১৯৭১

omi

ওমি রহমান পিয়াল

ওমি রহমান পিয়াল সাংবাদিক ও ব্লগার। যুদ্ধোপরাধীদের বিচারের দাবিতে বাংলাদেশে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম নেতাদের একজন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জন্মযুদ্ধ-৭১ নামে একটি ওয়েব পেজ পরিচালনা করছেন। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের নানা ঘটনাবলী, অজানা ইতিহাস ও তথ্য সেখানে প্রকাশিত হয়।  ওমি রহমান পিয়ালের এই লেখাটিও মুক্তিযুদ্ধের তেমনি এক অজানা অধ্যায় নিয়ে রচিত।
অবরুদ্ধ তৎকালীন ঢাকা শহর থেকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কয়েকজন জেনারেল, তাদের পরিবার এবং বিদেশী নাগরিকদের পালিয়ে যাওয়ার নাটকীয় উদ্যোগ এবং আমাদের পাশের দেশ বার্মায় তাদের আশ্রয় নেয়ার কাহিনি পিয়াল লিখেছেন তার লেখায়। লেখাটি প্রাণের বাংলায় ধারাবাহিকভাবে ছাপা হবে। পা.বা.স

এরপর থেকে ভারতের সঙ্গে সমঝোতায় আসার জন্য জাতিসংঘের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠাতে থাকে ইস্টার্ন কমান্ড। ভারত দাবি জানায় নিঃশর্ত আত্মসমর্পনের। ১৫ ডিসেম্বর শেষবেলাতে পূর্ব রণাঙ্গনে আত্মসমর্পনের ব্যাপারে তোড়জোর শুরু হয়ে যায়। মিত্রবাহিনীর হাতে যাতে না পড়ে সেজন্য সামরিক সরঞ্জামগুলো ধ্বংস করার নির্দেশ আসে সদর দফতর থেকে। ১৬ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় সময়সীমা বেধে দেওয়া হলে তা বাড়াতে আবেদন জানান পাক অধিনায়ক লে.জে. নিয়াজী। কারণ হিসেবে বলেন গোটা পূর্ব পাকিস্তানে সেনা ইউনিটগুলোতে আত্মসমর্পনের নির্দেশ দিতে সময় লাগবে তার। মিত্র বাহিনী মেনে নেয় অনুরোধ। সেইসঙ্গে ফিরিয়ে নেওয়া হয় সকল ভারতীয় যুদ্ধবিমান। আমাদের আলোচ্য ঘটনাও ঘটে সেই সময়কালেই। প্রসঙ্গত, তার দুদিন আগে রেঙ্গুন হয়ে চীনের কুওমিং পর্যন্ত ঢাকার সঙ্গে বিমানপথ উন্মুক্ত করে দেয় বার্মা। যুদ্ধে তখন চীনের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা প্রবলভাবেই অনুমিত ছিলো।

ঘটনাক্রম ও কিছু বিভ্রান্তি :

প্রথমেই বলে নেওয়া যাক, যুদ্ধের সেই ক্রান্তিকালে পূর্ব রণাঙ্গনে আকাশে ওড়ানোর মতো কিছুই ছিলো না বলতে গেলে পাকিদের। রানওয়ে অনুপযোগী থাকায় ব্যবহার করা যাচ্ছিলো না কোনো যুদ্ধবিমান। একমাত্র ব্যতিক্রম ফোর এভিয়েশন। সোভিয়েত নির্মিত এম-এইট ও ফরাসি এল্যুট-থ্রি কপ্টার নিয়ে রাতের অন্ধকারে তারা চেষ্টা করে গেছে সাপ্লাই ও ইভ্যাকুয়েশনের মতো জরুরী কাজগুলো সারতে। বৈরী প্রতিবেশে এমনটা করতে আসলেই সা1971_omiহস লাগে। আগেই বলেছি সংশ্লিষ্টদের বিবৃতিতে ঘটনার সংঘটন নিয়ে পরষ্পরবিরোধিতা আছে। কাহিনীটা হচ্ছে ১৫ ডিসেম্বর গভীর রাতে (১৬ ডিসেম্বরের শুরুতে) ঢাকা সেনানিবাসের গলফ কোর্স থেকে বেশ কিছু হেলিকপ্টার দুঃসাহসী উড়াল দেয় বার্মার আকিয়াবের উদ্দেশ্যে। এরপর ১৬ ডিসেম্বর দুপুরে আরো দুটি। যে ব্যাপারগুলো নিয়ে বিভ্রান্তি হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী হচ্ছে হেলিকপ্টারের সঠিক সংখ্যা নিয়ে। এছাড়া অর্ডারটা সদর দফতরই দিয়েছে না ফোর এভিয়েশনের কমান্ডার বুঝিয়েসুজিয়ে আদায় করেছেন তা নিয়েও পরস্পর বিরোধিতা আছে। বার্মা পৌছার পর সেখানে তাদের স্বাগত জানানোর ধরণ নিয়েও একেকজনের একেক কথা।
এ ব্যাপারে আমরা সিদ্দিক সালিকের ব্ক্তব্য দিয়ে শুরু করতে পারি। উইটনেস ট্যু সারেন্ডার বইয়ের এই লেখক একমাত্র পাকিস্তানী সেনা কর্মকর্তা যার বক্তব্যের খানিকটা হলেও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বাংলাদেশ মহলে। তার বক্তব্য মাঝরাতে ফোর এভিয়েশন স্কোয়াড্রনের কমান্ডিং অফিসার লিয়াকত বোখারিকে ডেকে নির্দেশ দেয়া হয় ২৮টি পাকিস্তানী পরিবার ও ৮ জন নার্সকে নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের উপর দিয়ে আকিয়াবে (বার্মা) চলে যেতে। It was already midnight (15/16 December) when the signal was sent out. About the same time, Lieutenant-Colonel Liaquat Bokhari, Officer Commanding, 4 Aviation Squadron, was summoned for his last briefing. He was told to fly out eight West Pakistani nurses and twenty-eight families, the same night, to Akyab (Burma) across the Chittagong Hill Tracts. Lieutenant-Colonel Liaquat received the orders with his usual calm, so often seen during the war. His helicopters, throughout the twelve days of all-out war, were the only means available to Eastern Command for the transport of men, ammunition and weapons to the worst hit areas. Their odyssey of valour is so inspiring that it cannot be summed up here. Two helicopters left in the small hours of 16 December while the third flew in broad daylight. They carried Major-General Rahim Khan and a few others, but the nurses were left behind because they ‘could not be collected in time’ from their hostel. All the helicopters landed safely in Burma and the passengers eventually reached Karachi.(চলবে)