একটি ছাপা কাপড়ের গল্প

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

সাহানা হুদা

সাহানা হুদা

আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি । একদিন নতুন একটি জামা পরে ক্লাশে গেলাম । মনটা বেশ খুশি খুশি । কারণ সেইসময়ে নতুন জামা পাওয়াটা ব্যাপক আনন্দের একটা ব্যাপার ছিল । দুটি ঈদ, জন্মদিন আর তেমন কোন উৎসব ছাড়া নতুন জামা কাপড় পাওয়া হয়ে উঠতোনা । আমার বন্ধু সুমির মা, মানে মালেকা খালাম্মা আমাকে এই জামার কাপড়টা উপহার দিয়েছেন । সাদার মধ্যে প্রিন্টেড কাপড়টা বন্ধুমহলে বেশ প্রশংসিত হলো বলে মনটা আরো খুশি হল ।

১১ টার দিকে ক্লাশ থেকে বের হয়ে সেমিনার রুমে গিয়ে দেখলাম ওখানে সুমি বসে আছে । পরণে একই কাপড়ের জামা । সুমি তখন ঐ বিভাগেরই থার্ড ইয়ারে পড়তো । সুমি আর আমি থাকতাম িনউকলোনিতে পাশাপাশি ভবনে । নিত্যদিনের যাতায়াত । আমাদের কাছে ওর বাসা, আমার বাসা আলাদা কিছু ছিলনা। খালাম্মা যখন কিছু কিনতেন, তখন সুমির বন্ধু, আর ঐ বাড়ির অলিখিত সদস্য হিসেবে আমিও একটা ভাগ পেতাম । বুঝলাম খালাম্মা এই কাপড়টা সুমিকেও দিয়েছেন ।

দুপুরে এডিটিং ক্লাশে গিয়ে দেখি সাখাওয়াত স্যার, মানে সুমির বাবাও ঐ কাপড়ের একটি শার্ট পরে ক্লাস নিতে এসেছেন । এবার কিন্তু আমার ফিট হয়ে যাওয়ার অবস্থা । সবাই বেশ কানাঘুষা শুরু করলো । কেইসটা বোঝার চেষ্টা করছে । সুমি এই প্রিন্ট পরেছে, পরেছে – কিন্তু তাই বলে সাখাওয়াত স্যারও ?! যাহোক কোনো উপায় নাই আমার — ক্লাশ বাদ দেয়ার বা জামাinside-fb_dec3-2 বদলানোর । অগত্যা ক্লাশেই থাকলাম । স্যার হয়তো ব্যাপারটা ধরতেও পারলেন না, ধরতে পারার কথাও না ।

বিকেলে ’চৈতালি’ বাসে বাসায় ফিরবো বলে আমি আর সুমি ডিপার্টমেন্টের সেমিনার রুমের সামনে দাঁড়িয়ে ঐ রুটের বাকিদের জন্য অপেক্ষা করছি । আমরা অনেকেই একসাথে বাসে ফিরতাম । হঠাৎ দেখলাম চারতলা থেকে নেমে এল আমাদের কুটি খালা, মানে সুমির ছোট খালা । ও ফিন্যান্স –এ পড়তো সুমির আগের ব্যাচ। ও এসেছে আমাদের সাথে বাসায় ফিরবে বলে । পরণে সেই একই কাপড়ের জামা !! এবার সত্যিই, আমি আর সুমি মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লাম । কীভাবে এখন বাসে যাবো ? তিনজন একই কাপড়ের জামা পরা এবং নামবোও একসাথে আসাদগেটে ।

ওহ না, খালাম্মাকে এর জবাব দিতে হবে । একে কি আমরা কাকতলীয় বলবো ? কেন আমাদের চারজনকে একই প্রিন্টের জামার কাপড় দিলেন ? কেন আমরা একই দিনে পরলাম ? যাক, সম্ভবত সেদিন আমরা অন্য কোন উপায়ে আলাদা আলাদা বাড়ি ফিরেছিলাম । পরে আলোচনা প্রসঙ্গে জানতে পেরেছিলাম সুমির ভাই উপলেরও ঐ একই কাপড়ের শার্ট আছে।

ঘটনার শেষ কিন্তু তখনও হয়নি । প্রতিদিনের মতই ব্যাগটা বাসায় রেখে সুমিদের বাড়ি গেলাম আড্ডা দিতে। সেখানে গিয়ে যা দেখলাম, নিজের চোখকেও বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না । খালাম্মা শুধু আমাদের একই কাপড় পরিয়ে খান্ত হননি । ওনার ঘরের বিছানার চাদর, বালিশের কভার সব ঐ একই প্রিন্টের !!!

সন্ধ্যায় খালাম্মা বাড়ি ফিরে এলে আমরা চেপে ধরলাম । এর মানে কি ? উনি খুব নিরীহ একটা হাসি দিয়ে বললেন, “ তোমাদের নূরজাহান খালাম্মা দোকান চালানোর জন্য কাপড়ের লট এনেছিলেন । সব কাজে লাগেনি । ওর লস হচ্ছিল, তাই আমি একটা লট কিনে নিলাম, যাতে ওর উপকার হয় । এত কাপড়, তাই তোমাদের সবাইকে দিয়েছি ।” আমরা হতবাক । এর কি কোন উত্তর হয় ?

ছবি: লেখক