বাড়ছে মেয়েদের পর্নো আসক্তি

পর্নোগ্রাফিতে আসক্তি বাড়ছে মেয়েদের। পৃথিবী জুড়ে পুরুষের পাশাপাশি এখন কিশোরী থেকে মধ্য বয়সী নারীরা হানা দিচ্ছে পর্নো-দুনিয়ায়। জড়িয়ে যাচ্ছে সাইবার নির্ভর যৌনতার সর্বনাশা জালে।
সবটাই কি কেবল আসক্তি? লালসার অন্ধকার ঘাটতে ঘাটতে নিজেকেও উল্টেপাল্টে দেখা? না কি এর মধ্যে আছে বিপদের অতল খাদ? বাসনার চড়া দাগে সাজানো এই পৃথিবীর নর্দমার পচা পানি তাদের ভবিষ্যতকেও দূষিত করছে। girl-watching-porn
পাশের দেশ ভারতে এখন জনপ্রিয় একটি পর্নো সাইট ‘পর্নোহাব’ ২০১৫ সালে তাদের পরিচালিত এক সমীক্ষার ফলাফল বলেছে, তাদের ওয়েবসাইট ভিজিটরদের মাঝে ৩০ শতাংশই নারী ও কিশোরী। এই সমীক্ষায় আরও একটি চমকে ওঠার মতো তথ্য হচ্ছে, এই ৩০ শতাংশের মধ্যে ২৪ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩০। এই সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে।
এরকম সমীক্ষার ফলাফলে নড়েচড়ে বসেছেন ভারতের সমাজবিজ্ঞানীরা। কপালে ভাঁজ মনোবিজ্ঞানীদের।
ভারতের গায়ে-গা লাগিয়ে থাকা বাংলাদেশ এই বিপদ থেকে কতদূরে আছে? কতদূরে আছে বাংলাদেশের মেয়েরা? সামাজিক পরিস্থিতি, বাজারী অর্থনীতির খোলা দুয়ার আর অবাধ ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগের হাত ধরে বিপদ এখন ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছে। আর মেয়েদের নিরাপত্তা হুমকীর মুখোমুখি।

তোমাকে জিতেছি অন্ধকার
অতি সম্প্রতি বাংলাদেশের ইন্টারনেটে একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গজিয়ে ওঠেছে একটি ক্লোজড গ্রুপ-ডেসপারেটলি সিকিং আনসেন্সরড। নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে যেন সামাজিক অবক্ষয়ের ছবি যা দানবের মতো দাঁত বের করে গ্রাস করতে আসছে আমাদের।
এই আনসেন্সরড গ্রুপের তিন সদস্যকে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতিমধ্যে আটক করেছে। তারা আরও ১৬ জন তরূন-তরুণীকে খুঁজওেছ যারা এই গ্রুপের অ্যাডমিন হিসেবে কাজ করেছে। এদের সবারই বয়স ১৫ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। এদের সবার আলাদা ফেসবুক আইডির সন্ধান পাওয়া গেছে যাতে তারা মেয়েদের ছবি ব্যবহার করেছে।
গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, এই ক্লোজ গ্রুপগুলোতে মূলত অশ্লীল ভিডিও, স্থিরচিত্র ও উত্তেজক কথাবার্তা প্রকাশ করা হতো। তারা একে অন্যের সঙ্গে পর্নোগ্রাফির ভিডিও, স্থিরচিত্র শেয়ার করে। তাদের কাজই ছিল অল্প বয়সী কিশোর-কিশোরীদের নানাভাবে আকৃষ্ট করা।
এখানেই শেষ নয়। এই গ্রুপের সদস্যরা অন্যদের, বিশেষ করে তরুণীদের ছবি সংগ্রহ করে ফেসবুক বা অন্যকোনও মাধ্যমে সেই ছবি ব্যবহার করে নিজেরা আইডি খোলে। আর সেই আইডি থেকে নানা অশ্লীল পোস্ট দেয়। আবার ছবি বিকৃত করে মেতে ওঠে ব্ল্যাকমেইল-ব্যবসায়। এদের ব্ল্যাকমেইলের শিকার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের এক নারী শিক্ষার্থী সম্প্রতি আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন। তারা প্রথমে ওই শিক্ষার্থীর আইডি হ্যাক করে ও একটি ব্যক্তিগত ভিডিও পোস্ট করে, যা পরবর্তীতে ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যায়। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের ‘ডেসপারেটলি সিকিং আনসেন্সরড’ গ্রুপের মূল অ্যাডমিন মালয়েশিয়ায় পালিয়ে গেছে। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে ইন্টারনেটে যেসব গোপন ছবি বা ভিডিও ফাঁস হয়েছে তার মধ্যে ১০ শতাংশই হচ্ছে তরুণ-তরুণীদের। এসব ঘটনার শিকার হয়েছেন অনেক মধ্যবয়সী মহিলাও।
কিছুদিন আগে গুলশানের হোলি আর্টিজান রেস্তোরাঁর ঘটনার পরদিন চার তরুণের গুলিবিদ্ধ ছবি দেখে সবাই আমরা চমকে উঠেছিলাম আমাদের সন্তানদের পরিণতি আর নেতিবাচক বিশ্বাসের জায়গাটা দেখে। কিন্তু আমরা এখনো উদাসীন হয়ে আছি ডুবো পাহাড়ের মতো এই বিপদের প্রতি। হয়তো বুঝতেই পারছি না ঘরের কোণায় কম্পিউটার অথবা তার অ্যানরয়েড ফোনে মুখ গুঁজে আমার সন্তান কী করছে? জড়িয়ে যাচ্ছে কোন বিপদের জালে?

