কেমন বাংলাদেশ চাই

12631352_612043892284613_6870879544153255415_nবাংলাদেশের রয়েছে হাজার বছরের গৌরবময় ইতিহাস। এদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য সবসময় পৃথিবীর মানুষকে আকৃষ্ট করেছে। বিভিন্ন সময় এদেশের কৃতি সন্তানেরা বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে করেছে সম্মানিত, উজ্জ্বল। আমি সবসময় আশাবাদী। জাতি হিসাবে গর্ব করার মতো একটা দেশে যা যা থাকা দরকার সবই আছে আমার বাংলাদেশে। অতীতে ছিল, বর্তমানেও আছে। দু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়তো আমাদের মনকে একটু নাড়িয়ে দেয়, সেই দিক থেকে যদি ভাবি তবে উন্নত বিশ্ব থেকে এখনো আমরা অনেক ভালো আছি । এখনো আমাদের পারিবারিক মূল্যবোধ রয়েছে, রয়েছে নিত্যনতুন কাজ করার শক্তি, অনুপ্রেরণা। এখনো আমরা জীবন বাজি রেখে চলন্ত ট্রেনের সামনে যাত্রীদের বাঁচাতে ছুটে যেতে পারি। যোকোনো দূর্ঘটনায়, আনন্দে দেশের মানুষ যেভাবে একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়ে, মনে হয় না পৃথিবীর কোনো দেশে এই দৃশ্য দেখা যায়। ভবিষ্যতে আমি এমন একটি দেশ চাই যে দেশ নৈতিকতা দিক থেকে হবে উঁচু, থাকবে না কোনো বিরোধ-বিবাদ। জাতি হিসাবে আমরা হবো কর্মঠ ও সফল। আমরা হবো সারা বিশ্বের জন্য শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। নিশাত মাসফিকা, সম্পাদক লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন। 

11427867_10153409786168270_1309167242460054076_nদেশটা আমার, আমার বাবা স্বাধীনতার প্রথম পতাকা বহন করেছে, তাই দেশের প্রতি দায়টা একটু বেশি, দেশটাকে আমি অনেক ভালবাসি, আমার মনে হয় প্রতিটা মানুষই ভালবাসে, যে স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল সেই স্বপ্নে ধুলা পরেছে,  সে ধুলা আমাদেরই পরিষ্কার করতে হবে। যে দেশে থাকবে না কোনো চুরি, খুন , গুম, রাহাজানি। নতুন যুব সমাজ তৈরি  করেতে হবে, আমরা আবার নতুন স্বপ্ন দেখাবো, স্বপ্নের দেশ হবে, আমরা শুধু আমার না, আমাদের সেটা বুঝতে হবে। ময়লা যেখানে সেখানে ফেলবো না, গাড়ি রাস্তায় রাখবো না, নাগরিক হিসেবে যে সকল দায়িত্ব আমাদের সব পালন করা উচিত আমরা সব পালন করব। তবেই হবে আমাদের স্বপ্নের দেশ। শামিমা তুষ্টি, অভিনেত্রী ।

shahan 2আমি কি চাই তারচে বড় কথা আমি কি দেখছি। কি ভাবছি, কি ভাবাচ্ছে। ইদানিং আমার খুব কষ্ট হয়। রাগ হয়। মেনে নিতে পারি না। মনে হয় আমার ভুল হচ্ছে নাকি সবাই ভুল করছে। সবাই একসাথে ভুল করতে পারে না। ভুলটা নিশ্চয় আমারই। আমার কষ্ট খুব ছোট। আমি কেন প্রাণ খুলে কথা বলতে পারছিনা? কারণ আমার চারপাশের বেশিরভাগ মানুষ এখন অর্ধেক বাংলায় কথা বলছে। আমার চারপাশের বেশিরভাগ শিশুরা ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশুনা করছে। তাতে আমার কোনও আপত্তি নেই। পৃথিবীর সাথে যোগাযোগ রাখতে