বিয়ে বাড়ির প্রস্তুতি

বাড়ির সবচেয়ে ছোট ছেলে ছটকুর বিয়ের পাকা কথা হয়ে গেল। এতদিন পর বাড়িতে আবার বিয়ের ধুম পড়বে…বাবা, মা, ভাই-ভাবীর যেন ঘুম হারাম। বাবা খাতা কলম হাতে মুখ গুজেন অতিথি আর আপ্যায়নের তালিকায়, ভাবী ব্যস্ত শাড়ি, গহনা আর ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে। মা বড় মুশকিলে পড়েছেন পুরনো দেয়াল আর ঘর গেরস্থালির কথা ভেবে…। বাড়ির কাজে হাত দিলে বিয়ের মৌসুমে হাত গলিয়ে বেড়িয়ে যাবে অনেকগুলো টাকা। তাছাড়া আধুনিক যুগে ডিজাইনটাও তো আধুনিক হওয়া চাই…। কিভাবে কম খরচে আধুনিক করে বাড়িটাকে সাজিয়ে তোলা যায়- এই কথাটা নাড়াচাড়া করতেই ত্বরিতকর্মা, একসময়ের ফ্যাশন বিভাগের লেখিকা, বাড়ির একমাত্র বউমাটি ইন্টারনেট আর নতুন-পুরনো ম্যাগাজিন ঘেঁটে শ্বাশুরির সামনে হাজির করল একশটি উপায়। ছবিগুলো নেড়ে-চেড়ে শ্বাশুরির মনে ধরলো একটা ডিজাইন।শ্বাশুরির রুচি-পছন্দও তো ফেলনার নয়-একসময় নিয়মিতই যাতায়াত ছিল ছায়ানট আর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে। তাই আধুনিকতা খুঁজলেও পুরোনো গন্ধকে স্মৃতি থেকে মুছে ফেলতে পারেন না একেবারে। দৃশ্যমান ইটের দেয়ালের ডিজাইনটা তাই তার ভাল লেগে যায়। একটি ঠাণ্ডা-শীতল কিন্তু উষ্ণ আন্তরিকতা ছড়িয়ে দিতে এই ধরণের দেয়ালের কোন জুড়ি নেই। রান্নাঘর থেকে শুরু করে, বসার ঘর- সব জায়গাতেই লাল ইটের আভাএকটি ঘরোয়া, ছিমছাম,নস্টালজিকভাব এনে দেয়। ম্যাগাজিনের ছবিগুলোর দিকে তাকিয়ে, যার নাম ছিল একসময় ফরিদা, তিনি মনে মনে সাজাতে থাকেন তার ঘর গেরস্থালি নতুন করে।

বসার ঘরে ইটের দেয়ালের সামনেটাতে বইয়ের তাক, কিছু পুরনো পেইন্টিংস কিংবা বাধানো হাতের কাজ। অল্প কিছু সবুজের ছোঁয়া, মানিপ্ল্যান্টবা পাতাবাহার। সিরামিকের ফুলদানিতে জবা নয়ত রজনীগন্ধা। ছিমছাম বসার ব্যবস্থা, একপাশে ছোট্ট শতরঞ্জিতে তারছেঁড়া পুরনো তানপুরাটা।ফরিদা ভাবেন, বড় শপিং মল থেকে কেনা বিদেশি দামি-দামি শো-পিসের চাইতে এই সব সাদামাটা আয়োজনের আবেদনও কিন্তু নিছক নয়।বিলাসিতা না থাকলেও কেমন একটা মায়া কাজ করে। অন্তত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা বাড়ির নতুন বউটি আর নতুন অতিথিদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর জন্য এটা দারুন একটি সজ্জা হতে পারে। নিজেদের মনন, মানসিকতারসঙ্গে দারুন মানানসইও হবে এটা।ব্যস, নতুন করে ফেসে গেলেন বড় বউমা হৃদিতা। ফেসিয়াল প্যাকটা ফ্রিজে তুলে রেখে শ্বাশুরিকে নিয়ে রওনা হলেন হাতিরপুলে সিরামিক টাইলসের দোকানে খরচপাতি সম্পর্কে আরো ধারণা নিতে।

পাঠক, আপনাদের জীর্ণ, স্যাঁতস্যাতে, নোনা ধরা দেয়ালটাতেও দিতে পারেন নতুন চেহারা মিস ফরিদার মত করে। কিংবা রেডিমেড ফ্ল্যাটটিতেস্বকীয়তা আনতে চাইলে আপনিও ভাবতে পারেন এরকম কোন পদক্ষেপের কথা। নতুন করে চুনকাম বা রঙ করার ঝামেলা যদি নিতেই চান তাহলে কেন নয় আরেকটু খরচ করে ভিন্নতার রূপ দেয়া? এ ব্যাপারে আরো বিস্তারিত ও খরচপাতির খোঁজ-খবর পাবেন এলিফ্যান্টরোড, হাতিরপুল সহ বিভিন্ন জায়গায় টাইলসের দোকানগুলোতে। আর্কিটেকচারাল ওয়াল ব্রিক নামে একধরনের টাইলস পাওয়া যায় নানা রঙের ও আকৃতির। এগুলো টইলসের মত করে বসাতে পারেন। দেয়ালের প্লাস্টার উঠিয়েও লাল ইটের আভা বের করে নিতে পারেন। রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে তাতে দিতে পারেন চকচকে রূপ।

আরো কিছু ধারণা পেতে চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন আমাদের সংযুক্ত ছবিগুলোতেও।

বিয়ে বাড়ির জন্য আরো কিছু টিপস-

  • বিয়ে বাড়িতে অতিথি-আত্মীয়দের আনাগোনা লেগেই থাকে।সঙ্গে ছোট বাচ্চারাও থাকবে দু-চারজন বলাই বাহুল্য। তাই ভঙ্গুর এবং ছোট আকৃতির জিনিসগুলোকে আপাতত হাতের নাগালের বাইরে রাখবেন, নাহলে অসাবধানে গড়িয়ে পড়ে ভেঙ্গে বা চুরিও হয়ে যেতে পারে।
  • হাতের কাছে টিস্যু পেপার রাখবেন যাতে অসাবধানে মেঝে বা আসবাবে কিছু পড়ে গেলেও সাথে সাথে মুছে নিতে পারেন।
  • মেঝে ও আসবাব ঝেঁড়ে-পুছে পরিষ্কার রাখার জন্য একজনকে নিযুক্ত রাখুন কিংবা নিজেও তা করার কথা ভুলবেন না।

ভালো থাকুক আপনার ঘর গেরস্থালি, উৎসবে মেতে উঠুক সবার পরিবার।

ইভা আফরোজ খান

ছবি: গুগল