ইচ্ছে…

istiak

ইশতিয়াক নাসির, স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান

আজকে লেখার কোন ইচ্ছাই ছিলনা, আজকে খুব অলসতার বিলাসিতায় ছিলাম। কিন্তু না, লিখতে হবেই। প্রাণের বাংলার যিনি সম্পাদক, তিনি এমনভাবে তাগাদা দেন যে না লিখে, অলসতা উপভোগ করার কোন সুযোগও থাকেনা।মুখে অলসতার কথা বললাম, কিন্তু আসল সত্যটা হলো কি নিয়ে লিখবো তাই মাথায় আসেনা অনেক সময়। লেখার জন্যও মুড লাগে, ইচ্ছা লাগে। অবশ্য ইচ্ছা হলেই যে সব সময় তা পূরন হবে এমন কোন কথা নেই। মানুষের মনে কত রকম ইচ্ছা জাগে! সব ইচ্ছা পূরন হওয়া দূরে থাক, মুখে বলতে পারবেন সবার সামনে? সকালে ঘুম ভাঙার পর থেকে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত কত রকমের ইচ্ছা মনে জাগে বলুন তো? আজকেই ঢাকার এক বড় শপিং মলে ঢুকতেই চোখ গেল স্বর্ণের দোকানের দিকে। পর পর একসঙ্গে অনেকগুলো। আড়চোখে তাকাতে তাকাতে ভাবছিলাম একবার ডাকাতি করতে পারলে ভালো হত। দোকানদারগুলো কি ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পেরেছিল যে নিরীহ এই আমার মনের মধ্যে তাদেরই দোকান লুটের পরিকল্পনা চলছে? একই রকম পরিস্থিতি কি রাস্তায় হেঁটে চলে যাওয়া অনেক মেয়েকে দেখলেও আমাদের হয়না? কত মেয়ে আমাদের মানে ছেলেদের মন লুটে নেয়, আর আমরা কত মেয়েদের সর্বস্ব লুটে নেই। সবই তো মনে মনে। আবার হ্যান্ডসাম ছেলে দেখলে মেয়েদের মনে কি ইচ্ছা জাগে কে জানে? গাড়িতে থাকলে ইচ্ছা হয় বৃষ্টির দিনে ফুটপাথের হেঁটে চলে যাওয়া পথচারীর গায়ে পানি ছিটিয়ে মজা নেই, আবার ফুটপাথে হাঁটার সময় কোন গাড়ি পাশ দিয়ে পানি ছিটিয়ে চলে গেলে ইচ্ছা হয় ইট দিয়ে গাড়ির গ্লাসটা ভেংগে মজা নেই। সিনেমার পর্দায় নায়িকাকে দেখে ইচ্ছা হয়, আহা যদি সামনাসামনি দেখতে পেতাম! আর সামনাসামনি মেকআপ ছাড়া অবস্থায় দেখার পর মনে হয়, ‘ওহ, এই ব্যাপার !! এর চেয়ে তো আমাদের পাড়ার চামেলি ভালো। অন্যের হাতে আইফোন দেখলে সবারই ইচ্ছা হয় ঐরকম একটা ফোন কেনার। আর কেনার পর ইচ্ছা হয় নিজের মাথার চুল ছেড়ার, এত টাকা খরচের পরেও যখন কেউ দেখে অল্প টাকার চাইনিজ মোবাইলে আইফোনের চেয়ে ব্যাটারি rtayexrecব্যাকআপ বেশি পাওয়া যায়। সাধারণ অবস্থায় ইচ্ছে জাগে যদি সেলিব্রেটি হতে পারতাম!রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় সবাই যদি আমাকে চিনত! আর সেলিব্রেটি হওয়ার পর ইচ্ছে হয় ইস, রাস্তা দিয়ে চলার সময় কেউ যদি আমাকে চিনতে না পারত! কত শান্তিতে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েই হিসু করতে পারতাম! নতুন সিনেমার প্রোডিউসার ভাবে নায়িকা নিজে থেকেই এসে বলবে, ভাইয়া অনেকদিন একটানা কাজ করতে করতে খুব বোর হয়ে গেছি, চলেন এই সিনেমা শুরুর আগে কক্সবাজার থেকে ঘুরে আসি। আর নায়িকা ভাবে ব্যাটা এত বলদ কেন,এখনো মুখ ফুটে কিছু বলে না। ডাক্তারের ইচ্ছা একগাদা টেস্ট আর নানা রকমের ঔষধ দিয়ে রোগীর কাছ থেকে বড় একটা দাও মারা, রোগীর ইচ্ছা যত কঠিন রোগই হোক পাড়ার ডিসপেনসারির হরেন বাবুর ঔষধ খেয়ে অল্প টাকায় ভালো হওয়া। বাজারের মাছওয়ালার ইচ্ছা পঁচা মাছটা তাজা বলে বেশি টাকায় লোকের কাছে বিক্রি করা, ক্রেতার ইচ্ছা অল্প টাকায় পদ্মার জ্যান্ত ইলিশ নিয়ে বাড়ি ফেরা। রাস্তার ভিক্ষুকের ইচ্ছা পায়ের ঘা যেন সারাজীবন থাকে, এতে করে ভিক্ষার টাকাটা বেশি পাওয়া যায়। আর বড়লোকের ইচ্ছা আরো টাকা কামানো যেন দরিদ্রদের কল্যাণে সে কিছু করতে পারে। লেখকের ইচ্ছা তার বই এর কাটতি বাড়ুক, পকেটে কিছু পয়সা আসবে। পাঠকের ইচ্ছা বইটা কোন পরিচিত বন্ধু কিনুক, ধার করে পড়ে পকেটের কিছু পয়সা বাঁচবে। প্রেমিকের ইচ্ছে যদি সে তার প্রেমিকাকে না বিয়ে করতে পারে তাহলে কবি হয়ে যাবে। প্রেমিকার ইচ্ছে তার প্রেমিক কবি হয়ে যাক, তাহলে সে কোন ধনী ব্যবসায়ীর বউ হয়ে যাবে। দর্শকদের ইচ্ছা সারাদিন কাজের পর টিভিতে ভালো কিছু প্রোগ্রাম দেখে মন ভালো করা। আর বাংলাদেশের টিভি মালিকদের ইচ্ছা কোন ক্রিয়েটিভ কাজ না করেই যেনতেন প্রোগ্রাম দেখিয়ে নিজে বড়লোক হওয়া। আমার ইচ্ছা আমি স্টেজে বুদ্ধিদীপ্ত জোক বলে লোক হাসাবো, আয়োজকদের ইচ্ছা আমি লুংগি পরে খালি গায়ে ‘দয়াল বাবা কলা খাবা’ গানের সাথে নেচে নেচে লোক হাসাবো। প্রাণের বাংলার সম্পাদকের ইচ্ছা আমি প্রতি সপ্তাহের লেখা আগেভাগেই পাঠিয়ে দেই, কিন্তু আমার তো একেবারে শেষ মুহূর্ত না আসা পর্যন্ত টয়লেটেও যেতে ইচ্ছা করে না, লেখার ইচ্ছেটা আসবে কিভাবে?