হলে ইংরেজি শিক্ষাটা খুব বেশি জরুরি। তাই বলে আমার প্রাণের ভাষাটা বাদ দিয়ে নয়। আমার মায়ের ভাষাটা বাদ দিয়ে না। আমার কাছে খুব কষ্ট হয় যখন একটা বাচ্চাকে ‘পুনরায়’ শব্দটা বললে সে বুঝতে পারে না। কারণ বাংলা ভাষার ওপর তার যতটুকু দখল আছে তা কেবল শুনে শুনে শেখা। সে ‘again’ বুঝে কিন্তু ‘পুনরায়’ বুঝে না। বেশিরভাগ বাচ্চারা আমার জাতীয় সংগীতটা জানে না। তাকে জানানো হচ্ছে না। আমারা আধুনিকতার নাম করে যে ভয়াবহ গহ্বরে যাত্রা শুরু করেছি তা যে কতো ভয়াবহ তা হয়তো আমরা এখনো বুঝতে পারছি না। অথচ আমারাই পৃথিবীর একমাত্র জাতি যারা মায়ের ভাষার জন্য নিজের জীবন বিপন্ন করে দিয়েছি। আজ যখন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাংলা ভাষার চর্চা হচ্ছে আর আমরাই আমাদের ভাষা থেকে দূরে গিয়ে এক অচেনা অজানা ভাষার জন্ম দিচ্ছি। বিকৃতি যে বাংলা ভাষার জন্ম আমরা দিচ্ছি তার সাথে আমার মা পরিচিত না। সন্তান যখন নিজের মায়ের সাথে পরিচয় হারিয়ে ফেলে তখন এই পরিচয়হীন সন্তানের পৃথিবীতে কোনও মূল্য থাকে না। আমার দেশ নিয়ে আমি ভীষণ আশাবাদি মানুষ। যত বাঁধা বিপত্তি আসুক আমাদের অগ্রযাত্রা কোনদিন থামে নাই। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি দুর্বার গতিতে। আমি আমার এই গতিই আমার অহংকার। আগামীর বাংলাদেশ বলতে আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটা বাংলাদেশ যে দেশটা স্বপ্ন দেখে গেছেন আমার জাতির জনক। বঙ্গবন্ধু শুধু একটা নাম না আমার কাছে। আমার কাছে বঙ্গবন্ধু একটা স্বপ্ন, আর সেই স্বপ্ন নিয়েই তৈরি হচ্ছে আমার দেশ। যেদিন সেই স্বপ্ন আমরা পুরন করবো সেদিনই হবে বাংলাদেশ শব্দের সঠিক ব্যাবহার। আমি একটা স্বনির্ভর দেশ দেখতে চাই। আমার খাদ্য আমার দেশে উৎপন্ন হবে। আমার দেশের প্রতিটা ক্ষেত্রে আমার দেশের মানুষ কাজ করবে। কোনও বিদেশির শাসন আমরা কোনদিন মেনে নেই নাই। কোনদিন ই নিবো না। আমার দেশের পাট আবার সারা পৃথিবীতে রপ্তানি হবে। সর্বোপরি আমার দেশের সব মানুষ বাংলায় কথা বলবে, পরিশীলিত মাতৃ ভাষায় কথা বলবে। আমরাই হবো পৃথিবীর বুকে এমন একটা দেশ যে দেশের নাগরিকত্ব পেতে সারা পৃথিবীর মানুষ স্বপ্ন দেখবে। শাহান কবন্ধ, গীতিকার। 

rana3প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি এ বাংলাদেশ। চারিদিকে সৌন্দর্যের প্রাচুর্য। সব কিছুই আছে এ দেশের মৃত্তিকায়। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া সর্বত্র রূপসী মায়ের হাতছানি। কিন্তু মাঝে মাঝে এই মাকে আমি হারিয়ে ফেলি গুটি কয়েক ক্ষমতালোভী, কুৎসিত মনের অধিকারী মানুষের জন্য। যারা আমার মাকে পুড়িয়ে, মায়ের বুকে রক্তস্রোত বসিয়ে মজা পায়। একজন আধুনিক সমাজের মানুষ হিসেবে আমার প্রথম চাওয়া এদেশ থেকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাটা সবার আগে দূর হোক। মানুষের মনের মধ্যে মানুষের