টাইটানিক ডুবেছিল আগুন লেগে

টাইটানিক-ডুবির ঘটনার বয়স একশ বছরের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। কেন ডুবে গিয়েছিল ৮৮২ ফুট দীর্ঘ এই বিশাল প্রমোদতরী? উত্তরটা সচেতন সব মানুষেরই জানা।

gettyimages-3241728

নিউইয়র্ক টাইম্‌স পত্রিকায় টাইটানিক ডুবির খবর

উত্তর মেরুর কাছাকাছি ভাসমান এক বিশাল বরফ খন্ডের সঙ্গে ধাক্কা লেগেই সলিল সমাধি লাভ করেছিল এই জাহাজটি। কিন্তু আয়ারল্যান্ডের সাংবাদিক ও লেখক শ্যানন মলোনি ৩০ বছর ধরে এই ঘটনার ওপর অনুসন্ধ্যান চালিয়ে বের করেছেন টাইটানিক আসলে ডুবে গিয়েছিল আগ্নিকান্ডে। বরফের চাঙ্গরে ধাক্কা লাগাটা আসল কারণ নয়! নড়েচড়ে বসার মতোই খবর। ইংল্যান্ডের ‘দি সান’ পত্রিকায় মলোনির এই নতুন আবিষ্কারের ওপর দীর্ঘ প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। সেখানে মলোনি বলছেন, ১৯১২ সালের ১০ এপ্রিল বেলফাস্টের বন্দর থেকে টাইটানিক যখন যাত্রা করে তখনই এই বিশাল জাহাজের ইঞ্জিনের বয়লার রুমে কয়লা রাখার জায়গায় অগ্নিকান্ড ঘটে। অতি সম্প্রতি ইংল্যান্ডে এক নিলামে টাইটানিকের বেশ কয়েকটি অপ্রকাশিত ছবি নিলামে উঠলে আগুন লাগার বিষয়ে আরও নিশ্চিত হন সাংবাদিক মনোলি। ছবিতে স্পষ্টই দৃশ্যমান হয় টাইটানিকের সামনের অংশে আগুনের পোড়া কালো দাগ। পোড়া দাগের বিষয়টি নিয়ে আগে কেউ তদন্ত করেনি।
মলোনি তার গবেষণায় বলেন, ‘টাইটানিক ডুবে যাওয়ার কারণ হিসেবে তদন্ত কমিটি প্রধান  উত্থাপন করে বরফের বিশাল চাঙ্গড়ের সঙ্গে ধাক্কা লাগার ঘটনাটা। কিন্তু বাস্তবে এটি নিছক দূর্ঘটনা ছিলো না। এই প্রাসাদসম তরীটি ডুবে যাওয়ার পেছনে কারণ তিনটি-১. আগিুন ২. ধাক্কা ৩. অবহেলা।’
টাইটানিকের দৈর্ঘ ছিল ৮৮২ ফুট ৯ ইঞ্চি। জাহাজটি চালানোর জন্য প্রতিদিন ব্যবহৃত কয়লার পরিমাণ ছিল ৮২৫ টন। জাহাজটি ৩,৫৪৭ জন যাত্রী পরিবহনে সক্ষম ছিল। দূর্ঘটনা ঘটার সময় জাহাজে উপস্থিত যাত্রীর সংখ্যা ছিল ২,২২৩ জন। ওই সময়ে টাইটানিকে উপস্থিত ছিল ১৩ জন সদ্য বিবাহিত যুগল। তারা মিধুচন্দ্রিমা উদযাপনের জন্য টাইটানিকের টিকেট কেটেছিলেন।টাইটানিকের রান্নাঘরে মজুদ খাবারের পরিমাণ শুনলেও চমকে উঠতে হয়। ঐতিহাসিক এই জাহাজটিতে প্রতিদিন ১৪ হাজার গ্যালন খাবার পানি ব্যবহৃত হতো। সেখানে মজুদ ছিল ৪০ হাজার ডিম। ওয়াইনের বোতলের সংখ্যা ছিল ১ হাজার।

1-13-jpg

টাইটানিকের ডেক

টাইটানিক ডুবে যাওয়ার পর কারণ অনুসন্ধানের জন্য গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। কমিটি শেষ পর্যন্ত পুরো ঘটনাটাকে ‘ঈশ্বরের বিধান’ বলে আখ্যা দিয়ে তদন্তের খাতা বন্ধ করে। কিন্তু মলোনির অনুসন্ধান বলছে, আগুন লাগার পর দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টা সেখানে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলেছিল।
তার গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, জাহাজটি রওনা হবার সময় এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এরপর পরবর্তী চারদিনেও জাহাজের প্রকৌশলীরা এ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। ফলে প্রায় এক হাজার ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড উত্তাপে লোহার তৈরী জাহাজের হাল দূর্বল হয়ে যায়। আর তারপরেই বরফের চাঙ্গড়ে ধাক্কা লাগলে সেটা সহজেই ফেটে যায়। আগুন লাগার পর টাইটানিক যদি সমুদ্রে না-ভাসতো তাহলে এতো বড় দূর্ঘটনা হয়তো ঘটতো না। মলোনি জানান, সম্ভবত ঠিক সময়ে জাহাজ ছাড়ার তাড়াহুড়ো থাকায় আগুন লাগার ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়া হয়নি।
১৯১২ সালের ১৫ এপ্রিল টাইটানিক সমুদ্রে ডুবে গেলে প্রায় ১৫শ মানুষ সলিল সমাধি লাভ করে। সান পত্রিকা জানিয়েছে, মলোনি তার সব তথ্য নিয়ে একটি ডকুমেন্টরি সিনেমা নির্মাণ করবেন।

অথৈ আহমেদ
তথ্যসূত্রঃ দি সান পত্রিকা
ছবিঃ গুগল