তার নাম মেলিনা কানুস

04-melania-trump

মেলিনা ট্রাম্প

যদি বলা হয় তার নাম মেলিনা কানুস, অনেকেই চিনতে পারবেন না। কিন্তু এখন গোটা বিশ্ব তাকে চেনে মেলিনা ট্রাম্প হিসেবে। পৃথিবীর সবচাইতে শক্তিধর রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি তিনি, আলোচিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের তৃতীয় স্ত্রী।
মেলিনা ট্রাম্পকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে এখন মহা হৈ চৈ। পত্রপত্রিকার পাতায় নিয়মিত সংবাদ- শিরোনাম হচ্ছেন, আছেন ফটো শিকারীদের অনুসন্ধানী ক্যামেরার প্রহরায়।
মাত্র কদিন আগেও মেলিনাকে গ্ল্যামার দুনিয়ার বাইরে খুব একটা কেউ চিনতো না। কিন্তু হুট করেই যেন বদলে গেছে তার ভাগ্য। রাজনীতির দাবা খেলার বোর্ডে স্বামী ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চালে কিস্তি মাৎ করেছেন। আর তার সঙ্গে মেলিনারও জীবনও বদলে গেছে নিমেষে। এ যেন এক রূপকথার গল্প।
এই তো দিনকয় আগে আমেরিকার গণমাধ্যমে খবর ছাপা হয়েছে, মেলিনা তার ছেলেকে নিয়ে এখনই হোয়াইট হাউজে যাচ্ছেন না। ব্যাস, শুরু হয়ে গেল শোরগোল। গণমাধ্যমের খবর বলছে, মেলিনা নিউ ইয়র্কে তার স্বামীর বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করতেই বেশী আগ্রহী। তাছাড়া ছেলের স্কুলও এখনই বদলাতে আগ্রহী নন তিনি।
তার বয়স এখন প্রায় ৪৫ ছুঁই ছুঁই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বড় ছেলের চাইতে মাত্র ৭ বছরের বড় মেলিনার প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মিরজানা জেলানিক, সাংবাদিকদের কাছে মন্তব্য করেছেন, “ছোটবেলা থেকেই এই মেয়েটি বুদ্ধিমান। ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচিত মেলিনার কথা শুনে চলা”।

trump

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সোনায় মোড়া ঘর

মেলিনার জন্ম ১৯৭০ সালে তৎকালীন ইউগোস্লাভিয়ার স্লোভানিয়ায়। লেখাপড়ার সূচনাও সেখানে। মিরজানির বক্তব্য অনুযায়ী মেলিনা ছোটবেলা থেকেই কম কথা বলতো। তার স্বভাবের মধ্যে এক ধরণের শিল্পিত বোধ কাজ করতো। তবে তিনি নাকি বড় হয়ে ফ্যাশন ডিজাইনার হবার কথা বলতেন। তবে কখনোই মডেল হওয়ার আকাঙ্খা প্রকাশ করেননি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প আর মেলিনার চার চোখের মিলন ঘটেছিল ১৯৯৮ সালে নিউ ইয়র্কে এক ফ্যাশন পার্টিতে। দুজনের সম্পর্ক আরও গভীর হয় ১৯৯৯ সালে একটি টিভি শো-এর মাধ্যমে। তারপর ২০০৪ সালে এনগেজমেন্ট। এক বছর পর ট্রাম্প আর মেলিনার বিয়ের অনুষ্ঠানটি ছিল সত্যিই চোখ ঝলসানো। যাকে বলা যায়, কোটি টাকার বিয়ে। অনুষ্ঠানে শুধু ফুল আর ক্যাভিয়ার কিনতেই খরচ হয়েছিল প্রায় ৫ লাখ ডলার। বিয়ের দিন মেলিনা যে বিশেষ গাউনটি পড়েছিলেন সেটা ছিল প্রখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইন হাউজ ‘ক্রিশ্চিয়ান ডিওর’ থেকে।