প্রতি সম্মান বাড়ুক। এ দেশের প্রত্যেকটি শিশু যাতে শুদ্ধ বাংলা শিখে বড় হতে পারে সেটার সুযোগ করে দিতে হবে। আমার খুব কষ্ট লাগে যখন দেখি আমাদের দেশে উচ্চ শিক্ষা ইংরেজি মাধ্যম ছাড়া নেওয়া যায় না। কিন্তু কেন? আমাদের ভাষা কি সমৃদ্ধ না? যে ভাষার জন্য ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল করা যায়, শহীদ হওয়া যায়, সে ভাষায় কেন উচ্চ শিক্ষা নিতে পারবো না? আমি চাই না এ দেশের আরেকটি শিশু ও না খেয়ে ফুটপাতে  ঘুমাক। চাই না কোনো রেল স্টেশনে তারা রাত পার করুক। দুর্নীতিতে যাতে আর একটি টাকাও নষ্ট না হয় সে ব্যাপারে সরকারকে কঠোর হতে হবে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকার। কিন্তু আজকাল মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও অনেক ছেলেখেলা হচ্ছে। অনতিবিলম্বে এমন লজ্জাকর হাসি তামাশা বন্ধ করা হোক। মুক্তিযুদ্ধ কে বিতর্কের উর্ধ্বে স্থান দিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটা অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এগিয়ে যাক এটাই আমার চাওয়া। যেখানে হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ -খ্রিষ্টান একসাথে ঈদ-পূজা পালন করবে, থাকবে না কোনো বিভেদ। ধর্মের নামে সৃষ্ট উগ্র সংগঠন গুলো কে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দূর করতে হবে। এ দেশে মৌলবাদী দের কোনো স্থান হবে না। পরিশেষে আমি বলব বিশ্বের যে কোনো দেশে যাতে মাথা উঁচু করে বলতে পারি, আমরা বাঙালি, বাংলাদেশি। খায়রুল হাসান, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ।

10888841_10152975056345310_1785571875314928510_nদেশ নিয়ে প্রত্যাশার দিকগুলো খুব স্পষ্ট। বিচ্ছিন্নভাবে সব কিছুই হচ্ছে । যারা দেশেকে নিয়ে ভাবে নতুন প্রজন্মকে নতুনত্বের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কথা ভাবেন, প্রগতির কথা ধারণ করেন তারা কিন্তু টুকরো টুকরো করে ঠিকই চেষ্টা করে যাচ্ছেন। মনে অনেক সাহস ও আশার সঞ্চার করে তাদের উদাহরণ। প্রগতির দিকে দেশকে আরো অগ্রসর দেখতে চাই-শিক্ষা, সংস্কার, সামাজিক চর্চা, অথনৈতিক সকল ক্ষেত্রেই।এজন্য রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে যারা নিয়োজিত তাদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি হলেও তাদের অদক্ষতা-অদূরদর্শিতা-অজ্ঞতা আমাদের পিছিয়ে দেয়। ধর্মভিত্তিক মৌলবাদের বিষপোকা এখন সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে । কিন্তু এ চেতনা আমার দেশের চেতনা নয়। এ আরোপিত। এ আরোপিত বোধের চাপমুক্ত সেই দেশ চাই যে দেশ মুক্তিযুদ্ধ করেছিল। যে বৈশিষ্ট্য যে দেশাত্ববোধ এ দেশের সব নাগরিক একইভাবে ধারণ করবে একই পরিচয় হবে বাঙালির সারাবিশ্ব জুড়ে সেই দেশ চাই আমার।
