ভয়ঙ্কর ৬ হ্যাকার

খালি হয়ে গেছে আমাদের রাজকোষ। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে হ্যাকাররা হাতিয়ে  নিয়েছে কয়েকশ কোটি টাকা। আমরা যখন এই লেখা লিখছি তখন কে  জানে হয়ত পৃথিবীর কন কোনায়  বসে ভয়ঙ্কর হ্যাকের পরিকল্পনা করছে চতুর কোন হ্যাকার। আমাদের গল্প শুরু হচ্ছে  পৃথিবী কাঁপানো  ছয় হ্যাকার   নিয়ে।

এই শতাব্দীতে গোটা পৃথিবীতে সবচাইতে বেশি আলোচিত হয়েছে জুলিয়াস অ্যাসাঞ্জের নাম। অপ্রতিরোধ্য আর দুঃসাহসী এই জুলিয়াস অ্যাসাঞ্জ। কম্পিউটার হ্যাকার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর বড় বড় রাষ্ট্রগুলোর প্রশাসন যন্ত্রের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে এই মানুষটি। বিভিন্ন দেশের সরকারগুলোর গোপন দলিল আর চিঠিপত্র প্রকাশ করে দিয়ে মহা হৈ চৈ বাঁধিয়ে দিয়েছিল এই মানুষটি। বাংলাদেশেরও অনেক রাজনৈতিক স্পর্শকাতর তথ্য জুলিয়াস অ্যাসাঞ্জ ফাঁস করে দিয়েছে। পরিণত হয়েছে বিশ্বের মিডিয়া জগতের এক নম্বর খবর।

অ্যাসাঞ্জের পাশাপাশি গোটা পৃথিবীতে আরও পাঁচজন হ্যাকারের নাম খবরের শিরোণাম হয়েছে। এদের মধ্যে একজন হচ্ছে জোনাথন জেমস। হ্যাকিংয়ের দুনিয়ায় তাকে সবাই কমরেড হিসেবে জানে। আমেরিকান নাগরিক এই জেমস আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিভাগ ও নাসার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নিয়ে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিলো। এই তথ্যের বাজার মূল্য অনুমান করা হয় ১ দশমিক সাত মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

হ্যাকিং দুনিয়ায় আরেক আলোচিত নাম কেভিন মিটনিকস। আমেরিকার অধিবাসী কেভিনকে আমেরিকার জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট ‘আমেরিকার ইতিহাসে সবচাইতে ভয়ঙ্কর কম্পিউটার ক্রিমিনাল হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। কেভিন আমেরিকার ডিফেন্স ওয়ার্নিং সিস্টেম এবং বেশ কিছু কর্পোরেট কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে। এই অপরাধে তার জেল হয়েছিল পাঁচ বছর। জেল থেকে বের হয়ে কেভিন অবশ্য স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে।

অ্যালবার্ট গনজালেজ আরেক বুকে কাঁপন ধরানো হ্যাকার। আমেরিকায় বুদ্ধির ভেলকি দেখিয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে চুরি করে নেয় ১৭০ মিলিয়ন ক্রেডিট কার্ড ও এটিম কার্ড নম্বর। এ কাজে তার সময় লেগেছিল দুই বছর। পরে বিখ্যাত হার্টল্যান্ড পেমেন্ট সিস্টেম কোম্পানীর ক্রেডিট কার্ড নম্বর হাতিয়ে নিতে গিয়ে শীঘ্রই চলে যায় এই হ্যাকার। ২০ বছরের জেল হয়েছে তার।

কেভিন পলসন আরেক ঘুঘু হ্যাকার। এই দুনিয়ায় লোকে তাকে চেনে ‘ডার্ক দান্তে’ নামে। আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের তথ্য হ্যাক করতে গিয়ে ধরা পড়ে পলসন। তার অবশ্য মাত্র ৫১ মাসের জেল হয়।
জেল থেকে ছাড়া পেয়ে পলসন সাংবাদিকতা পেশা বেছে নেয়।

গ্যারি ম্যাককিনানের ছদ্মনাম সলো। ২০০১ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে গ্যারি আমেরিকার সেনাবাহিনী ও মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র (নাসা)-এর ৯৭টি কম্পিউটারের ডাটাবেসে ঢুকে পড়ে এবং তথ্য চুরি করে। গ্যারি হ্যাকিংয়ের ধাক্কায় সেই সময়ে ওইসব বিভাগের প্রায় ৩শ কম্পিউটার অচল হয়ে যায়।

গ্যারি অবশ্য দাবি করেছে সে তথ্য অনুসন্ধ্যান করতেই এসব ডাটা বেসে হানা দিয়েছিল। নিজেকে গোপন রেখে গ্যারি এখনও তার কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

প্রাণের বাংলা প্রতিবেদক