দুঃস্বপ্ন

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

রথীন ভট্টাচার্য্য

রথীন ভট্টাচার্য্য

ভিখারী যেমন একদিন কাউকে ভিক্ষা দেবার স্বপ্ন দেখে, পাঠকওতেমনি একদিন লেখক হবার বাসনা রাখে। কত-শত পড়েছি, এখনোপড়ি।হ্যাঁলেখারও ইচ্ছে হয় মাঝে মাঝে। পুরনো খাতা খুলে দেখি কবেযেন লিখেছিলাম কবিতা, গল্প, অনুগল্প, চুটকি বা অন্য কিছু।
ফেসবুকেআসার পর দেখি সামনে সমুদ্র ! সোসাল মিডিয়ার যেকতবড় প্লাটফর্ম কে জানে!
কত শত বন্ধুর লেখা পড়ি, শেয়ার করি, আনন্দ পাই। আমিও লিখি।আমার স্বপ্ন ছিল আমার লেখাও কেউ পড়ুক। আমার পছন্দের লেখক শিবরাম চক্রবর্তীবাবু তো যে কাগজ বিক্রী করেছেন, তাতেই আবার লিখেওছেন !
ভালো কি মন্দ লিখি, সে বিচার সুধীজন করবেন। আমি এই পড়া-লেখার জনসমুদ্রে নেমেছি সাতার শিখতে, সাতার কাটতে।

সেদিন ফেসবুকে এক বন্ধু আত্মানুসন্ধানের কথা লিখেছিলেন। রাত্রে বসে’ প্রোফাইলে নিজের লেখাগুলো অনুসন্ধান করে “চিকেনচাওমিন” নামের গল্পটা বারম্বার পড়তে পড়তে রাত বারোটা বাজলো।ঘুম আর আসে না । ঘুম না আসার ভালো ওষুধ হচ্ছে, যার জন্যে ঘুম আসছে না, তাই নিয়ে ভাবো। চেষ্টা করলাম, নাঃ। শেষে চেষ্টা ছেড়েদিয়ে পড়ে’ রইলাম বিছানায় চোখ বুঁজে।ভাবলাম, এই ফেসবুকইআমার বারোটা বাজিয়েছে !

এমন সময়টা এলো, সাধারণ কন্ঠ।শুরু হলো আজ রাতের বকবক।
– আপনার একটা লেখা আমার ” দূরের- খেঁয়া” তে স্থানদিতে চাই…..যদি দয়া করে’….তবে….অর্থ দেবার ক্ষমতা আমার নাই কিন্তু ।”
– না না, অনর্থক লজ্জ্বা দিচ্ছেন আমাকে। sir বলে’ অনেকে ডাকলেও,আমি কি ছার, তা কি আর জানি না ? ‘সোনার তরী’ তে তো আর আমার ধান বা ধেনো স্থান পাবে না কোনদিন; তা, কাছেপিঠে বা দূরেরকোন জাহাজ, নৌকো বা খেঁয়ায় যদি স্থান পায়,…তো আমিও হয়তো ক্রমে একটু স্থানু হতে পারবো।

– “তাহলে দিলেনতো আপনার ‘অমুক’ গল্পটা।
– এ মুখটা রক্ষা করলেন আপনি, মশাই। আমার লেখাগুলো তো একদিন পরই প্রোফাইলে ফাইল-বন্দী হয়ে যায়। তবুও একটা যদি খেঁয়া ধরে’ বৈতরণী পার হয়ই, তো সম্মুখে পারাবার….।
-যদি লোকে ‘খায়’, আরও দাবী করার দাবী করতে পারবো তো ?
– বিনা দাবাদাবী তেই….

দুগ্ধবতী গাভী যেমন বাছুর দেখলে পানিয়ে ওঠে, ভদ্রলোক ফোন রাখার পর আমিও যেন pun-ইয়ে উঠলাম! ভাবলাম, বেশ হয়,…ঐ একটু আধটু চিনলো লোকে!ভাবি, হয়তো কোন ভাবী কালে কোন এক বইমেলায়, মানে, যেখানে মেলা বই মেলা রয়েছে পাঠকের দ্বার ঠকঠকাতে (বা পাঠককে ঠকাতে !), সেখানে আমারও একখানাবই….স্বপ্ন বৈ নয়,…তবুও মনে হয়…..!