মুড়ির মতো ছড়িয়ে পড়ে তাদের শরীর
পৃথিবী জুড়ে যৌনতার এই আগ্রাসী হামলা কিন্তু নতুন কোন বিষয় নয়। একটা সময়ে রাজত্ব করেছে নীল ছবি বা ব্লু ফিল্ম। mobile-phone-porn-is-wrongকিন্তু সেসব সিনেমার একটি আলাদা ঘরানা ছিল, বিস্তারের সীমানা ছিল নির্দিষ্ট। কিন্তু এখন ইন্টারনেটের যুগে সে বিশ্বটাই যখন ছোট্ট স্ক্রিনে আছড়ে পড়ছে তখন সেই সীমানা কোথায় লোপাট কেউ জানে না। ঘরের ভেতরে, নিরাপদ আশ্রয়েও ঢুকে পড়ছে পর্নোর বিষাক্ত সাপ।
ইন্টারনেটে তথ্য খোঁজার জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগলের একটি বাংলা সংস্করণ আছে। এই মাধ্যমটি অনেকেই এখন ব্যবহার করেন। সাম্প্রতিক এক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে বাংলাদেশ থেকে গুগলের বাংলা সংস্করণে বেশি খোঁজা হয় অশ্লীল কাহিনি ও ছবি। ইংরেজি ২৬টি বর্ণের ২০টিতেই অশ্লীল শব্দ খোঁজার হার বেশি। এমনকি তালিকার দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ নম্বরেও অশ্লীল শব্দগুলোই জায়গা পেয়েছে। আর যেসব অশ্লীল শব্দ, ছবি, যৌন উদ্দীপক বইয়ের খোঁজ করা হয়, সেগুলোর ডিজিটাল সংস্করণ যথেষ্ট পরিমাণেই আছে ইন্টারনেটে। কখনো সেসব ইউনিকোড বাংলায় লেখা কখনো বই থেকে স্ক্যান করা।

বাংলাদেশ থেকে ইন্টারনেটে অশ্লীল ওয়েবসাইট দেখার প্রবণতা এবং দেশি অশ্লীল ও পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইট নিয়ে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন একটি পর্যবেক্ষণ করে।পর্যবেক্ষণের পর সংস্থাটি ৮৪টি ওয়েবসাইটের একটি তালিকা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) দিয়েছিল। এরপর সেই সাইটগুলো বন্ধ করে বিটিআরসি।
সম্প্রতি আরেকটি পর্যবেক্ষণে বাংলা গুগলে অশ্লীল শব্দ খোঁজার হার বেশি বলে দেখা যায়। watching-porn-no-offence

