ধারা বিবরণী

PINAKI

অঙ্কের খাতার মধ্যে লুকিয়ে তোকে এই চিঠি লিখছি। কাল ক্যালকুলাস
এই চিঠি পেয়ে রাগ করিস না প্লিজ। তুই বোধহয় আমাকে কোনদিন খেয়াল করিস নি
আসলে তোদের যখন রিহারসেল হয়, ভিড় দরজার পেছনে দাঁড়িয়ে আমি তোকে দেখি। শুধু তোকেই দেখি।
আমি আবার গান টান অত বুঝি না, কিন্তু তুই যখন গান গাস, আমার দারুন লাগে।
সেদিন তুই একটা নীল কুর্তি পরে  এসেছিলি, উফ্ ফাটাফাটি। হবি তো হ, আমিও সেদিন একটা নীল শার্ট পরে
গেছিলাম। যা আওয়াজ খেলাম না।
তোর মধ্যে একটা অহংকার আছে, তুই কেমন লম্বা গলা বেকিয়ে সব কিছু দেখিস। সবাই কে বকিস। সহ ব্যাপারে তুই
একটু বেশিই সিরিয়াস। কেন রে? আর কেমন কারুর দিকে না তাকিয়ে, চটি পায় দিয়েই। তকাই এর সাথে চলে যাস,
আমার ভালো লাগে না। একটু থাকতে পারিস তো?
জানিস আমি প্রতিদিন তোর জন্য রিহারসেল দেখতে যাই। ‘ জনি সকো’ তাও পুরো দেখি না।
চারটে  বাড়ী, দুটো রাস্তা, একটা ফুচকাওয়ালা আর তেপান্তর পেরিয়ে, তবে বাবু-দিয়ার বাড়ি। জাস্ট তোকে দেখতে।
আচ্ছা, আমি যদি অঙ্কে ফেল করিতুই আমায় ভালবাসায় পাশ করিয়ে দিবি তো?
অর্ধেক কুরুক্ষেত্র পার করে ফেললাম। আমি একটু বুড়ো হয়েছি, আর পৃথিবী একটা যুবক। শরশয্যা নেওয়া হয় নি।
আমার এই কুরুক্ষেত্রে আমিই ভীস্ম, আমিই অর্জুন, আবার আমিই সঞ্জয়।
গড়িয়াহাট আর নেই। শীতকাল শুধু ছবিতে। সবাই কথা বলে, কেউ আর শোনে না। ছ্যাবলামো আর ক্যাবলামো করে
অর্ধ শিক্ষা চাপা দিয়ে জীবন যাপন। চিঠি তো কেউ আর লিখে না, তাই অনাদরে একপাশে পরেছিল, আজ পাঠলাম।
তাতে অবশ্য কিছু আর যায় আসে না।চিঠিরও  বা, তোমারও না।
তোমাকে গান গাইতে দেখলাম ,সেদিন স্টেজে লম্বা হয়েছো বাকি হিল? কি ফুল লাগিয়েছিলে মাথায়? গাল এর
তলায় বার্থ মার্কটা আছে
অবান্তর কথা সবই? অবশ্য অবান্তর কথা ছাড়া আর কিইবা দেওয়ার আছে?রাস্তা জুড়ে ইতস্তত পড়ে থাকা পুরানো  কিছু
ছবির রোল আর বড় মিস্ত্রির দোকানের কোনায়, অবহেলায় ফেলে রাখা ছোটবেলার দামি গুজিয়া।
শুনলাম তুমি পড়াও? কোথায়? কি সাবজেক্ট?
আমি একটা চাকরি করি। কসবায় অফিস। ঘাম আর ছোট ফুটকিওয়ালা ডিওডোরেন্ট দাগওয়ালা শার্ট পড়ি। বস এর সব
কথায় হাসি, বাবা মা এর জন্য কাঁদি। রাতে স্বপ্ন আর দিনে ই. এম .আই  হিসেব করে, এক স্টপ আগে নেমে পরি।
একটা বাস। কয়েকটা সুপারি গাছ, দুটো অটো আর সাড়ে তেত্রিশ খানা শপ পেরিয়ে আসতে হল।
শুধু তোমাকে দেখতে। আমি অঙ্কে পাশ করেছিলাম।

পিনাকী সৌকালিন ঘোষ (কলকাতা থেকে)