১৯৭১

omi

ওমি রহমান পিয়াল সাংবাদিক ও ব্লগার। যুদ্ধোপরাধীদের বিচারের দাবিতে বাংলাদেশে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম নেতাদের একজন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জন্মযুদ্ধ-৭১ নামে একটি ওয়েব পেজ পরিচালনা করছেন। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের নানা ঘটনাবলী, অজানা ইতিহাস ও তথ্য সেখানে প্রকাশিত হয়।  ওমি রহমান পিয়ালের এই লেখাটিও মুক্তিযুদ্ধের তেমনি এক অজানা অধ্যায় নিয়ে রচিত।
অবরুদ্ধ তৎকালীন ঢাকা শহর থেকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কয়েকজন জেনারেল, তাদের পরিবার এবং বিদেশী নাগরিকদের পালিয়ে যাওয়ার নাটকীয় উদ্যোগ এবং আমাদের পাশের দেশ বার্মায় তাদের আশ্রয় নেয়ার কাহিনি পিয়াল লিখেছেন তার লেখায়।

টাকা পাচার!

প্রাণ বাঁচানোর এই অভিযাত্রায় একটু জায়গা পেতে কি পরিমান ধাক্কাধাক্কি হয়েছিল তার বর্ণনা আমরা জেনেছি। স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার দ্বিগুন যাত্রী নিয়ে উড়েছিলো প্রতিটি হেলিকপ্টার। সাগরে গিয়ে অনেক কিছু ফেলে দেওয়া হয়েছে যার কথা বলেছেন পাইলটরা। এর বেশীরভাগই অস্ত্রশস্ত্র। রহিম খানকে দিয়ে ইসলামাবাদে কিছু জরুরী ডকুমেন্ট পাঠানোর কথা বলেছিলেন একজন। বেশ কিছু ডকুমেন্ট সাগরে ফেলা হয়েছে বলেছেন অন্যরা। বিচারপতি হামুদুর রহমানের তদন্ত কমিশনেস্বাক্ষীরা কয়েকজনের বিরুদ্ধে টাকা পাচারের অভিযোগ এনেছেন। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের ৩৬ (এ) ডিভিশনের সাবেক জিওসি ও ইস্ট পাকিস্তান সিভিল আর্মড ফোর্সেসের কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ জামশেদ খানের স্ত্রী ১৫ ডিসেম্বর রাতে হেলিকপ্টার যাত্রীদের একজন ছিলেন। ছিলেন তার কল. স্টাফ কর্ণেল রশীদ। দুজনের বিরুদ্ধেই মোটা অংকের টাকা বহনের অভিযোগ আনেন কর্নেল বশীর আহমেদ (স্বাক্ষী নং ২১৩)। লে জেনারেল নিয়াজী রাও ফরমান আলীর বিরুদ্ধে একই অভিযোগ আনেন। তিনি জানান হেলিকপ্টারের পাইলটদের একজন ফরমানের ভাগিনা যার মাধ্যমে তিনি ৬০ হাজার রুপি পাচার করেছেন। উল্লেখ্য জামশেদ, রশীদ ও ফরমান তিনজনই ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবি হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত। দুজনে জবাবদিহিতায় এটাকা স্থানীয় ইনফরমারদের (আলবদর!) পেমেন্টের পর বেচেছিলো বলে জানিয়েছেন।

রিপোর্টে জামশেদের বিরুদ্ধে সম্পর্কে বলা হয় : Col. Bashir Ahmad Khan (Witness No. 263) who was posted as DDML, Eastern Command, stated before the Commission that the wife of Maj Gen Jamshed Khan had brought some currency with her while being evacuated from Dacca on the morning of 16th of December 1971. He further alleged that Lt. Col Rashid, Col. Staff o the East Pakistan Civil Armed Forces, commanded by Maj Gen Jamshed Khan, was also reported to have been involved in the mis-appropriation of currency. It further came to our notice that the General had distributed some money among persons who left East Pakistan by helicopters on the morning of 15th or 16th of December 1971.