গুগল বিডিতে ইংরেজি ২৬ অক্ষর একের পর এক  নক করে দেখা গেছে অশ্লীল শব্দ সবচেয়ে বেশিবার খোঁজা হয় ‘বি’ বর্ণটি দিয়ে। ‘এ’তে খোঁজ করা হয়েছে বিদেশি অশ্লীল ছবি। অশ্লীল শব্দ খোঁজার তালিকা থেকে বাদ পড়া অক্ষরগুলো হলো ডি (ঢাকা শেয়ারবাজার), ই-(একাত্তরের চিঠি), টি (টাকা আয়), ইউ ও ডব্লিউ (উইকিপিডিয়া) কোষ, আর শুধু ‘কিউ’ অক্ষর দিয়ে কোরআনের সঙ্গে সম্পৃক্ত শব্দ।

কামনায় লাল হয়ে থাকে স্ক্রিন
এই সামাজিক সমস্যার জন্য প্রধান আসামী কে? সবাই হয়তো এক বাক্যে বলবেন, ইন্টারনেট। ছেলেদের তো পর্নোগ্রাফিতে আসক্তি আগেই ছিল, এখন যুক্ত হয়েছে মেয়েরা। কিন্তু সত্যিই কি এই অভিযোগ একশ ভাগ সঠিক? আমরা কী আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একবারও নিজেদের প্রশ্ন করে দেখেছি আসলে দায়ী কে?
সন্তানের প্রতি নিজেদের উদাসীনতার আয় আমরা চাপাতে চাইছি প্রযুক্তির কাঁধে। কিন্তু একবারও ভেবে দেখছি না, সন্তানকে আমরা নিজেরা কতটুকু সময় দিচ্ছি। খোঁজ করছি তাদের মনের গতিপ্রকৃতির। সংসারে ছেলে অথবা মেয়েটি নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে কম্পিউটারে সারাদিন কী করছে তার খোঁজ করছি না। খুব অনায়েশে সে চাওয়া মাত্র তার হাতে তুলে দিচ্ছি আধুনিক সুবিধা সম্বলিত মোবাইল সেট। তারপর আর খোঁজ নিচ্ছি না।
‘মানুষের জন্য’ ফাউন্ডেশন তাদের গবেষণা থেকে বলছে, দেশে ৩০-এর কম বয়স এমন ১০ শতাংশ মানুষের গোপন ভিডিও, অডিও কিংবা ছবি এখন পর্নোগ্রাফিতে অন্তর্ভুক্ত। কেননা, এগুলো এর মধ্যেই অশ্লীল হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছে কিংবা ছড়িয়ে দিতে পারে এমন ব্যক্তির কাছে আছে।
গোটা বিশ্বেও এই সমস্যার চেহারাটা আরও মারাত্নক। ‘সাইবার সাইকোলজি অ্যান্ড বিহেভিয়ার’ পত্রিকায় প্রকাশিত এক জরীপে দেখা যাচ্ছে শতকরা ৬২ জন মহিলা ১৮ বছর বয়সে পৌঁছানোর আগেই পর্নোগ্রাফি দেখার স্বাদ পেয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের একটি ইংরেজী দৈনিকে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, যে কোন এক মাসে বাংলাদেশ থেকে গুগলে ‘পর্নো’ শব্দটি ইংরেজিতে লিখে ০.৮ মিলিয়ন বার অনুসন্ধনি করা হয়েছে। ‘সেক্স’ শব্দটি লিখে অনুসন্ধান করেছে ২২ মিলিয়ন মানুষ। Nighttimeযদি বলা হয় সন্তানদের আমরাই যথাযথ শিক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছি এক্ষেত্রে তাহলে কী খুব ভুল বলা হবে? আমরা তো ঘর থেকেই তাদের যৌনতা এবং যৌন শিক্ষা বিষয়টার তফাৎ তাদের বোঝাতে চাচ্ছি না। প্রয়োজনীয় যৌন শিক্ষায় তাদের শিক্ষিত করে তোলার ব্যাপারে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাবা মায়ের মধ্যে কাজ করছে সংস্কার আর উদাসীনতা। মেয়েদের বেলায় বিষয়টা আরও জটিল। ছেলে সন্তানের তুলনায় মেয়ে সন্তানের সঙ্গে অভিবাবকরা খোলা মনে আলোচনা করেন কম। এটি প্রচ্যের সংস্কৃতির একটি অংশ। ফলে মেয়েদের মধ্যে অবদমিত ভাবনা প্রবাহিত হচ্ছে অন্য রুচীর হাত ধরে।
পাশাপাশি বাঙালীর চিরকালের সাংস্কৃতিক শিক্ষার জায়গা থেকে সরে যাওয়া এবং নতুন প্রজন্মকে এসব বিষয়ে আগ্রহী করে না-তোলাও অভিবাবকদের জন্য আত্নহত্যার শামিল হয়েছে সে কথা বলে দেয়ার প্রয়োজন হয় না।

