দুয়ারে শীত…

 ইরাজ আহমেদ: শীত এলো শহরে, কথাটা এখনো বলা যায় কি? কিন্তু কাগজে-কলমে এখন চলছে নভেম্বর। বাংলা ক্যালেন্ডারে অগ্রহায়ন মাসের শুরু। শহরের দুয়ারে এরকম সময়ে শীত দূরে দূরেই ঘোরে। কড়া নেড়ে জাসান দেয় সে আসছে। তবে গ্রাম-গঞ্জে কিন্তু শীত এসেই গেছে। ভোর অথবা গভীর রাতে উত্তরের হাওয়া উড়িয়ে আনে শীতের আমেজ।হালকা কুয়াশার মসলিনে তৈরী চাদরে ধীরে ঢাকা পড়ে মাঠঘাট। রাত্রির আকাশ জুড়ে ফুটে ওঠে নক্ষত্র। ভোরবেলা ভেজা ঘাস, মাকড়সার জালে একফোঁটা হীরকের মতো আলো ছাড়ায় শিশিরকণা।

পত্রিকার পাতায় ছাপা হচ্ছে খেজুরের রস সংগ্রহের সেই শ্বাশ্বত ছবি। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, তাদের যন্ত্রেও তাপমাত্রার পারদ নামতে শুরু করেছে। আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেতুলিয়ায় ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শীত এলেই এতোদিন ভাঁজ করে তুলে রাখা শীতের পোশাক নামানোর হিড়িক পড়ে যায়। কেউ কেউ পুরনো অভ্যাসে খোলা ছাদে, অথবা রেলিংয়ে রোদে মেলে দেন লেপ, কাঁথা। কাঁচা বাজারে ঝুড়ি উপচে পড়া সবুজ সবজি জানান দেয় শীত এসে গেছে। শীতের সঙ্গে খাবারের রকমারি আয়োজনের এক গভীর সম্পর্ক আছে। নানা ধরণের রান্নার আয়োজন চলে বাসার রান্নাঘরে।

এই রান্না ঘরের মতোই নগরে শীত এলেই শুরু হয় নানা উৎসব আর মেলা। গ্রামের সেই ফেলে আসা আবহকে একটু ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা হয়তো।শুরু হয় পিকনিক আর বেড়ানোর আয়োজন।

শীত ঋতু বাঙালীর কাছে চিরকালের উৎসবের সময়। গ্রামে এসময়ে ধান কাটা হয়ে যায়। সেখানেও লাগে উৎসবের ছোঁয়া। গভীর রাতে মাঠে মাঠে বসে যাত্রার প্যান্ডেল। চাদরে মাথা ঢেকে মানুষ যায় যাত্রার আসরে। অথবা আগুন জ্বেলে গোল হয়ে বসে শোনে পুঁথি পড়া, বসে গানের আসর।

shit_44এই নগরীও কিন্তু একটু একটু করে শীতের আয়োজন শুরু করেছে। একটু রাত গভীরে পথে বের হলে দেখা যায় পথের মানুষ আগুন জ্বেলে তার পাশে দাঁড়িয়ে উত্তাপ নিচ্ছে। পথের ধারে চিতোই আর ভাঁপা পিঠার ছোট দোকানের পাশেও ভীড় লাগতে শুরু করেছে।

শীত মানে তো নগরীতে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের সচলতার সময়। ভোর অথবা সন্ধ্যাবেলা অনেক বেশী সংখ্যক মানুষকে দেখা যাচ্ছে পার্ক অথবা খোলা উদ্যানে নিয়ম করে হাঁটতে।

তবে শীতের এই আয়োজন সবার জন্যই আনন্দের সংবাদ বয়ে আনে না। ক্ষুধার্ত, দরিদ্র, আর ঘরহীন মানুষের কাছে শীত মোটেই সুখকর হয়ে ওঠেনা। জীবন সেখানে বেদনার, জীবন সেখানে প্রাণান্তকর।