trump kids

ছেলে ব্যারন

দাম পড়েছিল ১ লক্ষ ২৫ হাজার ডলার। বিয়ের কেকেও চমক দিয়েছিলেন ধনকুবের ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৫০ পাউন্ড ওজনের সেই কেকটি আচ্ছাদিত ছিল তিন হাজার গোলাপ ফুল দিয়ে।
২০০৬ সালে ট্রাম্প-মেলিনা দম্পতি এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। ছেলের নাম রাখা হয় ‘ব্যারন’।  মেলিনা ছেলেকে আদর করে ডাকেন ‘মিনি ডোনাল্ড’ বলে।
মেলিনা ট্রাম্প এখন বসবাস করছেন নিউ ইয়র্ক শহরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশাল বাড়ি ‘ট্রাম্প টাওয়ার’-এর এক বিলাশবহুল অ্যাপার্টমেন্টে। গলমাধ্যম জানাচ্ছে সেই অ্যাপার্টমেন্ট তৈরী করতে ব্যবহার করা হয়েছে মূল্যবান মার্বেল পাথর আর ২৪ ক্যারেট ওজনের সোনা।
মেলিনার মডেল হিসেবে যাত্রা শুরু হয় ১৬ বছর বয়সে। আমেরিকার এই নতুন ফার্স্ট লেডির বাবা তৎকালীন সমাজতান্ত্রিক ইউগোস্লাভিয়ায় সরকারী ব্যবস্থাপনায় গাড়ি বিক্রির দোকানে কাজ করতেন। স্কুলের পাঠ শেষ করে মেলিনা লুবিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতে যান। কিন্তু ততদিনে মডেলিংয়ের আলো ঝলমলে পৃথিবী তাকে হাতছানি দিচ্ছে। মেলিনা ঢুকে পড়েন সেই জগতে। তারপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ‘ভোগ’, ‘হারপার বাজার’, আর ভ্যানিটি ফেয়ারের মতো প্রতিষ্ঠান লুফে নেয় চমৎকার শরীরী সৌন্দর্য়ের এই মডেলকে। তারপর শুধু সাফল্যের ইতিহাস। ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশিত ‘GQ’ পত্রিকার জন্য দুই হাজার সালে বিবসনা হয়ে ছবি তুলে হৈ চৈ ফেলে দেন মেলিনা।
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিয়ে করার পর মেলিনা স্বামীর কোম্পানীর বিভিন্ন পণ্যেরমেডেল হিসেবেও আবির্ভূত হন। আমেরিকার ফার্স্ট লেডি হবার আগে মেলিনা বেশকিছু সেবামূলক সামাজিক কর্মকান্ড নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন। আমেরিকার ‘ব্রেস্ট ক্যান্সার রিসার্চ’, ‘রেডক্রস’ প্রভৃতি সংগঠনের কাজের সঙ্গে তিনি জড়িত। শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধেও এই মডেল গত কয়েক বছরে বেশ সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছেন।

donald-trump-melina-trump-2015

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মেলিনা

সাতটি ভাষায় কথা বলতে সক্ষম মেলিনাকে বিয়ে করার আগে আরও দু’বার দুজনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ট্রাম্প। তাদের একজন লাভানা জেলেনিকভা। লাভানা ছিলেন সাবেক অ্যাথলেট ও ফ্যাশন মডেল। ট্রাম্পের দ্বিতীয় স্ত্রী মার্লা ম্যাপেল ছিলেন একজন অভিনেত্রী ও টিভি উপস্থাপক।
মেলিনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হন ২০০৬ সালে। আমেরিকার ইতিহাসে মেলিনা দ্বিতীয় ফার্স্টলেডি যিনি জন্মগতভাবে মার্কিন নন। তার আগে  প্রেসিডেন্ট জন কুইন্সির স্ত্রী লুইসা অ্যাডামস ছিলেন বৃটিশ নাগরিক।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বিজয়ী হওয়ার পর নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকার পক্ষ থেকে মেলিনাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল তিনি কীভাবে তার স্বামীকে সাহায্য করবেন তার কাজে? মেলিনার উত্তর ছিল “আমি প্রথার বাইরে যাব না। আমি বেটি ফোর্ড অথবা জ্যাকি কেনেডির মতো হওয়ার চেষ্টা করবো”।

রাশেদ আহমেদ