আমার কোনো এক আরাধ্য ভোরের সূর্য উঠা….

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া ।

রুকসানা আক্তার

রুকসানা আক্তার

chkcvv-ydh

স্টাফ কোয়াটারের রাস্তা

আমি সাধারণত ভোরে উঠার চেষ্টা করি।একহাতে  সব করতে হয় বলে , ভোরে না উঠলে সকালটা খুব রাশের মধ্যে দিয়ে যেতে  হয়।আমি যা কোনো  মতেই পছন্দ করিনা। তারপরও মাঝে মাঝে ছন্দ পতন হয়।এখন ইংল্যান্ডএ ভোরের আলো ফুটতে ফুটতে ঘড়ি সাতটার কাঁটা  ছুঁয়ে যায়। আমার এবং ছেলের উঠতে হয় আর একটু আগে। দায় দায়িত্বের চাপের ভারে মায়েদের মনে হয় আলস্য নামের অনুভূতিটা কম থাকে বা থাকলেও ঝেড়ে ফেলতে মুহূর্ত লাগেনা। উইকডেগুলো তে এত ব্যস্ত সময় পার  হয়ে যে সোমবার থেকে শুক্রবার যেন দেখতে দেখতে চলে আসে। গত আড়াইটা যুগ  বিভিন্ন রকমের ব্যস্ততায় পাড় হয়ে গেছে। বিগত এই সময়টায় কোনো কোনো ভোরে অনুভূতি ছিল একরাশ শূন্যতার , কখনো চারদেয়ালে আটকে পড়া সময় , কখনো বা আস্থাহীন সম্পর্কের ভাড়ের চাপে পিষ্ট মন আবার কখনো জীবন রণাঙ্গনে নতুন করে বাঁচার প্রস্তুতির একযোদ্ধা। একটা সময় ছিলো যখন অন্ধকার থাকতেই ঘুমন্ত বাচ্চাদের কপাল ছুঁয়ে কাজে বেড়িয়ে পড়তাম আবার রাতে এসে বাচ্চাদের ঘুমন্ত মুখ দেখতাম।দিনে 16 /17 ঘন্টা কাজ। আমার ভোরের সূর্য দেখার কথা মনে হতো না।কেবল প্রার্থনা করতাম ইশ আজ সকালে যেন ঝড় বৃষ্টি না হয়। তা না হলে বাচ্চাদের স্কুল এ যেতে কষ্ট হবে।

দিন বদলের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি  বদল হয়েছিলো , কাজ  বদল  হয়েছিলো , সুযোগ সুবিধা বদল হয়েছিলো। বাচ্চাদের সঙ্গে সকালে রাতে সময় কাটানোর সুযোগ হয়েছিলো কিন্তু আমার দায়িত্ব এতটুকু কমেনি। আমার নিজস্বতা ভাবার বা নিজেকে সময় দেবার বা চিন্তা করার অবসরটুকু ছিল  না। কিন্তু মাঝে মাঝে খুব মিস করতাম , খুব লোনলি ছিলাম। কাজের মধ্যেই হঠাৎ যখন সামারে আকাশে ছাই রঙের বড় বড় কুন্ডলি   পাকানো মেঘের   সাথে জোরে  বাতাস বইতো, আমার কানে তখন হবিগঞ্জের স্টাফ কোয়াটারের মাঠে ঝড় দেখে ভয়  পাওয়া ছাগলের ম্যা ম্যা ডাক কানে বাজতো। স্মৃতিরা তোলপাড় শুরু করতো আর সেই সঙ্গে আমার চোখে বৃষ্টি নামতো। কখনো পার্কের ভিতর দিয়ে ঝোপঝারের  পাশ দিয়ে যেতে যেতে যখন লতাপাতার বুনোগন্ধ আসে নাকে লাগতো সাথেসাথে শৈশবে বানিয়াচঙ্গের লতা পাতার  পরিচিত গন্ধ মনে হতো।

আবার যখন  খুব ভোরে উঠে দূরে বেড়াতে যেতাম কখনো দুই পাহাড়ের মাঝ দিয়ে বা কখনো  কান্ট্রি সাইড দিয়ে আমি তন্ময় হয়ে ভোরের সূর্য উঠা দেখতাম।  চারিদিক নরম আলোয়  ভরিয়ে আস্তে আস্তে সূর্যমামার আগমন আমাকে টেনে নিয়ে যেত  হবিগঞ্জের স্টাফ কোয়াটারে খুব ভোরে ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা এক ছোট্ট বালিকার কাছে। যে স্টাফ কোয়াটারের বিশাল পুকুর পাড় ছাড়িয়ে, বিস্তীর্ণ সবুজ ধান আর হলুদ সরিষা ক্ষেত এর মাঝ দিয়ে একে বেঁকে যাওয়া সরু মেঠো পথ ছাড়িয়ে আর শেষ রাত্রির অস্পষ্ট আধার গায়ে মেখে দাঁড়িয়ে থাকা ইনতাবাজ গ্রামের আকাশ সীমানায় ধীরে ধীরে ফুটে উঠা টুকটুকে সিঁধুর  রাঙ্গা ভোর তন্ময় হয়ে দেখতো।তার কাছে মন আমার উড়ে যেত।

আমি আবার আমার আরাধ্য ভোরের সূর্য উঠা দেখবো কোনো নির্জন পাহাড়ের চূড়োয় দাঁড়িয়ে অথবা কোনো বিশাল উপত্যকার মাঝে দিয়ে ঝিরঝির বয়ে  যাওয়া শান্ত নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে. যা একান্তই  আমার নিজস্ব ভোর ,সেই বালিকাকে ভিতরে ধারণ করে।দেখবো সে যেমন দেখতো , শেষ রাত্রির ফিকে হতে থাকে আধার  এবং ভোরের রাঙ্গা আলোকে মন মৃদ হিল্লোলকে সাথী  করে প্রকৃতির বুকে লুকোচুরি খেলতো।