চিড়িয়াখানায় এক চক্কর…

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

জয়দীপ দে শাপলু

জয়দীপ দে শাপলু

বহুদিন পর আজ চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় গেলাম। মেয়ের বানর মামা দেখার আব্দার পূরণ করার জন্য। সারা দিন ‘বানর মামা কেঁদে কেঁদে ঘরে ফিরে এলো’ গানটি গায়। সত্যিকারের বানর মামা দেখা তার অধিকারের মধ্যেই পড়ে। তাই বউকে বললাম, চলো। সঙ্গে আরো দুই বন্ধু পরিবার।
দুপুর সাড়ে তিনটায় চিড়িয়াখানার গেটে গিয়ে দেখি ছোটখাটো জনসমূদ্র। অনেকক্ষণ দাড়িয়েঁ টিকেট পেলাম। ঢুকতে গিয়ে প্রথমে ধাক্কা খেলাম। শখ করে বানর মামার জন্য ক’টা বাlion-badshaদাম নিয়েছিলাম। গেট ম্যান বলছে, নাহ, কোন খাবার নিয়ে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হবে না। আমি বিগলিত গলায় অনুরোধ করলাম। বাদাম আমি খাব, বানরকে দেব না। ও বরং দেখবে। গেট ম্যান বলল, ভেতরে সিসি ক্যামেরা আছে। তাদের সমস্যা হবে। আজ থেকে আট দশ বছর আগে এখানকার নিয়মিত কাস্টমার ছিলাম। এই কড়াকড়ি তাই আমার কাছে আদিখ্যেতা মনে হলো। আগে এক টাকার টিকেট কেটে ফয়েস লেক ঢুকতাম। চিড়িয়া খানা ছিল ফ্রি। এক টিকেটে দুই ছবি দেখার মতো। কিন্তু ভেতরে ঢুকে বুঝলাম এর ভালো প্রভাব পড়েছে চিড়িয়াখানার পরিবেশে। বেশ পরিচ্ছন্ন চারধার। ভেতরে প্রাণীগুলো তুলনামূলকভাবে আগের চেয়ে বেশ ভালো আছে। একমাত্র সিংহের খাঁচা ছাড়া অন্য খাঁচার প্রাণীগুলোর স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার মান বেশ ভালো। বনের রাজা সিংহই এখানে সবচেয়ে বেকায়দায় আছে। জীর্ণ সিংহ মামাকে দেখে আমার কন্যার বেশ মায়া হলো। সে গেটে রেখে আসা বাদামগুলো চাচ্ছিল রাজা মশায়কে নৈবদ্য দেয়ার জন্য।
আমার কৈশোরের দেখা নোংরা আর অবহেলিত চিড়িয়াখানাটার সাথে বর্তমানের অবস্থার অনেক পার্থক্য চোখে পড়ল। ভালো লাগলো দেখে। তবে চিড়িয়াখানাটিতে প্রাণীর সংখ্যা খুবই কম। গত ১৫ বছরে সংখ্যা বেড়েছে বলে মনে হলো না। উপরন্তু জাতীয় পশুটিই এখন আর চিড়িয়াখানায় নেই। চিড়িয়াখানার আয়তন মাত্র ৬ একর। তাই এর ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সুযোগও সীমিত। zoo_bg
২৫ বছর ধরে জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় সম্পূর্ণ নিজেস্ব আয়ে চিড়িয়াখানাটি চলছে। দর্শনার্থীদের টিকেট থেকে ১৯ জন কর্মচারীর বেতন দেয়া হয়। গত বছর নাকি সাড়ে ৬ লাখ মানুষ চিড়িয়াখানাটি দেখতে এসেছিলেন। সরকারি কোন বরাদ্দ আসে না। সরকারের উপর বাড়তি কোন খরচের ভার না চাপিয়ে স্বল্প খরচে জনগণের বিনোদনের সুযোগ করে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সাধুবাদ জানাতে হয় এর ব্যবস্থাপনা পর্ষদকে।
মজার একটা তথ্য জানলাম, বর্তমান অর্থ প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান চট্টগ্রামের ডিসি থাকা অবস্থায় নাকি তিনি এই চিড়িয়াখানাটি চালু করেছিলেন। তাই তার বিশেষ আগ্রহ আছে চিড়িয়াখানাটির প্রতি। তিনি নাকি একটি এভিয়ারি পার্ক করতে চান এখানে। লেক ও পাহাড়ের অপূর্ব সম্মিলনীতে আসলে এভিয়ারি পার্কটি ভালো জমবে। ফয়েস লেকের পর্যটনমূল্যও আরো বাড়িয়ে দেবে।
চিড়িয়াখানার ভেতরে আরো কিছু গাছ লাগানো ও সৌন্দর্য বর্ধনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। মধ্যের রাস্তাটি আরো একটু উন্নত করা যায়। বিশেষ করে প্রবেশ পথটি প্রতিবন্ধীদের ব্যবহার উপযোগী করে তোলা। পাশের পাহাড়কে ব্যবহার করে একটা কৃত্রিম ঝরনা ও জলাধার করা যায়। যা জলজ প্রাণী ও পাখিদের প্রদর্শন স্থল হতে পারে।