জন্মদিনে কিছু ফুল পাওয়া গিয়েছিল

প্রেম আর জীবনকে অন্বেষণ করেছিলেন কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়।আবার জীবনের তীব্র কলরোলের মাঝে বসে অনুসন্ধান করেছিলেন বিচ্ছিন্নতা আর মৃত্যুকেও। কাব্যচর্চা, পুরস্কার, পাগলামী আর মদের নেশায় উন্মাতাল এই কবি জীবনকে প্রতি মুহূর্তে উসকে দিয়েও কোথায় যেন ছিলেন খানিকটা অনুপস্থিত মানুষ। হয়তো নিজের কাছ থেকেই নিযে থাকতে চেয়েছিলেন অনুপস্থিত। তাই তিনি লিখেছিলেন সেই আশ্চর্য বাক্যবন্ধ ‘সুপুরিন বড় অনুপস্থিত গাছ’।

জীবিতকালেই কবিতা আর জীবনাচারণে কিংবদন্তী হয়ে উঠেছিলেন এই কবি।

আজ বাংলা ভাষায় অসাধারণ এই কবির জন্মদিন। তার স্মৃতির প্রতি রইলো প্রাণের বাংলার পক্ষ থেকে গভীর ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা।

জীবনানন্দ উত্তর যুগে বাংলা ভাষায় একজন অন্যতম আধুনিক কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম পশ্চিম বাংলা  জয়নগর-মজিলপুরে। অর্থ সংকটের জন্য স্নাতক পর্যায়েই তার লেখাপড়ার পাট চুকে যায়। তারপর শুরু হয় তার কবিতা-জীবন। শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্য চর্চার শুরুটা অবশ্য গদ্য সাহিত্য দিয়ে। তার প্রথম উপন্যাস কুয়োতলা। প্রথম জীবনে তিনি গল্প রচনা করতেন ‘স্ফূলিঙ্গ সমাদ্দার নামে।

কবির প্রথম পর্বের কবিতায় নিয়ম শাসিত জীবন, নিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ আর প্রথার বাইরে গিয়ে জীবন যাপনের সুর প্রধথানভাবে চোখে পড়ে। এসময় তাঁকে ‘হাংরি জেনারেশন’ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়।

পরবর্তী পর্বে ভয়ঙ্কর বোহেমিয়ান জীবন যাপন করা সত্ত্বেও কবিতায় এক ধরণের সংহত বোধের প্রকাশ ঘটে। প্রকৃতি, বিশেষ করে অরণ্য, মনিব-মানবী তার কবিতায় ভিন্ন অবহ তৈরী করে। তাঁর নিজস্ব ছন্দস্পন্দ, অদ্ভূত বাক্যের ব্যবহার আর এক ধরণের বিশৃংখলার শৃংখলা তার কবিতাকে বিশিষ্ট করে তুলেছিল।

শক্তি চট্টোপাধ্যায় ১৯৭৫ সালে ‘আনন্দ’ পুরস্কার ও ১৯৮৪ সালে সাহিত্য একাডেমী লাভ করেন।

১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘হে প্রেম হে নৈঃশব্দ’। এরপর একের পর এক প্রকাশিত হয় তাঁর আলোচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ।

কবিতার পাশাপাশি উপন্যাস, গল্প ও ছড়াও রচনা করেন তিনি।

১৯৯৫ সালের ২৩ মার্চ কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় মৃত্যুবরণ করেন।

প্রাণের বাংলা প্রতিবেদন