শামসুর রাহমানের কবিতা

গেরিলা

দেখতে কেমন তুমি? কী রকম পোশাক আশাক54551_49853_95950
প’রে করো চলাফেরা? মাথায় আছে কি জটাজাল?
পেছনে খোতে পারো জ্যোতিশ্চক্র সন্তের মতন?
টুপিতে পালক গুঁজে অথবা জবর জং ঢোলা
পাজামা কামিজ গায়ে মগডালে একা শিস দাও
পাখির মতোই কিংবা চা-খানায় বসো ছায়াচ্ছন্ন?

দেখতে কেমন তুমি?-অনেকেই প্রশ্ন করে, খোঁজে
কুলুজি তোমার আতিপাতি। তোমার সন্ধানে ঘোরে
ঝানু গুপ্তচর, সৈন্য, পাড়ায় পাড়ায়। তন্ন তন্ন
করে খোঁজে প্রতি ঘর। পারলে নীলিমা চিরে বের
করতো তোমাকে ওরা, দিতো ডুব গহন পাতালে।
তুমি আর ভবিষ্যৎ যাচ্ছো হাত ধরে পরস্পর।

সর্বত্র তোমার পদধ্বনি শুনি, দুঃখ তাড়ানিয়া;
তুমি তো আমার ভাই, হে নতুন সন্তান আমার।

তুমি বলেছিলে

দাউ দাউ পুড়ে যাচ্ছে নতুন বাজার।
পুড়ছে দোকান-পাট, কাঠ,
লোহালক্কড়ের স্তুপ, মসজিদ এবং মন্দির।
দাউ দাউ পুড়ে যাচ্ছে নতুন বাজার।

বিষম পুড়ছে চতৃর্দিকে ঘড়বাড়ি।
পুড়ছে টিয়ের খাঁচা, রবীন্দ্র রচনাবলী, মিষ্টান্ন ভান্ডার,
মানচিত্র, পুরনো দলিল।
মৌচাকে আগুন দিলে যেমন সশব্দে সাধের আশ্রয় ত্যাগী হয়
মৌমাছির ঝাঁক,
তেমনি সবাই
পালাচ্ছে শহর ছেড়ে দিগ্বিদিক। নবজাতককে
বুকে নিয়ে উদভ্রান্ত জননী
বনপোড়া হরিণীর মত যাচ্ছে ছুটে।images
অদূরে গুলির শব্দ, রাস্তা চষে জঙ্গী জীপ। আর্ত
শব্দ সবখানে। আমাদের দুজনের
মুখে খরতাপ। আলিঙ্গনে থরো থরো
তুমি বলেছিলে,
আমাকে বাঁচাও এই বর্বর আগুন থেকে, আমাকে বাঁচাও,
আমাকে লুকিয়ে ফেলো চোখের পাতায়
বুকের অতলে কিংবা একান্ত পাঁজরে
আমাকে নিমেষে শুষে নাও
চুম্বনে চুম্বনে।

দাউ দাউ পুড়ে যাচ্ছে নতুন বাজার।,
আমাদের টচৗদিকে আগুন,
গুলির ইস্পাতী শিলাবৃষ্টি অবিরাম।

তুমি বলেছিলে,
আমাকে বাঁচাও।
অসহায় আমি তাও বলতে পারিনি।