বড় সুন্দর এই বেঁচে থাকা

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

জুনাইদ সজিব

জুনাইদ সজিব

মাঝে মাঝে চিন্তা করি, আচ্ছা হুট করে যদি আমি সুইসাইড করি বা মারা যাই তাহলে কেমন হবে?

আমার মা অপেক্ষা করবেন ঠিকই দুপুর বেলায় দরজার সামনে দাড়িয়ে এই বুজি আমি এলাম ! কিন্তু দুপুর গড়িয়ে বিকাল হবে আমি আর
ফিরবো না!
ক্যাম্পাস থেকে ফিরলে,দরজা খুলে আর মায়ের কপালে চুমু দেওয়া হবেনা!ইচ্ছা করে হাতে পেলাষ্টার লাগিয়ে বলতে হবেনা,মা হাত কেটে গেছে আজ ভাত তুমি মাখিয়ে খাওয়ায়ে দেও।

বাবার আগে যদি মারা যাই ,বাবা হয়ত শেষ ঝগড়াটার কথা মনে করবে। যেদিন খুব বকা দিয়েছিল। চোখ ভিজিয়ে নিজেকেই বলবে
– ছেলেটাকে এভাবে না বকলেও পারতাম ।বাবা ইচ্ছা করে টাকা আলাদা করে তার শার্টের পকেটে রাখবেন কিন্তু তার ছেলেটি আর পকেট থেকে টাকা নিবেনা ।

বড় বোনের সাথে টিভি দেখতে বসে রিমোট নিয়ে আর ঝগড়া হবেনা,আপু সন্ধ্যার সময় আর ফুচকা চটপটি কিনে আনার জন্য টাকা দিবেনা।

ছোট ভাই মায়ের হাতের রান্না করা রুই মাছের মাথা নিতে গিয়ে থেমে যাবে
– মাছের মাথা নিয়ে আমার সাথে ফাইট করার মানুষটা আর নাই। মাথা খেয়েও তাই মজা নাই।
মন খারাপ করে না খেয়েই ছোটভাই উঠে যাবে।

সে বন্ধুরাও খবর পাবে।
– আরে ওত আর নাই
যে বন্ধুটার সাথে মিলে বরই চুরি করতাম সে বন্ধুটা বরই গাছ চোখ পরলেই আফসোস করবে। ওর সাথে কত বরই চুরি করেছি।

পাড়ার মোড়ের বাকির চা দোকানটাতে রোজ সকালে গিয়ে বসতাম। বলতাম
– কড়া কইরা একটা চা দাও
এই কথা স্বরণ কইরা বাকির দোকানদার মামাও হয়ত বাকি শ দুয়েক টাকা মাথা থেকে উড়াইয়া দিয়া বলবে fb_dce_1
– পোলাটা দুষ্টু কিন্তু ভাল আছিল ।

পাড়ার যে ছোট ভাইটা রক্তের সম্পর্কের না হয়েও আপন। সে ছোট ভাইটা ব্যাডমিন্টনের পার্মানেন্ট পার্টনার হারিয়ে অভিমানে মনে মনে বলব
– পার্টনার তুমি নাই ,তাই আমারো খেলতে ইচ্ছে করেনা ।

ক্লাসে যে ছেলেটার সাথে সবচাইতে বেশী শত্রুতা ছিল সে ছেলেটাও জীবনের কোন ব্যাস্ততার ফাকে স্কুল লাইফের নিরীহ ইগোর যুদ্ধ কে স্বরণ কইরা আমাকে মিস করবে
-শালার লগে কত ফাইট করছিলাম ।

ছবিরহাটের যে জাকিরের চায়ের রেগুলার কাস্টোমার ছিলাম সে জাকিরও শুনে বলবে
– চায়ে গুড় বেশী দেয়ার জন্য আর কেউ তাড়া দিবেনা
চা বানাতে দক্ষ হাত অদক্ষ আবেগে হয়ত শোক সামলাবে ।

ফেসবুকে যে বড় ভাইদের এটা ওটা বলে বিরক্ত করতাম সে বড় ভাইরা জ্বালামুক্ত হয়ে কিছুদিন পর আবার ঠিকি মিস করবে আর বলবে
– পাগলটা ভাইয়ু বলে ডাক দেয়না কতদিন ।

যারা কোন স্বার্থ ছাড়াই শুধুমাত্র দু চার লাইন কি সব লিখি এইজন্য দু হাতে ভালোবাসা দিয়েছিল তারাও অভিমান করে বলবে
– বাদ দাওনা ভাই। গল্প কই?

যে মানুষটা অকারণেই অনেক ভালোবাসা দিয়েছে সে মানুষটা পুরোনো নীল শাড়ীটা মাঝে মাঝে নামিয়ে ভাজ খুলে শাড়ীর জমিনে চোখের পানি ফেলে অভিমানেই হয়ত বলবে
– শাড়ী,শাড়ীর জমিন সব দিয়ে শুধু তুমিটা চলে গেলে ।

সবচাইতে বেশী যে দোস্তটা ভালোবাসার সুনামিতে ভাসিয়েছিল সে দোস্তটা ফোনবুকে আমার নাম্বার দেখে চোখ মুছতে মুছতে বির বির করে বলবে
– শালা মরল ,মরার আগে নাম্বারটাও ডিলিট কইরা দিয়া গেলনা ।

এসব যখন চিন্তা করি তখন আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। কিভাবে থাকব বন্ধু, শত্রু ,ভালোবাসা পরিবার ছাড়া।

বেঁচে থাকার মানে না পেয়ে যারা সুইসাইডাল চিন্তা করছেন তাদের জন্য এ হিসেবটা বুঝে নেয়া জরুরী ।
মরে গেলে দোস্ত থাকবে না ,
মরে গেলে শত্রু থাকবে না ,
মরে গেলে টং দোকানের চা থাকবে না ।
মরে গেলে নীল শাড়ী পরে কেউ আসবেনা ।
মরে গেলে মায়ের হাতের ভূনা খিচুড়ি আর বাবার বকুনি থাকবে না ।

বেঁচে থাকার তাই কোন কারণ লাগেনা। পৃথিবীতে বেঁচে থাকার চাইতে সুন্দর আর কিছু হতে পারেনা ।
তাই বলি জীবন সুন্দর, সুন্দর এই বেঁচে থাকা!