ম্যায় আওয়ারা হু

রুদ্রাক্ষ রহমান: ভদ্রলোকের নামের সঙ্গে অনেকগুলো নান্দনিক-তুলনা জড়িয়ে গেছে। কবিতায় যেমন উপমা-অলঙ্কারের ঝঙ্কার থাকে, তেমনি তার নাম আর জীবনের সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে সৃষ্টিশীলতার অনেক ঢেউ। বলা হয় তিনি একা যতখানি দিয়ে গেছেন প্রায় একশ’ বছর বয়সী হিন্দি সিনেমাকে, বাকি সবাই মিলেও ততোটা দিতে পারেনি এখন পর্যন্ত। তাকে ফিল্মি দুনিয়ার মানুষরা খুব সমীহ করে বলেন, ‘ভারতীয় চলচ্চিত্রের চার্লি চ্যাপলিন’। অন্য অভিধায় তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের ‘ গ্রেট শো ম্যান’। পিতার নাম পৃথ্বি রাজকাপুর। জি হ্যা, ঠিক ধরেছেন, হিন্দি সিনেমার রাজপুত্র রাজ কাপুরের কথাই বলা হচ্ছে; যিনি গলা ছেড়ে গাইতে পারতেন-‘আওয়ারা হু/ইয়া গর্দিশ মে হু, আসমান কা তারা হু/আওয়ারা হু।’
মহান বাঙালি গায়ক মান্না দে আর মারাঠি ভাষার দেবী লতা মুঙ্গেশকরের গাওয়া একটা গান আছে, যা হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে রোমান্টিক গানের ছোঁয়া নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে যুগ-যুগান্তরের প্রেমিক হৃদয়ে। সেই যে হাওয়াময় বৃষ্টিতে ভিজছে তামাম শহর, ভিজছেন রাজকাপুর, কাঁপছেন নার্গিস। আর সুরে ভাসিয়ে দেয়া কণ্ঠে মান্না দে- লতা গাইছেন ‘পিয়ার হুয়া, ইকরার হুয়া/ পিয়ার সে ফির কিউ ডরতা হে দিল?’ রাজকাপুর না হলে শ্রী ২৪০ হতো? সমন্বয় হতো শংকর জয় কিষনের মতো সঙ্গীত পরিচালক আর শৈলেন্দ্রর মতো গীতিকবির? কত সুপারহিট, কত মন কেমন করা গান যে সৃষ্টি হয়েছে এঁদের হাতে!
অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক সব মিলিয়ে সিনেমার টোটাল ম্যান বলতে যা বোঝায় রাজ কাপুর তাই। পথের মানুষ, হাভাতে, ঘর-সংসারহারা মানুষের বেদনার ভার নিয়ে পুরোটা জীবন হৃদয়-সম্রাট হয়ে ঘুরে বেরিয়েছেন, রাজত্ব করেননি তিনি। ‘ ঘর-বাহার নেহি, সংসার নেহি/ বুঝসে কিসিকো পিয়ার নেহি’-বলতেন,গাইতেন রাজকাপুর। ভেতরে ভেতরে এমনি এক বহিমিয়ান মানুষ রাজকাপুরের জীবনটা খুব লম্বা নয়, ১৯২৪ থেকে ‘৮৮। তবে এরই মধ্যে নাড়াটা দিয়েছেন প্রবল। ১৪ ডিসেম্বর এই মহান স্রষ্টার জন্মদিন। চার পুরুষ ধরে হিন্দি সিনেমায় ভালোবাসার রাজত্ব করা কাপুর পরিবারের এই সদস্যের জন্মদিনে টুপিখোলা অভিবাদন!