তারপর রাতে আবার একটা ফোন এলো।
– হ্যালো,….আমি কি অমুক বাবুর সাথে কথা বলছি ?
– হ্যা, তা বলছেন। তবে এই নামের অন্য কাউকে খুঁজছেন কি না, তাজানি না ।
– কী যে বলেন দাদা, এই নাম তো একটাই।এটুকু
বলে’ তিনি নামাবলী গাইতে লাগলেন। উদ্দ্যেশ্য জানতে চাইলে বললেন,কী মুস্কিলে যে ফোন নাম্বারটা পেয়েছি…!”professor or writer cartoon coloring page
– কেন, আমার কাছে চাইলেই বিনা-চাইতেই দিতাম। ফোন তো কথাবলারই জন্যে । কথার কথা নয়, সত্যি কথা ।….বলুন এবার।
– আপনাকে follow করি নিয়মিত।
– সে কী মশাই, গোয়েন্দা গিরি করেন নাকি ?
– না না, লাইনের লোক তো, সব দিকেই go through….বুঝলেন ?
– বুঝলাম আর কই ? সন্দেহের বোঝাটা আরও বোঝ হোল মাথায় ।
– বলছিলাম, আমার নাম বেণীমাধব দত্ত, মেদিনীপুর। “বাণী প্রকাশনী”র মালিক।

এবার এই ভদ্রলোক প্রকাশিত হলেন। প্রকাশ পেলো উনি প্রকাশক।
বললেন, ঐ যে গোয়েন্দা বলছিলেন না,… আসলে wherever we go,…end এ সেখানেই থামি, যেখানে সাহিত্য আছে। মানে অর্থপূর্ণ কিছু পড়ার খোরাক আছে আর কি ! …আপনার অনুমতি থাকলে বেছে বেছে আপনার গোটা পঁচিশেক গল্প নিয়ে একখানা চটি বই ছাপাতে চাই।
নামটাও ভেবে রেখেছি, যদি আপনি রাজী হন….”অমুকের নির্বাচিত রম্যরচনা।”
– দেখুন, আমি অখ্যাত সাধারণ লেখক। শখ করে লিখি। Shock দেবার মতো ওতে কিছু নেই।
– এই বিনয়ই তো আপনার সম্পদ….দাদা।
– এতো করে যখন বলছেন, তো, বেশ। তবে, আমার খোরাকী বাবদ কোন ছোটখাটো অর্থপূর্ণ মানিব্যগ-পূর্ণ-অর্থ পাবো তো, না কি, স-হিত্যে কিছুটা ত্যাগের মাধ্যমে সাহিত্যের বাণী প্রকাশ ?

– আসলে আপনি নতুন তো, ধীরে-ধীরে হবে । যখন সবাই চিনবে, তখন সবাই কিনবে। আমরাও আপনাকে কিনবো তখন, আগাম।

– তবে, আগাম- ই হবে আমার আগামী ভবিষ্যৎ বলছেন ?

– নিশ্চয়ই।…..তবে একেবারে যে কিছু দেবো না, তা ভাববেন না ।

– না না, আপনি যে আমার মতো তুচ্ছকে উচ্চ দরবারে লিপ্ত করার কথা বললেন, ওতেই আমি দর বিগলিত।

– আচ্ছা, নমস্কার দাদা ।

আনন্দের প্রকাশ না থাকলে তা বুকের উপর বোঝা হয়ে বেদনা দেয়।….একলা ঘরে খাটের উপর শুয়ে মনে হোল একটা সামান্য কলম আমার বুকের উপর ঢেঁকির মতো চেপে রয়েছে !

আর সেদিন, বেশ রাতে বেল বাজলো।
– একি? তুমি, কখনএলে?
– এই তো, সন্ধ্যের ফ্লাইটে। নিজেই এলাম দাদা নতুন বইখানা দিতে।
কভার design টা দারুণ হয়েছে না ?

– খারাপ না। ও, হ্যা, এসেছো যখন তখন বলি শোন, বইমেলার তো এখনো চার মাস বাকী; ভাবছিলাম, “এযাবৎ” নাম দিয়ে আমার প্রকাশিত লেখা গুলো একসঙ্গে বের করলে কেমন হয় ?”
– আপনি বললেন, আমি ব্যাস্ অমনি বুঝে গেছি, স্যার, অমনিবাস তো ?
– হ্যা, ঐ রকম আর কি।

অমনিবাস !!!…..এমনই বাঁশ….বাঁশ….বাঁশ !!!! উফ্, কী বীভৎস স্বপ্ন !! কেন যে অতগুলো চিকেন চাওমিন খেয়েছিলাম রাতে!!

নাঃ, কান ধরছি…..শিব-শিব, রাম-রাম। আর কখনো এমন স্বপ্নদেখবো না ।

ওঁনাকে সাষ্টাঙ্গে প্রণিপাত।

এই মরেছে, ষষ্ট অঙ্গ আবার কোনটা, যা দিয়ে ঐ চরণে প্রাণ-পাতকরি ?

ছবি: ইন্টারনেট