আমি একজন উন্নয়নকর্মী। ফিচার লেখা বা লেখা-লেখির জগতে একটু আধটু বিচরণ অনেক আগে থেকেই। নিজেকে একজন ভ্রমনপিপাসু মনে করি। বাংলাদেশের বিভিন্ন কোনায় আমার যাওয়া আসা। আমার নিজের লেন্সটা দিয়ে দেখেছি অনেক কিছুই।
এত ত্যাগের বিনিময়ে যে দেশ স্বাধীনতা অর্জন করে, সে্ই স্বাধীনতার মান ধরে রাখাই সবচেয়ে বড় পাওয়া হওয়া উচিৎ। কিন্তু আমরা জানি আমরা সে সীমারেখা থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছি।একজন নাগরিক হিসেবে সবচেয়ে নির্ভেজাল একটি চাহিদা পূরণ হওয়া এখন এদেশে অনেক বড় স্বপ্ন। তাহলো নিরাপদে চলাফেরা করা। আমি একা একটি রাস্তা ধরে হেঁটে যাব আর কেউ পিছন থেকে গাড়ি চাপা দিবে না বা ছিনতাই করবে না বা একজন নারী শরীরধারী হিসেবে জেনেও কেউ আমাকে হেনস্থা করবে না এমন গ্যারান্টি মনে হয় দেশের সবচেয়ে উপরের পদের ব্যক্তিটিও দিতে পারবে না। কখনো কোন রাতে যদি ইচ্ছে করে একটু রাতের ঢাকা ঘুরে দেখি তাহলেই হয়েছে। সন্ত্রাসী বা খারাপ লোকদের কথা বাদ দেই, পুলিশই যা বেচালটা করবে তাতে নিজেকে সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানের অপরাধী মনে হতে পারে। সোজা কথা বাংলাদেশে কে বাংলাদেশ(!) ভাবতে বাধ্য করবে।
এখন এদেশের মানুষের চিন্তার জগতে অনেকে যানজট, যেমন এ দেশের রাস্তাঘাটে। অনেক ঘোরপ্যাঁচ, স্বার্থপরতা, আত্নমগ্নতা, শুধুই নিজের সুবিধা পাওয়ার চিন্তা। বিজ্ঞানমনষ্কতা থেকে আমরা অনেক দূরে চলে এসেছি। এখন আর বই পড়ার চর্চা নেই। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে শুরু করে সব পর্যায়ে আবার বিজ্ঞানভিত্তিক, যুক্তিভিত্তিক চিন্তার চর্চা চালু হোক এটা আমাদের সকলের চাওয়া হওয়া উচিৎ। সবাই যদি যৌক্তিকভাবে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা শুরু করে, এদেশের চেহার পাল্টে যাবে।
নতুন শিশুর জন্য এমন বাংলাদেশ চাই আমি যে দেশের সৌন্দর্য দেখে তারা সেই সুন্দরকে ধরে রাখার জন্য যা যা করা দরকার তার সব করবে। কাউকে সে সুন্দরতা নষ্ট করতে দিবে না। সে স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে দিবে না। এ মুহুর্তে যে প্রজন্ম শৈশব পেরিয়ে কৈশোরে পা দিয়েছে তারা এ দেশ সম্পর্কে কতটুকু জানে বা ভাবে তা আমরা দেখতে পাই। ওরা খুবই দ্বন্দ্ব এবং অস্পষ্টতার মধ্যে বড় হচ্ছে।নগর জীবনের শৈশব আর গ্রামীণ পরিবেশের বেড়ে ওঠার পার্থক্যের মাত্রাটা আজো খুব চড়া। যথেষ্ট পরিমাণে প্রযুক্তির প্রসার ঘটলেও গোড়ার গলদটা কিন্তু সারানো যায়নি। এটা খুব সাংঘাতিক ফলাফল বয়ে আনবে।
আজ থেকে ৩০-৪০ বছর পরে এ প্রত্যাশাগুলো পুরণ হবে এমনভাবে ভাবলে কিন্তু লাভ হবে না। পুরো বিশ্ব যে গতিতে প্রগতির উচ্চ শিখরের দিকে ধাবমান, আমাদের দেশকে তার সাথে তাল মেলাতে হলে এখনই তার লক্ষ্য ঠিক করে নিতে হবে।আমাদের দেখার ক্ষেত্র-জানার ক্ষেত্রটা অনেক বড় করতে হবে। সবাইকে একসাথে এগিয়ে আসতে হবে। প্রমা প্রিয়ন্তী, উন্নয়ন কর্মী । 

প্রাণের বাংলা প্রতিবেদক