An inquiry was made from Maj Gen Jamshed Khan in this behalf, and his reply is as under. : The total sum involved was Rs. 50,000 which I had ordered to be drawn from the currency that was being destroyed under Government instructions and the total amount was distributed by the officers detailed by me and strictly according to the instruction/rules and regulations to the Binaries and Bengalis, informers, and to the needy on night 15/16th December 1971. A secret fund was placed at my disposal by the Government of East Pakistan for the purpose of payment of rewards and purchase of information and in this case the expenditure was from the secret fund at my disposal. This fund was non-auditable. The money given to the needy families who were dispatched by helicopters on night 15th/16th December, 1971 was from the EPCAF Director General’s Fund. I was the sole authority to sanction from this fund and considering the circumstances under which this expenditure was made I had no intention to recommend recovery from persons concerned. From the above clarification it will be appreciated that there was no requirement to furnish details of the above expenditure to any accounts department.”

india-pakistan-war-1971-3We regret we cannot regard the reply given by Maj. Gen Jasmhed as satisfactory. Even though the funds disbursed by him may not be auditable in ordinary circumstances, it would have been appropriate and advisable for him to supply such information as was possible for him to do in the circumstances once the question of the disposal of these funds had arisen on the basis of information supplied to the Commission by officers who heard of these transactions in East Pakistan and later in the prisoners of warcamps. We suggest, therefore, without necessarily implying any dereliction on the part of the general, that the matter should be enquired into further so that the suspicion surrounding the same is cleared in the General’s own interest.

ফরমান আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ও তার জবাব সম্পর্কে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে : 1An allegation was made before the Commission by Lt Gen Niazi that Maj Gen Farman Ali had sent out of East Pakistan a large sum of money, approximately Rs 60,000, through his nephew who was a Helicopter Pilot in the Army and left Dacca in the early hours of the 16th of December, 1971. We reported Major General Farman Ali to seek his explanation regarding this allegation and some other matters. He has explained that a sum of Rs 60,000/- had been given by the President of Pakistan to the Governor of East Pakistan for expenditure at his discretion. After the Governor of East Pakistan resigned on or about the 14th December 1971, Maj Gen Farman Ali, as Advisor to the Governor, became responsible for this amount. He paid Rs 4000 to Islamia Press, Dacca, and this payment was within the knowledge of the Military Secretary to the Governor, who has also been repatriated to Pakistan. Out of the remaining amount of Rs 56,000/-, Maj Gen Farman Ali paid Rs 5000/- to Maj Gen Rahim Khan at the time of his evacuation from Dacca on the morning of the 16th of December 1971 to meet the expenses en-route which may be required not only by Maj Gen Rahim Khan but also by the other persons who were being evacuated with him. It was stated Maj Gen Farman Ali that Maj Gen Rahim Khan had rendered the necessary account of the sum of Rs. 5000/- given to him.
After deducting payments made to the Islamia Press, Dacca, and to Maj Gen Rahim Khan an amount of rS 51,000/- WAS left with Maj Gen Farman Ali which he physically handed over to his nephew Major Ali Jawaher at the time of his departure from Dacca onj the 16th of December 1971. Since his arrival in Pakistan, Maj Gen Farman Ali has deposited Rs 46,000/- in the Government Treasury and handed over the treasury receipt to Brig. Qazi, Director Pay and Accounts, GHQ. He has claimed the remaining amount of Rs 5000/- on account of house rent allowance sanctioned by the Government of East Pakistan for the residence of his wife and family in West Pakistan. He has stated the sanctioned allowance was Rs 1400/- PM and the period involved was twelve months, so that he could claim Rs 15000/- but he has claimed only Rs 5000/-.

শেষকথা :

১৯৭২ সালের জানুয়ারির শুরুতে বার্মার আমন্ত্রণে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একদল পাইলট রেঙ্গুন যায়। সেখান থেকে ব্যাংকক হয়ে করাচিতে হেলিকপ্টারগুলো ফিরিয়ে আনা হয়। কপ্টারের সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। এর আগে যাত্রীরা সব অক্ষত দেহেই ফেরত যান দেশে। ফোর এভিয়েশনের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব তারা পূর্ব পাকিস্তানের একমাত্র সেনা ইউনিট যারা আত্মসমর্পণ এড়িয়ে পালাতে পেরেছিল।

কৃতজ্ঞতা : জন্মযুদ্ধ ‘৭১ (পান্ডুলিপি)

তথ্যসূত্র : পাকিস্তান ডিফেন্স জার্নাল, পাকি ও ভারতীয় বিভিন্ন সামরিক ফোরাম