দেয়াল কাব্য

সম্পর্কের মাঝে কখনো দেয়াল তুলবেন না— এটা বহুশ্রুত উপদেশ। তারপরেও দেয়াল ওঠে ব্যক্তির সম্পর্কে, এ বাড়ির সঙ্গে ও বাড়ির কিংবা এ পাড়ার সঙ্গেও পাড়ার।তাই বলে দেয়াল যে সব সময় অকাজটি করে তা কিন্তু নয়। দেয়ালের আছে নানাবিধ ব্যবহার।আপনার ঘরের দেয়ালটির কথাই ধরুন না। কত খুঁটিনাটি কাজেই না সে তার বুক পেতে দেয় অনায়াসে, আর আপনি বিদীর্ণ করেন তার বক্ষপিঞ্জর! ক্যালেন্ডার, ঘড়ি, পেইন্টিংস এমনকি মশারির হুক লাগানোসহ কত কত কাজেই না সে ব্যবহৃত হয়। আবার একটি বড়, প্রসারিত দেয়ালই কিন্তু হতে পারে একটি চমৎকার ক্যানভাস– যদি আপনি তা নান্দনিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারেন ।ঘর সাজানোর অনুষঙ্গ হিসেবে দেয়ালের ভূমিকা তাই নিতান্ত কম নয় বরং একটি দেয়ালকে সাজিয়ে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেন সমগ্র ঘরটিতেই। দেয়ালটি হয়ে ওঠবে তখন আপনার শিল্পিত মনের মূর্ত-প্রকাশ।wall_print

দেয়ালকে কাব্যময় করে তুলতে পারেন নানা ভাবে। কয়েকটি পন্থার কথা তুলে ধরছি আপনার সামনে। আপনি কেবল বেছে নিন আপনার পছন্দেরটি। কিংবা চমকে দিতে পারেন আরো নতুন কিছু করে – একেবারে আপনার মনের মাধুরি মিশিয়ে। তখন আমাদের কথা ভুলে যাবেন না যেন। মনে করে আমাদেরকেও জানাবেন।

দেয়ালে স্টিকার– কাগজ কেটে নানা নকশা ফুটিয়ে তুলতে পারেন দেয়ালে। নকশা করা স্টিকারও পেয়ে যেতে পারেন ঘর সাজানোর সামগ্রীর দোকানে। মনের মাধুরি মিশিয়ে গড়ে তুলুন নকশা।

*  নানা প্যাটার্ন বা জ্যামিতিক নকশাঃ ঘরের আসবাবের সাথে মানিয়ে নানা জ্যমিতিক নকশার ওয়াল পেপার দিতে পারেন।

* বিভিন্ন আকৃতির চিত্রঃ ঘর সাজাতে নামী শিল্পীদের আঁকা ছবি খুঁজতে হবে এমন কোন কথা নেই। অজ্ঞাতনামা কিন্তু আঁকার হাত ভাল এমন কাউকে দিয়ে বিখ্যাত ছবিগুলোর অনুকরণে ছবি আঁকিয়ে নিতে পারেন। কাঁচের উপর, কিংবা স্প্রে দিয়ে, এম্বোস করে বিখ্যাত ছবির অনুকরণে এই ছবিগুলো ঘরে অন্যরকম মাহাত্ম নিয়ে আসবে।

*  ম্যুরালঃ দেয়ালে খোদাই করে চিত্র ফুটিয়ে তুলতে পারেন।%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b211144

* দেয়ালে বসানো ছোট ছোট তাকঃ নানা রঙের ছোট ছোট তাকগুলো গায়ে গায়ে লাগিয়ে বিন্যাস করে বা ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিভিন্নভাবে সাজাতে পারেন। সেগুলোতে রাখতে পারেন নান্দনিক  ছোট-খাটো সামগ্রী।

*  টাইলস অথবা ইটের দেয়ালঃ দেয়ালে ইট বা পাথরের টাইলস ব্যবহারে একটি নস্টালজিক, পুরনো পুরনো আবার ঐতিহ্যিক একটা ভাব আসে। মন টানে বেশ।

*  নানা আকৃতির ছবির ফ্রেমঃ ছোট – বড়, চিকন, লম্বা নানা আকৃতির পারিবারিক ছবির ফ্রেম দিয়ে দেয়ালটি সাজাতে পারেন। আপনার হারিয়ে যাওয়া সময়গুলোর মুল্যবান সংকলন বন্দি হয়ে থাকবে আপনার দেয়ালে।

11* আয়না বসিয়েঃ সুন্দর সুন্দর নকশা করা অনেক আয়না পাওয়া যায় অনেক দোকানে। আয়না ব্যবহারের আরেকটা সুবিধাজনক দিক হলো এর উপর আলো প্রতিফলিত হয়ে ঘরকে আলোময় রাখে।

* দেয়ালে নানা রঙের ব্যবহার করেঃ দেয়ালটি একটি সুন্দর রঙ দিয়ে রাঙিয়ে তুলুন যা হবে ঘরের রঙ ও আসবাবের সাথে মানানসই ও দেখতে লাবণ্যময়।

* ভাস্কর্য বসিয়েঃ  দুটি একই আকৃতির দেয়াল ভাস্কর্য বসাতে পারেন দেয়ালে। নান্দনিকতা বেড়ে যাবে অনেকখানি তেমনি একটি মার্জিত ও রাজকীয় ভাব চলে আসবে সেই সঙ্গে।

ব্যস, এই তো! কোন একটির মত করে সাজিয়ে তুলুন আপনার দেয়ালটি সম্পূর্ণ  নিজের মত করে। আপনার উদ্যেগ আর রুচির প্রশংসা করবে তখন সকলে। সে কথা শুনতে যে আপনার খারাপ লাগবে না, এ-ও আমি বলে দিতে পারি।

ইভা আফরোজ খান