তীব্র এক জ্বর 
উন্নত বিশ্বে পর্নোগ্রাফির সবচেয়ে বড় সূত্র হচ্ছে ওয়েবক্যাম। এটি সাধারণত ল্যাপটপ বা ডেস্কটপে থাকে। অন্তরঙ্গ প্রেমিক-প্রেমিকারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে তারা নিজেদের অন্তরঙ্গ বিষয়গুলো এতে শেয়ার করেন। সেখান থেকে এটি তৃতীয় কোনো পক্ষ তুলে নিয়ে ওয়েবসাইটে আপলোড করতে পারেন। বিশ্বে এ রকম অনেক সাইট রয়েছে। বাংলাদেশেও ওয়েবক্যামে এডাল্ট চ্যাটিং বাড়ছে। ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান থেকে বলা হচ্ছে, এ রকম সেবার মনিটরিং করার খুবই দুরূহ।

নিম্নমানের মোবাইল হ্যান্ডসেটে বাংলাদেশের বাজার ভরে গেছে। আড়াই হাজার টাকা মূল্যের হ্যান্ডসেটেই এখন ভিডিও ছবি তোলার ব্যবস্থা রয়েছে। সে কারণে এর নেতিবাচক ব্যবহার হচ্ছে। মোবাইল ফোনে তোলা ছবি ইচ্ছে হলেই যে কেউ ফেসবুক, ব্লুটুথ বা এমএমএস করে শেয়ার করতে পারছে। তা ছাড়া নেটে তো শেয়ার করা যাচ্ছেই। বিশ্বাস করে কেউ কাউকে দিলে সেটি অন্যপক্ষ বিশ্বাস ভেঙ্গে ওয়েবসাইটে আপলোড করছে। এতে করে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এসব পর্নো।
বাংলাদেশের গ্রামে গঞ্জেও এখন ছড়িয়ে পড়েছে পর্নোগ্রাফির আগুন। অনেকদিন আগে একটি বেসরকারী সাহায্য সংস্থার গোপন জরিপে জানা গিয়েছিল গ্রামের বহু মহিলা বাজারে মাত্র দশ টাকার বিনিময়ে নিজেদের মোবাইলে ডাউনলোড করে নিচ্ছে পর্নো ছবি অথবা বিভিন্ন ফাঁস হওয়া ভিডিও ক্লিপ।
টেকনোলজি সহজ এবং শস্তা হয়ে যাওয়ায় মূল্য যে আমাদের গুনতে হচ্ছে না তা নয়। এই প্রযুক্তি সুবিধার সঙ্গে জুড়ে গেছে আকাশ সংস্কৃতির প্রভাব। ফলে পাশ্চাত্যের সংস্কিৃতি শক্তিশালী ঢেউয়ের মতো ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে গোটা সমাজকে। নিজেদের নড়বড়ে সংস্কৃতির ভিত নিয়ে আমরা এই অসম যুদ্ধে ক্রমশ হেরে যাচ্ছি।

