রুশ সাহিত্যের পালাবদলঃ একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা

leo-tolstoy1

ম্যাক্সিম গোর্কি                      লিও টলস্টয়

অনেক কাল আগে উইলিয়াম ফকনারকে বিশ্বের সেরা তিনটি উপন্যাসের নাম বলতে বলা হয়েছিল। ফকনারের উত্তর ছিল, আনা কারেনিনা, আনা কারেনিনা, আনা কারেনিনা। অক্টোবর বিপ্লব, দুটি বিশ্বযুদ্ধ আর সমাজতান্ত্রিক আদর্শ রুশ সাহিত্যের ভূগোলকে একোরে ভিন্ন এক উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল। তখন উইলিয়াম শেক্সপীয়ার,প্রুস্ত, এফ স্কট ফিটজিরাল্ড অথবা মার্ক টোয়েনের পাশাপাশি উচ্চারিত এবং আলোচিত হতো টলস্টয়ের আনা কারেনিনা অথবা ওয়ার অ্যান্ড পিস, দস্তয়ভস্কির গ্যাম্বলার, ম্যাক্সিম গোর্কির মাদার, নিকোলাই গোগলের তারাশ বুলবা উপন্যাস অথবা আন্তন চেখভের গল্পের কথা।
সময় বদলে গেছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন সমাজতান্ত্রিক আদর্শকে বিদায় জানিয়ে ভিন্ন এক আর্থ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় এসে দাঁড়িয়েছে। বদলে গেছে রাশিয়ার সমাজ কাঠামো। নতুন সময়ের এই পৃথিবীতে আগের মতো কি আর উচ্চারিত হচ্ছে রুশ লেখকদের কথা, আলোচিত হচ্ছে রুশ সাহিত্যিকদের লেখা? সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েট ইউনিয়নের সাহিত্য কর্ম এক সময় নিয়মিত বাংলা ভাষায় অনূদিত হতো। অধুনা আমরা সেই অনুবাদ সাহিত্য থেকে বঞ্চিত। ফলে রুশ সাহিত্যের বর্তমান গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে খুব বেশী কিছু একটা আমাদের সাহিত্যের পাঠক অবগত নন। পাশাপাশি গোটা পৃথিবীতেই রুশ সাহিত্য নিয়ে খুব একটা আলোচনা চোখে পড়ে না। উত্তরটা সাহিত্যপ্রেমীদের সবারই জানা। রুশ সাহিত্য এখন সেভাবে আর নাড়া দিতে পারছে না বিশ্ব সাহিত্যের পাঠকদের।
তাহলে কি বলা যেতে পারে, রুশ সাহিত্যের সূর্য অস্তগামী? আর কোন নতুর লেখক তৈরী হয়নি সেখানে নব প্রজন্মের হাত ধরে!
সাম্প্রতিক সময়ে রুশ সাহিত্যে অরাজনৈতিক রচনার প্রবনতা দেখা দিয়েছে। এই প্রবণতাকে রুশ লেখকদের অনেকেই তাদের সাহিত্যের দূর্বলতার দিক হিসেবে চিহ্নিত করছেন।

আন্তন চেখভ                    নিকোলাই গোগল

পাভেল বেইয়েনস্কি এই সময়ে রাশিয়ার অন্যতম নন-ফিকশন লেখক। তার মতে, এই কালের রুশ সাহিত্য প্রশাসন যন্ত্রকে প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করাতে পারছে না। ফলে তারাও সাহিত্যের শক্তিকে উপেক্ষা করছে। তিনি রুশ সাহিত্যের বর্তমান প্রবণতা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন, এই সময়ে ফিকশন এবং নন-ফিকশন প্রচুর লেখা হচ্ছে। কিন্তু কথাসাহিত্যে অনেক লেখকই চলমান সময়ের চাইতে প্রেক্ষাপট হিসেবে বেছে নিচ্ছেন অতীতকে। ফলে চলমান সময়ে রুশ সমাজ ও অর্থনীতিতে যেসব সংকট রয়েছে তা সাহিত্যে সত্যিকারভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না।
রুশ সাহিত্য যথাযত ভাবে ইংরেজি ভাষায় অনূদিত না হওয়াকেও রুশ লেখকরা তাদের সাহিত্য পিছিয়ে পড়ার একটি অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন। বেশী সংখ্যক সাহিত্যের পাঠকের কাছে তাদের লেখা পৌঁছাচ্ছে না অনুবাদ কর্মের ধীর গতির কারণে। অনুবাদ কর্মের কারণেই এক সময় বাঙলা ভাষার সাহিত্যের পাঠক পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন রুশ সাহিত্যের সঙ্গে। পরিচিত হয়েছিলেন রুশ রূপকথার এক সমৃদ্ধ সম্ভারের সঙ্গে। এই দিকটি এখন ক্ষীণ ধারায় পরিণত হয়েছে।
এই সময়ে রুশ সাহিত্যে ভেশ আলোচিত নাম মিখাইল সিসকিন। অনেকে তাকে আলেকজান্ডার নবকভের সঙ্গেও তুলনা করছেন। নারী লেখকদের লেখাও এই সময়ে বেশ আলোচিত হচ্ছে। রেুশ সাহিত্য তার একটি নিজস্ব ধারায় প্রবাহিত হচ্ছে এখন। এই ধারাটি সমাজতন্ত্র, পেরেস্ত্রৈইকার যুগ অতিক্রম করে এসে নিজস্ব এক অবয়ব নির্মাণে ব্যস্ত।

রওনক চৌধুরী
তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট