ডুব নিয়ে আগেই বিতর্ক

মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীর নতুন ছবি ‘ডুব’। তাই নিয়ে যেন বিতর্কে ডুবে আছেন দুই পক্ষ। আসলেই তো দুই পক্ষ। একদিকে পরিচালক স্বয়ং। অন্যদিকে বিশিষ্ট কথাশিল্পী প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। চলছে কিছুটা বাকযুদ্ধ। আলোচনার ব্যারোমিটারের পারদও চড়ছে একটু একটু করে ছবি মুক্তির আগেই। এই ছবি নিয়ে কেন এতো আলোচনা? কেউ কেউ বলছেন, ছবির গল্পে হুমায়ূন আহমেদের জীবনের কোন স্পর্শকাতর দিক থাকলেও থাকতে পারে। humayun-ahmed-222

সমালোচকরা অনেকেই এই বিতর্ককে প্রচারণার একটি কৌশল বলেও মনে করছেন। মুক্তির আগেই দর্শকেদের ব্যাপক কৌতুহল তৈরী হয়েছে এই সিনেমাকে ঘিরে।

বিতর্ক কী নিয়ে? মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ডুব’ ছবিতে বলিউডের খ্যাতিমান অভিনেতা ইরফান খান অভিনয় করছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের চরিত্রে। গল্পটাও নাকি অনুপ্রাণিত তাঁর জীবন থেকে। যদিও অভিনেতা থেকে পরিচালক কেউই এ ব্যাপারে ‘কনফার্ম’ করছেন না কিছুই। শোনা যাচ্ছে, হুমায়ূন আহমেদের চরিত্রে ইরফান ছাড়াও তাঁর কন্যা শীলা আহমেদের চরিত্রে অভিনয় করছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। এবং বাংলাদেশে জননন্দিত এই লেখকের প্রথম পক্ষের স্ত্রী গুলতেকিনের ভূমিকায় রয়েছেন রোকেয়া প্রাচী।
অন্য দিকে প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্সের পর ২০০৫ সালে হুমায়ূন আহমেদ বিয়ে করেন অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন-কে। শাওনের চরিত্রে অভিনয় করছেন টালিগ়ঞ্জের পার্নো মিত্র।
কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আনন্দবাজারের কাছে সরোয়ার মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, ‘‘আমি চাইছি দর্শক ছবিটা দেখুক আগে। আমি নিজেও হুমায়ূন আহমেদের বিরাট ফ্যান। ওঁর ‘অরা’তেই বাংলাদেশে আমাদের সবার বড় হওয়া। এটুকুই বলব, আমি একটা পরিবারের গল্প বলছি, কয়েকজন মানুষের ভাললাগা, দুঃখ, ক্ষোভ, হিংসা — এই আবেগগুলো ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি। সেটা কার জীবন অবলম্বনে, সেটার বিচার ছবি দেখার পরে হলেই বেটার,’’
অন্যদিকে মেহের আফরোজ শাওন আনন্দবাজার পত্রিকার কাছে বলেছেন ‘‘পরিচালক কি কোনও দিন হুমায়ূন আহমেদকে মিট করেছিলেন? আমার মনে হয় না। আমি একজনের ওপর ছবি করছি, তার পরিবারের সঙ্গে কথা না-বলে, এটা আমার কাছে যথেষ্ট বিরক্তিকর। খুব খারাপ লাগছে,’’
এই বিতর্কে জড়িয়ে গেছেন হুমায়ূন আহমেদের মেয়ে শিলা। তিনি বাংলাদেশের একটি পত্রিকায় সম্প্রতি এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, ‘‘ এটা প্রচারণার কৌশল হতেও পারে, আবার না-ও হতে পারে। আমি এটা তখনই বলতে পারতাম, যদি তাঁকে(পরিচালক) ভালোমতো চিনতাম। একটা মানুষ যখন সিনেমা বানাবেন, তখন তিনি অবশ্যই চাইবেন, সবাই দেখুক। ছবির প্রচার তো তাঁকে করতেই হবে। এখানে তাঁর ব্যবসাও জড়িত। এটা অনেকের হয়তো ভালো না-ও লাগতে পারে, কিন্তু দোষারোপ তো করতে পারব না।’’irrfan-khan-7595
তবে আনন্দ বাজার পত্রিকার রিপোর্ট জানাচ্ছে, ইরফান খান ছবির শ্যুটিংয়ের আগে হুমায়ূন আহমেদের প্রচুর ভিডিও দেখেছিলেন। সেগুলো দেখেই হুমায়ূন আহমেদের কথাবার্তা বলার ধরন — এ সব নিয়ে হোমওয়ার্কও করেছিলেন।
প্রসঙ্গত এই ছবিটা একসঙ্গে প্রযোজনা করছে বাংলাদেশের জ্যাজ মাল্টিমিডিয়া, অশোক ধানুকার এসকে মুভিজ এবং ইরফান খান স্বয়ং। ছবির গোটা শ্যুটিংটা হয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন লোকেশনে যেমন গুলশান, রাঙামাটি, বান্দরবান এবং বনানী। হিমাংশু ধানুকা মিডিয়াকে জানিয়েছেন, এই ছবির গল্প কারও জীবনের কাহিনি কি না সেটা তার জানা নেই। তবে এই ছবিতে অভিনয় করার জন্য ইরফান খান শিক্ষক রেখে পনেরো দিন ধরে বাংলা শিখেছেন। তিনি নিজেও অবাক হয়েছেন ইরফানের ইনভল্বমেন্ট দেখে।

নান্দনিক প্রতিবেদক
তথ্যসূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা, ইন্টারনেট