কী আগুন জ্বেলেছ ওখানে
এক সময় পর্নোগ্রাফির এই দুনিয়াকে আখ্যায়িত করা হতো নীল দংশন বলে। ব্লু ফিল্মের বাজার তখন সাবালক হচ্ছে। ঢাকা শহরের পুরনো অংশে জমজমাট হয়ে উঠেছিল ভিসিআর-এ ব্লু ফিল্ম দেখানোর ব্যবসা। সমাজে তখনও গেল, গেল রব উঠেছিল। কিন্তু এখনকার অবস্থা দেখে মনে হয় সেই সময়ে যারা চমকে উঠেছিলেন, ভয় পেয়েছিলেন তারা এখন কী ভাবছেন?
বিদেশী মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, পর্নেগ্রাফিতে আসক্তি একদিকে যেমন অল্প বয়সী মেয়েদের শরীরে তৈরী করছে উচ্চমাত্রার যৌন আকাঙ্ক্ষা তেমনি তাদের স্বভাবসুলব কোমল মানসিকতাকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অবদমিত বাসনা এবং আসক্তির চাপে মেয়েরা অসুখি বিবাহিত জীবন কাটাচ্ছে। হারাচ্ছে স্বাভাবিক যৌন আচরণের ইচ্ছা। 245941-survey1
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন মেয়েদের ওপর সমাজের নানা অনুশাসন আর তাদের ব্যক্তিগত জীবন ও ভাবনার ভেতরে অন্যের নাক গলানোর বিষয়টিও মেয়েদের পর্নোগ্রাফিতে আসক্তি বাড়াচ্ছে। তারা হয়তো এক ধরণের বিদ্রোহ করার মানসিকতা থেকেই নিজের অজান্তে জড়িয়ে পড়ছে এই লালসার জগতের সঙ্গে।
অনেক মনোবিজ্ঞানী মনে করেন, পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত বিবাহিত মেয়েরা সবসময়ই এ ধরণের দ্বৈত জীবনেন বসবাস করতে শুরু করে। একদিকে আলো, অন্যদিকে অন্ধকার। এই দুই ধরণের জীবন যাপনের চাপ শেষ পর্যন্ত গড়ায় বিবাহ-বিচ্ছেদে।

এতো অন্ধকারে ঢাকা পড়ে সব  
ব্যস্ত পৃথিবী জেগে আছে আমাদের চারপাশে। এতোটাই ঘেরাও করে ফেলেছে সবাইকে যে নিজের সন্তানের দিকেও ফিরে তাকবার অবসর গেছে কমে। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে এই নতুন প্রজন্ম কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?তাই অবভিভাবকদের উচিৎ হলো কিছু বিষয়ে সতর্ক হওয়া। যেমন,

•    এবার নজর ফেরানোর সময় নিজের ঘরে। ছেলে অথবা মেয়ে সন্তান দরজা বন্ধ করে কী করছে দেখুন।
•    তার অতিরিক্ত কম্পিউটার আসক্তির বিষযটি নিয়ে প্রশ্ন করুন।
•    কম্পিউটার যেখানে আছে সে জায়গাটা বাড়ির অন্য জায়গা থেকে সবার নজরে পড়ছে কি না লক্ষ্য করে দেখবেন।
•    চাওয়া মাত্র তাদের হাতে তুলে দেবেন না বেশী সুবিধা যুক্ত মোবাইল সেট।
•    খবর নেবেন তাদের বন্ধুদের বিষয়ে।
•    তাদের বদলে যাওয়া অভ্যাসগুলোকে আরও গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করুন।
•    লেখাপড়ার পাশাপাশি গান শেখা, ছবি আঁকা, খেলাধূলার প্রতি তাদের আগ্রহী করে তোলার জন্য উদ্যোগ নিন।
•    বই পড়ার ব্যাপারে উৎসাহ দিন নিয়ম করে।
•    এধরণের যে কোন সংকটে তাদের বন্ধু হয়ে পাশে থাকুন, প্রতিপক্ষ কখনোই নয়।
•    ধর্মীয় অনুশাসানের বিষয়ে সন্তানকে সচেতন করুন।

বাংলাদেশের প্রচলিত পর্নোগ্রাফি আইন ২০১২ অনুযায়ী- করো সম্মতিতে কিংবা অসম্মতিতে পর্নো ভিডিও ধারণ করলে সাত বছরের কারাদণ্ড আর দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়ার কথা। পর্নো ভিডিওর ভয় দেখিয়ে মানসিকভাবে নির্যাতনের প্রমাণ মিললে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড আর দুই লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। আর পর্নোভিডিওর মাধ্যমে ব্যবসা করা কিংবা ডিভাইসের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে পাঁচ বছর কারাদণ্ড আর দুই লাখ টাকা জরিমানার কথা রয়েছে।

অথৈ আহমেদ