছেলে/ মেয়েকেstudent-progress-students-and-parents-can-find-each-student-s-current-q5josm-clipart দেখ মানুষ করতে পেরেছে। স্বভাবত আমরা সবাই তা-ই করি।আর তা দেখে দেখে আমাদের সন্তানরাও ছোট থেকে তাদের বড় কিছু হওয়ার স্বপ্ন পুরনের আশায় তারা যুদ্ধ ক্ষেত্রে প্রবেশ করতে থাকে। বেশি না পঞ্চম শ্রেনী থেকে দ্বাদশ শ্রেনী এর মধ্যেই আমাদের যোদ্ধারা তাদের লক্ষ্য স্থির করে এগোয়।কেউ কেউ নিজের চেষ্টায় তাদের লক্ষ্যে পৌঁছে আর কেউবা করে চুরি করে।এটাই হল পার্থক্য। কিন্তু স্বপ্ন তো পুরন হল। তাইনা!! এখন আসি মুল কথায়। তা হল এই যে প্রশ্নপত্র ফাঁস তা কি আমরা কেউ রোধ করতে পারছি বা ভবিষতেও কি পারবো? প্রশ্ন থেকে যায়। কিন্তু প্রশ্ন টা কার কাছে করবো, কোথায় গেলে আমার এই বিবেকের তাড়না থেকে মুক্তি পাব জানিনা।১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনেছি বাবার মুখে। কারন তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। এমন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আজ আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। আর আজকের যুদ্ধ আমার বিবেকের, আজকের যুদ্ধ কিছু মানুষের স্বপ্ন পুরনের। আমার মেয়ে এবার এইচ এস সি পরিক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে পাস করে।student-taking-test-clip-art-qqpcq2-clipart_2 অনেক খুশি হয়ে ওঁকে বলেছিলাম আমার স্বপ্ন তুই ঢাকা

ইউনিভার্সিটি তে পড়ে আমার তোর দুজনেরই স্বপ্ন পূরণ করবি। ছোটবেলা থেকে ও অনেক ভাল ফলাফল নিয়ে এই পর্যন্ত এসেছে।  ঢাকা ইউনিভার্সিটি গ ইউনিট এ পরিক্ষা দিল কিন্তু সেটাতে ও চান্স পাইনি। এরপর অনেকটা হতাশা হয়েছিল। পরে আবারও ঘ ইউনিটে পরিক্ষা হলো। সেটাতে ও চান্স পায়। মুল কথা এখনো বাকি, যেদিন ঘ ইউনিটের পরিক্ষা হয় সেদিন বলেছিল মা আমার পরিক্ষা ভাল হয়েছে। আশা করি পারবো। তখন ও জানতাম না যে ওর স্বপ্ন পূরণের ইচ্ছে টা চুরি হয়ে গেছে অনেক আগেই। রাতের মধ্যে শুনতে পেলাম প্রশ্ন পত্র ফাঁস হয়ে গেছে। শুনে বলেছিলাম কথাটা বুঝি ভূয়া কিন্তু সেটা যে সত্য তা ফেসবুকে ছেলেমেয়েদের পোষ্ট দেখেই প্রমান পেলাম। এই কি আমার দেশ, যে দেশে চলে মানুষ মানুষে হানাহানি। স্বার্থপরতা। যেখানে শুধু কিছু পয়সা দিয়ে স্বপ্ন পূরণ করা যায়।যেসকল ছাত্র/ছাত্রী আগে প্রশ্ন পেয়ে চান্স পেল তারাতো এগিয়ে গেল। তাহলে কিভাবে ইউনিভার্সিটি বুঝবে যে কে মেধা দিয়ে চান্স পেল, আর কে চুরি করে …….. যেখানে মেধার কোন মুল্য হয়না, যেখানে টাকা দিয়ে মেধা তালিকায় পৌঁছানো যায় খুব সহজে। অথচ কষ্ট করে তিলতিল করে মেধা খাটিয়ে থাকতে হয় পিছে পড়ে। আমি জানিনা আমার মেয়েকে ভাইবা বোর্ডে ডাকবে কিনা কে যানে। হয়তো ডাকবে হয়তো ডাকবেনা। আমার মেয়ের মত হাজার হাজার ছেলেমেয়ে আজ হতাশার সাগরে তলিয়ে যাচ্ছে। কে দেবে এদের আশার বানী, কে দেবে এদের সুন্দর ভবিষ্যত। জানিনা, কিছুই জানিনা। এই দেশের ভবিষ্যত নাগরিকরাই যদি এভাবে পিছিয়ে পড়ে। তাহলে জাতি হিসেবে আমাদের লজ্জা রাখার জায়গা থাকবে কি? আমার জানা নেই। ছেলে মেয়েরা এই হতাশাগ্রস্থ জীবনে একবার চলে গেলে কে ফেরাবে ওদের???? আমি ভয় পাই এই হতাশায় বশীভূত হয়ে আমাদের সন্তানরা যেন কোন ভুল পথে গাঁ না ভাসায়।তাহলে কথা হল যে, আমাদের সন্তানরা কি নিয়ে পথ চলবে? হতাশা, গ্লানি আর অন্ধকারে পিছিয়ে পড়ার ভয় নিয়ে?নাকি সামনে চলবে বুক ভরা কষ্ট নিয়ে ? আর কতদিন এভাবে তিলতিল করে শেষ হবে ওদের স্বপ্ন।হয়তো কেউ আবার নিজেকে তৈরি করবে যুদ্ধ ক্ষেত্রে যুদ্ধ করার জন্য। কেউবা হারিয়ে যাবে আদিবার মত না ফেরার দেশে। আমার এই লেখা হয়তো কারো চোখে পড়বে, হয়তো পড়বেও না। শুধু জানতে চাই আর কত দিন এসব সহ্য করতে হবে। আর কতদিন দেখতে হবে সন্তানের আহাজারি। আজ আমার সন্তান পড়াশুনা ছেড়েছে ,কাল হয়তো আপনার সন্তান।কে দিবে সন্তানের নিরপত্তা। চলুন সবাই মিলে কিছু করি।হয়তো কিছু হবে, হয়তো কিছুই হবেনা। তবুও ভাবি ভবিষ্যত প্রজন্ম যেন না বলতে পারে যে, যে দেশে চুরি করে স্বপ্ন পূরণ হয় সেখানে মেধা খাটিয়ে লাভ কি??????আমার এই যুদ্ধ আমার বিবেকের যুদ্ধ।।।।।।অনুরোধ রইল উর্ধতন কতৃপক্ষকে তারা যেন শুধু এতটুকু করেন যে, যে সকল ছাত্র/ ছাত্রী আজ চান্স পেয়েছেন তাদের সকলকে ভাইবা বোর্ডে কল করা হয়। ধন্যবাদ।